❝ফিরিবার পথ নাহি;
দূর হতে যদি দেখ চাহি
পারিবে না চিনিতে আমায়।
হে বন্ধু বিদায়।❞
রবীন্দ্রনাথের শেষ দিককার একটি উল্লেখযোগ্য রচনা শেষের কবিতা। আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে এটা প্রথম দিকেই থাকবে।
অমিত ও লাবণ্যের প্রেম আর সাধারণ প্রেমের মতো নয়; তাদের প্রেমের মধ্যে যেন একটা রহস্যময় বৈচিত্র্যতা আছে। এজন্য এই উপন্যাসকে প্রেমের উপন্যাসের চাইতে দার্শনিক উপন্যাস বেশি মনে হয়। উপন্যাসের ক্ষুদ্র দুটি চরিত্র শোভনলাল ও কেতকী। ক্ষুদ্র হলেও গুরুত্ব অনেক। স্বল্প উপস্থিতিতে কাহিনীর মোড় ঘুরিয়েছে এই চরিত্রদ্বয়।
লাবণ্য ও অমিতের পরস্পরের কাছে লিখিত চিঠি দুটোই তাদের মনোবৃত্তির শেষ পরিণতির সুন্দর বিশ্লেষণ। অমিত লাবণ্যের ভিতর দিয়ে প্রেমের অসীমতার সন্ধান পেয়েছে। ফলে প্রাত্যহিক ভালোবাসার সংকীর্ণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আবার, লাবণ্য অমিতের প্রভাবে তার জীবনে প্রথম প্রেমের অপূর্ব আবির্ভাব ঘটিয়েছে। এই প্রেমের আলোতেই সে তার প্রকৃত প্রণয়ীকে চিনেছে।
যতিশংকরের সাথে কথোপকথনের এক জায়গায় অমিত বলে, “কেতকীর সঙ্গে আমার সম্বন্ধ ভালোবাসারই, কিন্তু সে যেন ঘড়ায় তোলা জল, প্রতিদিন তুলব, প্রতিদিন ব্যবহার করব। আর লাবণ্যের সঙ্গে আমার যে ভালোবাসা সে রইল দিঘি, সে ঘরে আনবার নয়, আমার মন তাতে সাঁতার দেবে।”
অনেকে মনে করেন, এই উপন্যাসের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বহুগামিতাকে সমর্থন করেছেন। প্রাত্যহিক ভালোবাসা আর চিরকালীন ভালোবাসার এই দ্বন্দ্ব আজীবন থাকবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!