জীবন থাইক্যা একটা ঘটনা দেই
২০২৩-এর শেষে মগবাজার মোড়ে দাঁড়াইয়্যা বিড়ি ফুঁকতেছিলাম। ওই টাইমলাইনে দুর্ঘটনা ঘটলে ঘটতেই থাকত। দুর্ঘটনাগুলো সমজাতীয়। আগুন লাগলে লাগতই, ডাকাতি হলে হতই। তখন র...
২০২৩-এর শেষে মগবাজার মোড়ে দাঁড়াইয়্যা বিড়ি ফুঁকতেছিলাম। ওই টাইমলাইনে দুর্ঘটনা ঘটলে ঘটতেই থাকত। দুর্ঘটনাগুলো সমজাতীয়। আগুন লাগলে লাগতই, ডাকাতি হলে হতই। তখন র...
‘তবে কি তারা উটের দিকে তাকায় না?’ ১৪০০ বছর আগে পবিত্র কুরআনে আল্লাহর দেওয়া এই চ্যালেঞ্জের রহস্য কী?
রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। আকাশের অবস্থা বিকেল থেকেই খারাপ ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসটা আরও ভারী হয়ে উঠেছিল। মাঝে মাঝে দূরে কোথাও মেঘ গর্জে উঠছিল, তারপর কয়েক সেকেন্ডের জন্য চারপাশ একেবারে নিস্তব্ধ। তারপর— ঝলক! আকাশের বুক চিরে বিদ্যুৎ চমকে উঠছিল। সেই আলোয় গ্রামের কাঁচা রাস্তা, বাঁশঝাড় আর দূরের গাছগুলোকে কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখা যাচ্ছিল। তারপর আবার অন্ধকার। বৃষ্টি খুব বেশি ছিল না। ঝিরিঝিরি করে পড়ছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের শব্দটা এমন ছিল যে, মনে হচ্ছিল কেউ যেন অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে কথা বলছে। মাহিন, টফি, হিমেল, আরাফাত, ফারুক আর মান্নান—ছয় বন্ধু।
আমাদের দেশের বাড়ির পিছনে একটা পুকুর ছিল, নাম শাঁখপুকুর। শাঁখের মতো বাঁকা বলে নয়। শাঁখা পরা একজন থাকতেন বলে।
আপনিও কি আমার মতো রাতের পর রাত জেগে চিন্তা করেছেন—আচ্ছা, শার্লক হোমস যদি ফ্যান্টাসি জগতের সেটিংয়ে রহস্য সমাধান করত, তাহলে কেমন হতো?তাহলে I have good news for y...
আলফ্রেড হিচককের সিনেমার কল্যাণে ‘Rebecca’ নামটির সঙ্গে অনেকে পরিচিত। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ড্যাফনে দু মরিয়ে-র ‘রেবেকা’ উপন্যাস অবলম্বনে।বিংশ শতাব্দীর প্রথম ...
❝ফিরিবার পথ নাহি;দূর হতে যদি দেখ চাহিপারিবে না চিনিতে আমায়।হে বন্ধু বিদায়।❞রবীন্দ্রনাথের শেষ দিককার একটি উল্লেখযোগ্য রচনা শেষের কবিতা। আমার মনে হয় রবীন্দ্রনাথের...
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সপ্তপদী’ উপন্যাসটি শুরু হয় রেভারেন্ড কৃষ্ণস্বামীকে দিয়ে, স্থানীয় লোকজন যাকে ‘বাবাসাহেব’ সম্বোধন করে। তিনি স্থানীয় লোকের রোগের চিকিৎস...
‘তুমি অধম– তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?’ বা ‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?’ বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী উদ্ধৃতিদ্বয়ের সূত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘কপাল...
❝ বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে। ❞বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী এই উক্তিটির সন্ধান পাওয়া যায় সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পালামৌ উপন্যাসে। সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ...
একজন রাজা, যার ছিল অনেক কিছু দেওয়ান হাসন রাজা জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামে, এক প্রভাবশালী জমিদার পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন দেওয়ান আলী রাজা চৌধুরী। অল্প বয়সেই উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি বিশাল সম্পত্তি ও জমিদারির দায়িত্ব পান। তখনকার হাসন রাজা আর আজকের মরমি হাসন রাজা—দুজন যেন একই মানুষের দুই ভিন্ন অধ্যায়।
চা ছাড়া একদিনও চলে না—এমন মানুষ পৃথিবীতে কম নেই। কারও সকাল শুরু হয় এক কাপ চায়ে, কারও দুপুরের ক্লান্তি কাটে চায়ে, আবার কারও কাছে সন্ধ্যার চা মানেই দিনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। তবে চা শুধু একটি পানীয় নয়; চা অনেকের কাছে একটা অনুভূতি, একটা অভ্যাস, কখনোবা এক টুকরো বন্ধুত্ব। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কত কথা যে বলা যায়, তার কোনো হিসাব নেই। রাজনীতি থেকে প্রেম, ফুটবল থেকে সিনেমা, অফিসের বস থেকে পাড়ার খবর—সবকিছুরই যেন একটা না একটা সম্পর্ক আছে চায়ের সঙ্গে। আর সত্যি বলতে কী, একা একা চা খাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু চায়ের আসল স্বাদ যেন পাওয়া যায় প্রিয় বন্ধু আর আপন মানুষদের সঙ্গে বসে।
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। মায়া মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছে। সেদিন সে বাবার পুরোনো সেই চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে একটা কাগজ রাখল। কাগজে লেখা— “আব্বু, আমি পেরেছি।” তার পাশে ছিল একটা চকোলেট। সালমা দূর থেকে মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন। মায়া চেয়ারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, —“আব্বু, আজকে আমি তোমার জন্য চকোলেট আনছি।” তারপর সে চকোলেটটা চেয়ারের ওপর রেখে দিল। বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিনের চালে টুপটাপ শব্দ। সেই একই শব্দ—
(পর্ব-২)ছোট সোয়ালো, আমার তলোয়ারে একটা চুনি বসানো আছে। দয়া করে ওটা খুলে এনে ওই মা-কে দিয়ে এসো। আমি তো মূর্তি, আমি নিজে তো যেতে পারছি না। “আমায় ক্ষমা কোরো, আ...
কবিগুরু রবিঠাকুর বলেছিলেন , " ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই। ফার্মগেট আছে, ধানমণ্ডি আছে -- পাশে একটা কৃষিকলেজ করে দাও। "''রবীন্দ্রনাথের এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে নব...
আব্বু, আজকে ফেরার সময় আমার জন্য একটা চকোলেট আনবা?” জালাল সাহেব হেসে বলতেন, “চকোলেট একটা না এনে, যদি দুইটা আনি?” মায়া চোখ বড় বড় করে বলত, —“তাহলে তুমি পৃথিবীর সেরা আব্বু!”
ঘরের ভেতরে একটা পুরোনো খাট। একটা কাঠের আলমারি। দেওয়ালে ধুলো পড়া একটা আয়না। আর জানালার পাশে একটা ছোট টেবিল। টেবিলের ওপর একটা শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালা। আদিবা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ সে বলল, —“ওখানে।”
নুসরাতের বুক কেঁপে উঠল।—“কে?” আরিফ বলল, —“লায়লা।” ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটা শব্দখস... যেন কেউ দরজার ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে কাপড় ঘষছে। তারপর খুব আস্তে একটা মেয়েলি গলা—“আরিফ...” নুসরাতের হাত বরফ হয়ে গেল। আরিফ চাবি ঘোরাতে যাচ্ছিল। নুসরাত সর্বশক্তি দিয়ে তার হাত টেনে ধরল। —“না!” হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে জোরে ধাক্কা এল। ধাম! দুজনেই পিছিয়ে গেল। আবার— ধাম!
নুসরাত তখনও ব্যাপারটা গুরুত্ব দেয়নি। শিশুর কল্পনা। এটাই ভেবেছিল। সেদিন রাত সাড়ে বারোটার দিকে প্রথম শব্দটা হলো। ঠক। নুসরাত ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ল। আরিফ তখনও ঘুমাচ্ছে। আবার শব্দ হলো। ঠক... ঠক...