প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসতাসের আড্ডা

গল্প ও উপন্যাস

তাসের আড্ডা

তাসের আড্ডা

তাসের আড্ডা

শুক্রবার সন্ধ্যা হলেই আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়। কারণ সেদিন কারও বাড়ির ছাদে, কারও ড্রয়িংরুমে বসে জমে ওঠে আমাদের বহু পুরোনো তাসের আড্ডা।

বিজ্ঞাপন

সেদিনও সবাই একে একে হাজির—রনি, কল্লোল, মানিক, সাগর আর আমি। টেবিলের ওপর তাসের প্যাকেট, পাশে চা-বিস্কুট আর শুরু হলো হাজারি। প্রথম হাতেই রনি এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল, “আজকে কিন্তু তোদের কাউকেই ছাড়ব না!”

কথা শেষ হতে না হতেই রনির হাতে এমন কার্ড এল যে সবাই হেসে কুটিকুটি। কল্লোল বলল, “ভাই, তোর এই হাত দেখে মনে হচ্ছে তুই আজ খেলবি না, শুধু চা খাবি!” রনি রেগে যাওয়ার ভান করে বলল, “চুপ কর! শেষ হাসি কিন্তু আমারই হবে।”

এরপর শুরু হলো আসল মজা। কেউ কারও চাল দেখে সন্দেহ করছে, কেউ ইশারায় সঙ্গীকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, আবার কেউ হারতে হারতে এমন অজুহাত দিচ্ছে যে হাসতে হাসতে আমাদের পেট ব্যথা। মাঝে মাঝে তাসের হিসাবের চেয়ে কে কাকে কতটা খোঁচা দিতে পারল—সেটাই যেন বড় প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়ায়।

রাত কখন যে গভীর হয়ে গেল, কেউ খেয়ালই করিনি। শেষ খেলায় যে জিতল, সে অবশ্য নিজেকে রাতের “তাস সম্রাট” ঘোষণা করল; আর যে হারল, সে ঘোষণা দিল—“আগামী শুক্রবার আবার বসবি, তখন কিন্তু আসল খেলা দেখাব!”

সবাই হেসে উঠলাম। আসলে এই আড্ডায় তাস জেতা-হারাটাই আসল নয়। আসল জয় হলো বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে হাসা, পুরোনো স্মৃতি মনে করা আর ব্যস্ত জীবনের মাঝখানে কয়েকটা মুহূর্ত মন খুলে আনন্দ করা।

তাই আমাদের কাছে তাসের আড্ডা মানেই শুধু খেলা নয়—এটা বন্ধুত্বের একটা ছোট্ট উৎসব।

০ মন্তব্য · ১০৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!