প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসনির্জন বনের ভুতের গল্প 👻

গল্প ও উপন্যাস

নির্জন বনের ভুতের গল্প 👻

নির্জন বনের ভুতের গল্প 👻

একদিন চার বন্ধু—সুজন, মিলন, সায়েম আর শরফু—ঠিক করল, শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটি নির্জন বনে রাত কাটাবে। বনটি ছিল অনেক পুরোনো। স্থানীয়রা বলত, সেখানে রাত হলে গাছের আড়ালে সাদা পোশাক পরা এক নারীকে দেখা যায়।

বন্ধুরা এসব কথা শুনে হেসেছিল। বিকেলে তারা বনের ভেতর তাঁবু খাটিয়ে আগুন জ্বালাল। চারদিকে পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আর ঠান্ডা বাতাস। সন্ধ্যা নামতেই বনটা অদ্ভুত নীরব হয়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ শরফু বলল, “তোরা কি শুনছিস? কেউ যেন আমাদের নাম ধরে ডাকছে!”

সবাই চুপ করে কান পাতল।

দূর থেকে ভেসে এল, “সুজন... মিলন... সায়েম... শরফু...”

চারজনের মুখ শুকিয়ে গেল। মিলন মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে চারদিকে তাকাল। কিছুই দেখা গেল না।

তখনই গাছের আড়াল থেকে সাদা পোশাক পরা এক নারী ধীরে ধীরে বেরিয়ে এল। তার চুল মুখ ঢেকে রেখেছে। সে কোনো কথা বলল না, শুধু হাত তুলে বনের আরও গভীরে যাওয়ার ইশারা করল।

সায়েম কাঁপা গলায় বলল, “আমরা যাব না। আপনি কে?”

নারীটি মাথা তুলল। তার মুখে কোনো চোখ-মুখ নেই—শুধু কালো এক শূন্যতা।

শরফু চিৎকার করে উঠল, “দৌড়!”

চার বন্ধু প্রাণপণে দৌড়াতে লাগল। পেছন থেকে ভেসে আসছিল সেই নারীর হাসি। কিছুদূর গিয়ে তারা একটি পুরোনো কাঠের সেতুর কাছে পৌঁছাল। সেতুর ওপারে ছিল বনের রাস্তা।

সুজন প্রথমে সেতু পার হলো। তারপর মিলন। সায়েম পার হতে গিয়ে পেছনে তাকাল—সাদা পোশাকের নারীটি তখন সেতুর একেবারে কাছে দাঁড়িয়ে।

সে ফিসফিস করে বলল, “আমাকে একা রেখে যেও না...”

সায়েম চোখ বন্ধ করে দৌড়ে সেতু পার হলো। শরফুও তার পেছনে ছুটল।

বনের বাইরে এসে চারজন হাঁপাতে হাঁপাতে মাটিতে বসে পড়ল। ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। তারা ভাবল, অবশেষে বেঁচে ফিরেছে।

কিন্তু সুজনের হাতে তখনও সেই নারীর দেওয়া একটি শুকনো ফুল।

ফুলটির গায়ে রক্তের মতো লাল অক্ষরে লেখা ছিল—

“আগামী রাতে আবার এসো...”

সেদিনের পর চার বন্ধু আর কখনো সেই বনে যায়নি। তবে গ্রামের মানুষ আজও বলে, গভীর রাতে বনের ভেতর চারজনের দৌড়ানোর শব্দ শোনা যায়।

আর তার কিছুক্ষণ পরেই শোনা যায় এক নারীর হাসি...

০ মন্তব্য · ৩৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!