(পর্ব-২)
ছোট সোয়ালো, আমার তলোয়ারে একটা চুনি বসানো আছে। দয়া করে ওটা খুলে এনে ওই মা-কে দিয়ে এসো। আমি তো মূর্তি, আমি নিজে তো যেতে পারছি না।
“আমায় ক্ষমা কোরো, আমি যেতে পারব না,” সোয়ালো বলল। “আমাকে মিসরে যেতে হবে। আমার বন্ধুরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা এখন নীল নদের জলে ভেসে ভেসে শাপলা ফুলের সাথে কথা বলছে। তারা বড় রাজার সমাধিতে ঘুমাতে যাবে। আমাকেও যেতে হবে!
“ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “দয়া করে কেবল একটি রাতের জন্য আমার দূত হয়ে কাজ করো। ছোট ছেলেটার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে, আর তার মা-ও ভীষণ কষ্টে আছে“কিন্তু আমি তো ছোট ছেলেদের একদম পছন্দ করি না,” সোয়ালো বলল। “ছোট ছেলেরা আমার দিকে ঢিল ছুড়ে মারে। অবশ্য ঢিলগুলো আমার গায়ে কখনো লাগে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও কাজটা তো খুবই অভদ্রতার!
কিন্তু হ্যাপি প্রিন্সকে এত দুঃখী দেখাচ্ছিল যে সোয়ালো পাখিটির নিজেকে অপরাধী মনে হতে লাগল।
“এখানে ভীষণ ঠান্ডা,” সে বলল, “তবে ঠিক আছে, আমি এক রাতের জন্য থাকব আর তোমাকে সাহায্য করব।”
“তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল।
তখন সোয়ালোটি রাজপুত্রের তলোয়ার থেকে চুনিটি খুলে নিল। সেটিকে ঠোঁটে চেপে ধরে সে শহরের চালগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে চলল
সে একটি বড় গির্জার ওপর দিয়ে উড়ে গেল, যেখানে সাদা মার্বেল পাথরের ফেরেশতার মূর্তি ছিলসে নদীর ওপর দিয়ে উড়ে গেল আর নৌকার মাস্তুলে ঝোলানো লণ্ঠনগুলো দেখলসে বাজারের ওপর দিয়ে উড়ে গেল আর বিক্রেতার চিৎকার শুনল, “কমলালেবু! আসুন, সুন্দর সুন্দর কমলালেবু নিয়ে যান
সে রাজপ্রাসাদের ওপর দিয়ে উড়ে গেল এবং সেখান থেকে গান আর নাচের শব্দ শুনতে পেল। একজন যুবতী এবং তার প্রেমিক প্রাসাদের বারান্দায় বেরিয়ে এল“তারাগুলো কত সুন্দর!” প্রেমিক বলল। “ঠিক তোমার মতোই…”
“আশা করি নাচের অনুষ্ঠানের আগেই আমার পোশাকটা সেলাই হয়ে যাবে,” মেয়েটি বলল। “আমার দর্জি মহিলাটা বড্ড ধীরগতির!
অবশেষে সোয়ালো পাখিটি সেই মহিলার বাড়িতে পৌঁছাল। সে জানালার ভেতর দিয়ে তাকাল। ছোট ছেলেটি জ্বরে বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছে। আর মা সেলাই টেবিলটিতেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়সোয়ালো ভেতরে লাফিয়ে ঢুকল। সে আলতো করে চুনিটি টেবিলের ওপর রেখে দিল। তারপর সে ছেলেটির বিছানার চারপাশে চক্কর দিয়ে ডানা নেড়ে তাকে বাতাস করতে লাগ“আহা! এখন আর অত গরম লাগছে না,” ছোট ছেলেটি বিড়বিড় করল। “মনে হচ্ছে আমি ভালো হয়ে যাচ্ছি
সোয়ালো আবার হ্যাপি প্রিন্সের কাছে ফিরে এলো। সে রাজপুত্রকে গিয়ে বলল সে কী কী করেছে।“ভারী অদ্ভুত ব্যাপার,” সোয়ালো বলল। “আবহাওয়া এত ঠান্ডা, তাও আমার বেশ গরম লাগছে।”
“কারণ তুমি একটা ভালো কাজ করেছ,” রাজপুত্র বলল।
ছোট সোয়ালো পাখিটি চিন্তা করতে লাগল, এবং ভাবতে ভাবতেই সে ঘুমিয়ে পড়ল। (ভাবতে গেলেই তার ঘুম পেয়ে যায
সকাল হতেই সোয়ালো নদীতে গিয়ে গোসল করল।“আজ রাতে আমি মিসর যাচ্ছি!” সে বলল।
সে খুব আনন্দিত। সারাদিন সে শহরের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখল। সে যেখানেই যায়, চড়ুই পাখিরা কিচিরমিচির করে একে অপরকে শুধায়, “এই সম্মানিত অতিথিটি কে? ও নিশ্চয়ই সোয়ালো পাখি হতে পারে না! এখানে? এই শীতের মধ্যেসোয়ালো সবার নজর কাড়তে খুব ভালোবাসে। সে দারুণ সময় কাটাল
চাঁদ ওঠার সাথে সাথে সোয়ালো আবার হ্যাপি প্রিন্সের কাছে উড়ে গেল।“মিসর থেকে তোমার জন্য কিছু আনব নাকি?” সে জিজ্ঞাসা করল। “আমি এখনই রওনা হচ্ছি।”
“ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “দয়া করে আর একটি রাত আমার সাথে থেকে যাও না।”
“মিসরে আমার বন্ধুরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে,” সোয়ালো উত্তর দিল। “আগামীকাল তারা নদীর আরও ওপরের দিকে যাবে। সেখানে লম্বা ঘাসের মধ্যে জলহস্তী থাকবে। দুপুরে নদীর চরে হলুদ রঙের সিংহগুলো জল খেতে আসবে। তাদের চোখগুলো এমারেল্ডের (পান্না) মতো সবুজ। আমাকে ওগুলো দেখতেই হবে!”
“ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “শহরের অন্য প্রান্তে, আমি একটি ছেলেকে দেখতে পাচ্ছি। সে একটা চিপা, কনকনে ঠান্ডা চিলেকোঠার ঘরে থাকে। সে এক গাদা কাগজে ভরা ডেস্কের সামনে বসে আছে। সে একটা নাটক লেখার চেষ্টা করছে, কিন্তু ঠান্ডায় তার হাত এত জমে গেছে যে সে কলম ধরতে পারছে না। কাঠ বা খাবার কেনার মতো কোনো টাকা তার কাছে নেই।”
“ঠিক আছে। আমি আর এক রাত তোমার সাথে থাকব,” সোয়ালো বলল। “তোমার কাছে কি আর কোনো লাল চুনি আছে?”
“হায়, আর তো নেই,” রাজপুত্র বলল। “তবে আমার চোখ দুটো আছে। এগুলো ভারত থেকে আনা নীলকান্তমণি। দয়া করে আমার একটা চোখ খুলে নিয়ে ওই যুবককে দিয়ে এসো। ওটা দিয়ে সে খাবার ও কাঠ কিনতে পারবে। তারপর সে তার নাটকটি লেখা শেষ করতে পার
“ওহ না! কখনোই না!” সোয়ালো বলল। “আমি তোমার চোখ খুলে নিতে পারব না!”
“ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “আমি যেভাবে বলছি, দয়া করে সেভাবেই করো।”
(বাকি পরবর্তি পর্ব-৩ এ)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!