এক বিশাল আফ্রিকার ঘন বনে একদল হায়েনা বাস করত। তারা ছিল অত্যন্ত ধূর্ত, লোভী আর হিংস্র। নিজে খেটে শিকার করার চেয়ে অন্য পশুর শিকার করা খাবার ছিনতাই করা কিংবা বনের দুর্বল প্রাণীদের ওপর দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়াই ছিল তাদের মূল কাজ। বনের অন্য পশুরা তাদের এই অত্যাচার আর অদ্ভুত কর্কশ হাসির শব্দে সবসময় তটস্থ থাকত।
এই হায়েনার দলের সর্দার ছিল এক বুড়ো ও অতি চালাক হায়েনা, যার নাম ছিল ‘রক্তমুখো’। সে বনের সহজ-সরল প্রাণীদের বোকা বানাতে ওস্তাদ ছিল।
একবার বনে ভীষণ খরা দেখা দিল। নদী-নালা শুকিয়ে গেল, খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিল। বনের হরিণ, খরগোশ আর পাখি—সবাই দুর্বল হয়ে পড়ল। ক্ষুধার্ত হায়েনারা দেখল, এভাবে চললে তারা না খেয়ে মারা যাবে। রক্তমুখো তখন দলের সবাইকে নিয়ে এক কুটিল বুদ্ধি আঁটল।
সে বনের সবচেয়ে নিরীহ প্রাণী হরিণদের কাছে গিয়ে বলল, "তোমরা কেন আমাদের দেখে ভয় পাও? এই বনে আসল শত্রু তো সিংহ আর চিতা! তারা তোমাদের একা পেলেই শিকার করে। আমরা ঠিক করেছি, এখন থেকে আমরা তোমাদের পাহারা দেব। তবে শর্ত হলো, প্রতিদিন তোমরা আমাদের দলের জন্য বনের ভেতরের মিষ্টি ফলের জোগান দেবে আর আমরা বনের সীমানায় রাত জেগে পাহারা দেব।"
হরিণরা সরল বিশ্বাসে হায়েনাদের এই ফাঁদে পা দিল। তারা প্রতিদিন কষ্ট করে জঙ্গল থেকে ফল আর লতাপাতা এনে হায়েনাদের আস্তানায় পৌঁছে দিতে লাগল। কিছুদিন বেশ ভালোই কাটল। কিন্তু হায়েনারা তো আর ফলমূল খেয়ে বাঁচার প্রাণী নয়! তাদের ভেতরের হিংস্রতা আর লোভ আর চাপা রইল না।
একদিন রাতের আঁধারে রক্তমুখোর ইশারায় পুরো হায়েনার দল হরিণদের ওপর আক্রমণ করে বসল। তারা দলবদ্ধভাবে নিরীহ হরিণদের শিকার করতে শুরু করল। হরিণরা বুঝতে পারল যে তারা এক চরম বিশ্বাসঘাতক দলের খপ্পরে পড়েছে।
উপায় না দেখে হরিণদের দল বনের রাজা সিংহের কাছে গিয়ে সব খুলে বলল। সিংহ রেগে গর্জে উঠল। সে বনের হাতি, মহিষ ও চিতা বাঘের মতো শক্তিশালী পশুদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গঠন করল।
পরদিন রাতে হায়েনারা যখন আবার হরিণদের আক্রমণ করতে গেল, ঠিক তখনই অন্ধকারের মধ্য থেকে গর্জে উঠল বনের রাজা সিংহ। চারদিক থেকে হাতি এবং মহিষের দল হায়েনাদের ঘিরে ফেলল। বনের শক্তিশালী পশুদের একতাবদ্ধ আক্রমণ দেখে ধূর্ত হায়েনাদের সব চালাকি ধূলিসাৎ হয়ে গেল। সিংহের এক থাবায় রক্তমুখো মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। দলের বাকি হায়েনারা প্রাণভয়ে যে যেদিকে পারল, লেজ গুটিয়ে বনের সীমানা পার হয়ে পালিয়ে গেল।
সেই থেকে বনের পশুরা শান্তিতে বসবাস করতে শুরু করল। আর অন্যদিকে, সব হায়েনার দল বুঝতে পারল যে—লোভ ও বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও, শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!