শ্যাডো অফ দ্যা লেভেন্ট্যান
আপনিও কি আমার মতো রাতের পর রাত জেগে চিন্তা করেছেন—আচ্ছা, শার্লক হোমস যদি ফ্যান্টাসি জগতের সেটিংয়ে রহস্য সমাধান করত, তাহলে কেমন হতো?তাহলে I have good news for y...
আপনিও কি আমার মতো রাতের পর রাত জেগে চিন্তা করেছেন—আচ্ছা, শার্লক হোমস যদি ফ্যান্টাসি জগতের সেটিংয়ে রহস্য সমাধান করত, তাহলে কেমন হতো?তাহলে I have good news for y...
আলফ্রেড হিচককের সিনেমার কল্যাণে ‘Rebecca’ নামটির সঙ্গে অনেকে পরিচিত। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ড্যাফনে দু মরিয়ে-র ‘রেবেকা’ উপন্যাস অবলম্বনে।বিংশ শতাব্দীর প্রথম ...
এক গ্রামে কলিমুদ্দিন আর সলিমুদ্দিন নামে দুই বন্ধু বাস করত। তারা দুজনেই ছিল চরম অলস এবং বোকা, কিন্তু নিজেদের ভাবত গ্রামের সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ।
দেবব্রত তখন হস্তিনাপুরের যুবরাজ। শাস্ত্র, অস্ত্র, নীতি, বীরত্ব সব দিক থেকেই তিনি ছিলেন অনন্য। সমগ্র আর্যাবর্ত জানত, একদিন তিনিই কুরুবংশের পরবর্তী সম্রাট হবেন। মহারাজ শান্তনুও নিশ্চিন্ত ছিলেন। কুরুবংশের ভবিষ্যৎ নিরাপদ। কিন্তু ভাগ্য তখন নিঃশব্দে আরেকটি অধ্যায় লিখছিল। একদিন মহারাজ শান্তনু যমুনার তীর ধরে ভ্রমণ করছিলেন। হঠাৎ তিনি এক অপূর্ব সুগন্ধ অনুভব করলেন। সেই সুগন্ধ যেন বাতাস ভেদ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
গাছ কেটে কাঠ বানানোর কোম্পানি এক হাজার বছরের পুরনো একটা গাছকে মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত করেছিল। তিনি ১৯৯৭ সালে সেই গাছে উঠে ৭৩৮ দিন অবস্থান করেন—ঝড়, হেলিকপ্টার আর একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করে বেঁচে থাকেন। তিনি না নামার কারণে আজও সেই গাছ বেঁচে আছে।
মিলনের আগে মন ব্যাকুল - "কখন হবে" মিলনের সময় মন ভীত - "কখন শেষ হয়ে যাবে" *ফলে সে কখনোই বর্তমানে থাকে না।* মন অতীতে, ভবিষ্যতে ছুটে।
---*"নারী: আল্লাহর জ্বলন্ত কুদরতের কারখানা"* "যদি করো ভক্তি, তবেই পাবে মুক্তি। আর ভক্তির প্রথম ধাপ হইলো নারীকে চেনা।" *"লাক্বদ খালাক্বনাল ইনসানা ফি আহসানি তাক্বউইম"* *"আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি উত্তম রূপে"* [৯৫:৪] এই *"উত্তম রূপটা"* বানায় কে জানেন দরদী? *নারী।*
এই লেখাটা সবাই পড়ার জন্য না। যার কলব জেগেছে শুধু সে-ই বুঝবে। --- *রূহের সঙ্গী মানে কি?* যখন একজন নারী তার *আসল সঙ্গীকে* খুঁজে পায়, তখন সে বোঝে এটা দেহের চুক্তি না।
ইয়েমেনের 'ইরাশ' গোত্রের এক ব্যক্তি কিছু উট নিয়ে বিক্রি করার জন্য মক্কায় এল। আবু জাহেল তার কাছ থেকে উটগুলো কিনল। কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় সে টালবাহানা শুরু করল এবং গরিব লোকটির টাকা আটকে রাখল। লোকটি ছিল বিদেশি মুসাফির। সে মক্কার কুরাইশদের এক মজলিসে গিয়ে ফরিয়াদ করল:
একটা ঘর আছে। দরজা নয়টা। জানালা নাই। সেই ঘরের ভিতর একটা বাতি জ্বলে। কিন্তু তুমি বাইরে দাঁড়ায়ে বলো - *"আল্লাহ কই?"* *ওই ঘরের নাম "দেহ"।*
❝ফিরিবার পথ নাহি;দূর হতে যদি দেখ চাহিপারিবে না চিনিতে আমায়।হে বন্ধু বিদায়।❞রবীন্দ্রনাথের শেষ দিককার একটি উল্লেখযোগ্য রচনা শেষের কবিতা। আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের...
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সপ্তপদী’ উপন্যাসটি শুরু হয় রেভারেন্ড কৃষ্ণস্বামীকে দিয়ে, স্থানীয় লোকজন যাকে ‘বাবাসাহেব’ সম্বোধন করে। তিনি স্থানীয় লোকের রোগের চিকিৎস...
‘তুমি অধম– তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?’ বা ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’ বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী উদ্ধৃতিদ্বয়ের সূত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘কপাল...
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ নগরী। এটি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠার নির্দিষ্ট সাল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রাচীন বিভিন্ন গ্রন্থ ও শিলালিপিতে এ অঞ্চলের উল্লেখ পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি নিয়েও বিভিন্ন মত রয়েছে। আরবি ও পর্তুগিজ নাবিকদের বিবরণে চট্টগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে পরিচিত ছিল। মধ্যযুগে এটি বিভিন্ন সময়ে আরাকান, ত্রিপুরা ও বাংলার বিভিন্ন শাসক
❝ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ❞বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই উক্তিটির সন্ধান পাওয়া যায় সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পালামৌ উপন্যাসে। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ...
আরবের প্রথা অনুযায়ী শিশু মুহাম্মাদ ﷺ-কে মক্কার তপ্ত আবহাওয়া থেকে দূরে, মরুভূমির মুক্ত বাতাসে বড় করার জন্য বনু সাদ গোত্রের ধাত্রী মা হালিমা (রা.)-এর কাছে পাঠানো হয়েছিল। মুহাম্মাদ ﷺ-এর আগমনের পর থেকেই মা হালিমার অভাবী সংসারে রহমত আর বরকতের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। শুকিয়ে যাওয়া ছাগলগুলো ওলন্দাজ ভরা দুধ দিতে শুরু করেছিল, আর মরুভূমির রুক্ষ প্রান্তর যেন সবুজে ভরে উঠেছিল। মা হালিমা তাঁর নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন এই আসমানী শিশুকে।
রাত ১০টা ৪৩ মিনিট। পুরোনো রেলওয়ে গুদামটি শহরের একেবারে প্রান্তে। চারপাশে কুয়াশা। দূরে রেললাইনের ওপর মাঝে মাঝে ট্রেনের আলো দেখা যাচ্ছে। তারপর হুইসেল বাজিয়ে অন্ধকার কেটে চলে যাচ্ছে ট্রেন।
এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রবের কাছে ফরিয়াদ করতেন, যেন জীবনে অন্তত একবার হযরত খিজির (আ.)-এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়।
কখনো কি চিন্তা করেছেন, আল্লাহ তাআলা কেন একথা বললেন না যে "প্রতিটি প্রাণীই মারা যাবে"? বরং তিনি বলেছেন, ”প্রতিটি প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে”। মৃত্যু কি কোনো খাবার বা পানীয় যে, আমাদের তার স্বাদ নিতে হবে?
বিয়ের পর দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেল। কিন্তু সেই নেককার দম্পতির ঘরে কোনো সন্তান হলো না। দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাদের একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান দিলেন।
এক রাজা নিজেকে খুব জ্ঞানী মনে করতেন। তাঁর প্রাসাদে ছিলেন একজন বিচক্ষণ ও আল্লাহভীরু উজির। একদিন প্রাসাদে বসে ফল কাটার সময় অসাবধানতাবশত রাজার একটি আঙুল কেটে গেল।
বনী ইসরাইলের এক বুযুর্গকে পথভ্রষ্ট করার জন্য শয়তান মরিয়া হয়ে উঠল। প্রথমে তাঁর মনে কামভাব আর রাগের প্ররোচনা দিল, কিন্তু কাজ হলো না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে পরিবারের মালিকানায় থাকা কৃষিজমির একটি অংশ কিনতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সেখানে তৈরি করা বিশাল AI ডেটা সেন্টার।
এক লোক নদীর তীরে বাস করত। তার তিনটি নৌকা ছিল। প্রথম নৌকাটি ছিল অনেক দামি কাঠের তৈরি, নানা রঙে সাজানো। লোকটি সারাদিন এই নৌকাটি ঘষেমেজে চকচকে রাখত।
আমাদের মফস্বল শহরের পট্লু মিয়া ছিল অলসতার এক জীবন্ত মূর্তি। তার জীবনের মূল দর্শন ছিল—"আজকের কাজ কাল করো, আর কালকের কাজ কোনোদিন করো না।" কোনো পরিশ্রম ছাড়াই কীভাবে রাতারাতি বড়লোক হওয়া যায়, পট্লু সারাদিন শুয়ে শুয়ে শুধু সেই ফন্দি আঁটত।
টাকার বিনিময়ে একজন মানুষ তার বিবেক আর নৈতিকতা কতটুকু বিক্রি করতে পারে?২০০৬ সালের থাই মাস্টারপিস '13 Beloved' কোনো সাধারণ সারভাইভাল থ্রিলার নয়। কোনো অতিপ্রাকৃত...
মফস্বল শহরের মজনু মিয়া নিজেকে এলাকার সবচেয়ে বড় চালাক ভাবত। তার মূল ব্যবসাই ছিল কথায় কথায় মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করা, অর্থাৎ সোজা বাংলায় "ঘোল খাওয়ানো। কিন্তু প্রবাদ আছে না—"সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি"? মজনু মিয়ার কপালেও তেমনই এক দিন ঘনিয়ে এল।
এটাই দুনিয়ার পরীক্ষা। দুনিয়ার পরীক্ষা আসলে এমনই। পরীক্ষা সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু হয় না। কখনো পরীক্ষা আসে একটি রুটি হয়ে। কখনো সামান্য কিছু টাকা হয়ে। কখনো একটি সুযোগ হয়ে। কখনো রূপ হয়ে। নামধাম হয়ে। সেলিব্রেটি হয়ে।
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের ওপর দরুদ প্রেরণ করুন এবং তাঁদের সম্মানিত ফারাজকে ত্বরান্বিত করুন। নূরানি মেরাজ ও বেলায়াতের আলোকে আরও গভীর এক ইরফানি-অনুমানভিত্তিক গবেষণা। 🌌 আরও গভীর ভূমিকা: সিদরা কোনো স্থান নয়; বরং এটি দুই পর্যায়ের মধ্যকার “বিভাজন-বিন্দু” আহলে বাইত (আ.)-এর ভাষায় “আল-মুনতাহা” (المنتهى) মানে সমাপ্তি নয়; বরং এটি হলো “রূপান্তরের বরযখ” বা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সীমা। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করেছিল — আর সেই আঘাতের ফলেই পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছিল ডাইনোসর। এটি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গল্পগুলোর একটি।
মিসরে যখন অত্যাচারের রাত দীর্ঘ হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন রাতের অন্ধকারে বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান।
সামিউল করিমের ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভিডিওটি তখনও চলছে। ভিডিওতে সামিউল জীবিত। সে একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে। সামনে ক্যামেরা। মুখে ক্লান্তি, চোখে ভয়। পেছনে কোনো জানালা নেই। দেয়ালটাও অচেনা। সামিউল ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে—
অনিন্দ্য তখন কলেজের থার্ড ইয়ারে পড়ে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, এক প্রত্যন্ত গ্রামে বন্ধুর বোনের বিয়েতে গিয়েছিল সে। বিয়েবাড়ি থেকে যখন সে ফিরতি পথ ধরল, তখন ঘড়িতে রা...
মফস্বল শহরের হাবলু মিয়ার জীবনটাই কেটেছে বিভিন্ন চিপা-চাপায় পড়ে। তবে এবারের চিপাটা ছিল একেবারেই আন্তর্জাতিক মানের।
আফ্রিকার আকাশে তখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। দিগন্তের নিচ থেকে সূর্য এখনও ওঠেনি, কিন্তু অন্ধকার আর রাতের মধ্যে সেই সূক্ষ্ম পরিবর্তনটা বোঝা যাচ্ছিল। পূর্ব আকাশে কালচে নীলের ওপর একটা ফিকে রুপালি রেখা দেখা দিয়েছে। চারদিকে অসীম তৃণভূমি। এখানে-সেখানে ছড়িয়ে আছে অ্যাকাশিয়া গাছ। দূরে কোনো পাহাড় নেই, কোনো বাড়ি নেই, কোনো রাস্তা নেই—শুধু ঘাস, গাছ আর আকাশ।
মফস্বল শহরের হাবলু মিয়ার জীবনটাই কেটেছে বিভিন্ন চিপা-চাপায় পড়ে। তবে এবারের চিপাটা ছিল একেবারেই আন্তর্জাতিক মানের।
এক গ্রামে চার বন্ধু বাস করত। তাদের মধ্যে তিনজন ছিল প্রচণ্ড শিক্ষিত ও শাস্ত্রজ্ঞানী, কিন্তু তাদের কোনো ব্যবহারিক বুদ্ধি ছিল না। আর চতুর্থ বন্ধুটি খুব বেশি পড়াশোনা না করলেও ছিল প্রচণ্ডবুদ্ধিমান এবং চতুর।
মধ্য আফ্রিকার ঘন জঙ্গলে বসবাসকারী পিগমিরা বিশ্বের অন্যতম খর্বকায় জনগোষ্ঠী। শিকার, বুনো মধু সংগ্রহ ও খাবার ভাগাভাগির অনন্য ঐতিহ্যে আজও তারা ধরে রেখেছে প্রাচীন জীবনধারা।
রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট। ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি—একটানা, বিরক্তিকর, অথচ অদ্ভুতভাবে শান্ত। রাস্তার বাতিগুলো বৃষ্টির পর্দার ওপারে ঝাপসা হয়ে আছে। মাঝেমধ্যে কোনো গাড়ি চলে গেলে ভেজা রাস্তায় হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। ধানমন্ডির একটি পুরোনো কিন্তু বিলাসবহুল বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি থামল।
সমাজে সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কিছু মৌলিক ও জন্মগত অধিকার রয়েছে। সমাজে বেঁচে থাকার প্রধান অধিকারগুলো়া হলো:বেঁচে থাকার ও নিরাপত্তার অধিকারজী...
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘একা এবং কয়েকজন’ একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এতে মানুষের একাকিত্ব, প্রেম, বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। লেখকের সহজ-সাবলীল ভাষা ও বাস্তবধর্মী চরিত্রায়ণ পাঠককে কাহিনির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে। মানুষের মনস্তত্ত্ব ও জীবনের নানা দ্বন্দ্বই উপন্যাসটির প্রধান আকর্ষণ।
দুঃসাহসী, লড়াকু আর খানিকটা বদমেজাজি স্বভাবের জলাভূমির পাখি কালিম। ফকিরহাট-বাগেরহাট তথা বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে এই পাখি ‘বুরি’ নামে পরিচিত। ইংরেজি নাম Purple Swamphen, বৈজ্ঞানিক নাম Porphyrio porphyrio। প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৬৫০ গ্রাম ওজনের এই নাদুসনুদুস পাখিটির শরীর চকচকে নীলচে-বেগুনি। কপাল ও মাথাজুড়ে আলতা-লাল রঙের শক্ত বর্মের মতো ঢাল, লালচে পা ও লম্বা আঙুল এবং লেজের নিচে কার্পাস তুলোর মতো সাদা পালক—সব মিলিয়ে কালিমের চেহারা সত্যিই অনন্য।
কাইরান কাজী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন অসাধারণ মেধাবী মার্কিন তরুণ প্রযুক্তিবিদ। অল্প বয়সেই তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি SpaceX-এর Starlink-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হন। পরে তিনি Citadel Securities-এ Quant Developer হিসেবে যোগ দেন। তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্য তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী এক অনন্য বীরের নাম। তিনি ছিলেন মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সামরিক নেতা। তাঁর সাহস, দেশপ্রেম, বিচক্ষণতা ও অসাধারণ নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত ও সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে, তখন ওসমানী দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেন। তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীকে বিভিন্ন সেক্টরে সংগঠিত করা হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, যুদ্ধকৌশল ও অভিযান পরিচালনায় সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সীমিত অ
সুনামগঞ্জ ভ্রমণে হাসন রাজার জাদুঘর হতে পারে একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। মরমি কবি ও গীতিকার হাসন রাজার জীবন, দর্শন ও সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হতে এখানে আসা যায়। জাদুঘরে তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, পোশাক, বই, পাণ্ডুলিপি ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিটি নিদর্শন যেন তাঁর বর্ণিল জীবনের নীরব গল্প বলে। জাদুঘর ঘুরে বাইরে বের হলে সুনামগঞ্জের হাওর, নদী ও গ্রামীণ পরিবেশ হাসন রাজার গানকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে তাঁর মরমি গান শুনতে শুনতে এই ভ্রমণ হয়ে ওঠে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মঅনুসন্ধানের এক সুন্দর যাত্রা।
একজন রাজা, যার ছিল অনেক কিছু দেওয়ান হাসন রাজা জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে, এক প্রভাবশালী জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী। অল্প বয়সেই উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি বিশাল সম্পত্তি ও জমিদারির দায়িত্ব পান। তখনকার হাসন রাজা আর আজকের মরমি হাসন রাজা—দুজন যেন একই মানুষের দুই ভিন্ন অধ্যায়।
১২ রবিউল আউয়াল মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত আবেগ ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। প্রচলিত ইসলামী ঐতিহ্যে এই দিনটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে এই দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি পালিত হয়েছে ২৬ আগস্ট। তবে মহানবী ﷺ-এর জন্ম ও ওফাতের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ইসলামী ইতিহাস ও সীরাতের গ্রন্থগুলোতে মতভেদ রয়েছে। ১২ রবিউল আউয়াল তাঁর ওফাতের তারিখ হিসেবে বহু আলেমের কাছে প্রসিদ্ধ হলেও জন্মতারিখের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার সময় ঐতিহাসি
১৯৫০-এর দশকে ঢাকা দ্রুত সম্প্রসারিত হতে থাকে। পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মধ্যবর্তী এলাকায় জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ছিল। এই পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লির জন্য একটি বড় মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
ঢাকার ব্যস্ত শহরের এক ছোট্ট ক্যাফেতে প্রায়ই বসত পাঁচ বন্ধু আরিফ, সিয়াম, তানভীর, রাহাত ও মেহেদ। আড্ডা, চা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন—এই ছিল তাদের নিয়মিত রুটিন। একদিন রাহাত মোবাইলের স্ক্রিনে কয়েকটি সবুজ-লাল ক্যান্ডেল দেখিয়ে বলল, —“জানো, এগুলো দিয়ে মানুষ নাকি টাকা কামায়?” তানভীর হেসে বলল, —“তাহলে আমরাও কামাব!”
ভাদ্র মাস এলেই আমাদের গ্রামের চেহারা বদলে যেত। চারদিকে কাঁচা-পাকা তালের গন্ধ, পুকুরের ধারে ব্যাঙের ডাক, আর সন্ধ্যা নামলেই ঝিঁঝিঁ পোকার কনসার্ট। তবে এসবের চেয়েও বড় আতঙ্ক ছিল গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সেই বিশাল তালগাছটা। লোকমুখে শোনা যায়, গাছটার মাথায় নাকি একটা ভূত থাকে।
শীতের রাত। চারপাশে ঘন কুয়াশা এমনভাবে নেমেছে যে, পাঁচ-দশ হাত দূরের জিনিসও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। গ্রামের মেঠোপথটা দিনের বেলায় যতটা পরিচিত, রাতে সেটাই যেন অচেনা হয়ে যায়।
পুরান ঢাকার পাড়াগুলো এমনিতেই একটু অন্যরকম। সরু গলি, মাথার ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার, পুরোনো দালানের বারান্দা, গলির মুখে চায়ের দোকান—আর বিকেল হলেই একসঙ্গে দশ রকম শব্দ।
শুক্রবার সন্ধ্যা হলেই আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়। কারণ সেদিন কারও বাড়ির ছাদে, কারও ড্রয়িংরুমে বসে জমে ওঠে আমাদের বহু পুরোনো তাসের আড্ডা।
দুপুরের রোদে পশ্চিমের ছোট্ট শহরটা যেন আগুনে পুড়ছিল। চারদিকে ধুলো, কাঠের তৈরি দোকান আর রাস্তার দুই পাশে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়ার গাড়ি। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল ঘোড়ার খুরের শব্দ। ওমর শরীফ ধীরে ধীরে শহরে ঢুকলেন। মাথায় টুপি, গায়ে ধুলো-মাখা কোট, কোমরে পিস্তল। তাঁর চোখে ছিল এমন এক শান্ত দৃষ্টি, যেন ঝড় আসার আগের নিস্তব্ধতা।
মঞ্চে ফিরছে রোমাঞ্চ: থ্রিলার ও অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে অবলোকনের ‘গন্ধসূত্র’
শহরের নামকরা স্থপতি অর্ক। দশ বছর পর সে আজ নিজের গ্রামে ফিরছে। এসি গাড়ির কাচ ভেদ করে বাইরে তাকাতেই অর্কর চোখ আটকে গেল। পিচঢালা রাস্তার দুপাশে এখন বড় বড় দালান। তা...
শেষ পর্ব“না, ছোট সোয়ালো!” বেচারা রাজপুত্র বলল। “তোমাকে মিসরে যেতেই হবে!”“না। আমি সারাজীবন তোমার সাথেই থাকব,” সোয়ালো বলল। আর সে রাজপুত্রের পায়ের কাছে গিয়ে ঘু...
পর্ব-৩তাই সোয়ালো রাজপুত্রের একটা চোখ খুলে নিয়ে যুবকের চিলেকোঠার ঘরে উড়ে গেল। ভেতরে ঢোকা খুব সহজ ছিল—কারণ ছাদেই একটা ফুটো ছিলযুবকটি দুই হাতে মাথা গুঁজে বসে ছি...
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। মায়া মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছে। সেদিন সে বাবার পুরোনো সেই চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে একটা কাগজ রাখল। কাগজে লেখা— “আব্বু, আমি পেরেছি।” তার পাশে ছিল একটা চকোলেট। সালমা দূর থেকে মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন। মায়া চেয়ারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, —“আব্বু, আজকে আমি তোমার জন্য চকোলেট আনছি।” তারপর সে চকোলেটটা চেয়ারের ওপর রেখে দিল। বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিনের চালে টুপটাপ শব্দ। সেই একই শব্দ—
(পর্ব-২)ছোট সোয়ালো, আমার তলোয়ারে একটা চুনি বসানো আছে। দয়া করে ওটা খুলে এনে ওই মা-কে দিয়ে এসো। আমি তো মূর্তি, আমি নিজে তো যেতে পারছি না। “আমায় ক্ষমা কোরো, আ...
কবিগুরু রবিঠাকুর বলেছিলেন , " ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই। ফার্মগেট আছে, ধানমণ্ডি আছে -- পাশে একটা কৃষিকলেজ করে দাও। "''রবীন্দ্রনাথের এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে নব...
আব্বু, আজকে ফেরার সময় আমার জন্য একটা চকোলেট আনবা?” জালাল সাহেব হেসে বলতেন, “চকোলেট একটা না এনে, যদি দুইটা আনি?” মায়া চোখ বড় বড় করে বলত, —“তাহলে তুমি পৃথিবীর সেরা আব্বু!”
শহরের অনেক উঁচুতে দাঁড়িয়ে আছে হ্যাপি প্রিন্সের মূর্তি। সে সূক্ষ্ম সোনার পাত দিয়ে ঢাকা। তার চোখ দুটো দুটি নীলকান্তমণি (স্যাফায়ার)। আর তার তলোয়ারের মাথায় বস...
ঘরের ভেতরে একটা পুরোনো খাট। একটা কাঠের আলমারি। দেওয়ালে ধুলো পড়া একটা আয়না। আর জানালার পাশে একটা ছোট টেবিল। টেবিলের ওপর একটা শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালা। আদিবা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ সে বলল, —“ওখানে।”
সালমানের বাবা মা সম্পার বাবা মার সাথে কথাও বলে রেখেছে সম্পাকে তারা ঘরের বৌ হিসাবে চেয়ে নিয়েছে।তাদের বিয়েটা কিছু দিন পর করাবে কারন সালমানের চাকুরী হয়েছে মাত্র ১ ...
সালমান আর সম্পার প্রতিদিনের আভ্যাস ছিলো।সালমান অফিস থেকে বের হয়ে সম্পাকে নিয়ে,তার বাসায় পৌছে দিয়ে তারপর সে বাসায় যেত।কারন সম্পার বাসা সালমানের বাসার পরের গলিতে।...
নুসরাতের বুক কেঁপে উঠল।—“কে?” আরিফ বলল, —“লায়লা।” ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটা শব্দখস... যেন কেউ দরজার ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে কাপড় ঘষছে। তারপর খুব আস্তে একটা মেয়েলি গলা—“আরিফ...” নুসরাতের হাত বরফ হয়ে গেল। আরিফ চাবি ঘোরাতে যাচ্ছিল। নুসরাত সর্বশক্তি দিয়ে তার হাত টেনে ধরল। —“না!” হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে জোরে ধাক্কা এল। ধাম! দুজনেই পিছিয়ে গেল। আবার— ধাম!
নুসরাত তখনও ব্যাপারটা গুরুত্ব দেয়নি। শিশুর কল্পনা। এটাই ভেবেছিল। সেদিন রাত সাড়ে বারোটার দিকে প্রথম শব্দটা হলো। ঠক। নুসরাত ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ল। আরিফ তখনও ঘুমাচ্ছে। আবার শব্দ হলো। ঠক... ঠক...
সালমান হাসান একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরী করে।মাসে বেতন মুটামুটি ভালোই পায়।
ধল সুনামগঞ্জের দিরাই থানার অন্তর্গত একটি শান্ত ও সুন্দর গ্রাম, যা সুবিশাল হাওর দ্বারা পরিবেষ্টিত। বর্ষাকালে হাওরগুলো পানিতে ভরে গেলে গ্রামটি যেন বিশাল জলরাশির মাঝে একটি ছোট সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়। তখন নৌকা হয়ে ওঠে প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম, আর চারপাশের জলরাশি গ্রামে এক শান্ত ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে।