প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসশেষ ফোনকল

গল্প ও উপন্যাস

শেষ ফোনকল

শেষ ফোনকল

শেষ ফোনকল

পর্ব ১ — মৃত মানুষের ফোন

রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট

ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন

সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি—একটানা, বিরক্তিকর, অথচ অদ্ভুতভাবে শান্ত। রাস্তার বাতিগুলো বৃষ্টির পর্দার ওপারে ঝাপসা হয়ে আছে। মাঝেমধ্যে কোনো গাড়ি চলে গেলে ভেজা রাস্তায় হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধানমন্ডির একটি পুরোনো কিন্তু বিলাসবহুল বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি থামল।

গাড়ি থেকে নামলেন গোআরিফ রহমান

ছত্রিশ বছর বয়সী আরিফ খুব বেশি কথা বলতেন না। তার সবচেয়ে বড় অভ্যাস ছিল—কেউ যা বলছে, তার চেয়ে সে কী বলছ, সেটা খেয়াল করা।

বাড়ির সামনে ইতিমধ্যে কয়েকজন পুলিশ দাঁড়িয়ে।

একজন অফিসার ছুটে এসে বলল,

— স্যার, লোকটা মারা গেছে প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে।

আরিফ ঘড়ির দিকে তাকালেন।

সামিউল করিম। বয়স আটচল্লিশ। ব্যবসায়ী।

— খুন?

অফিসার একটু থেমে বলল,

— আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হচ্ছে।

আরিফ হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির ভেতরে ঢুকলেন।

— আপাতদৃষ্টিতে কেন?

অফিসার উত্তর দিল না।

আরিফ বুঝলেন, ভেতরে কিছু একটা আছ১

দোতলার স্টাডি রুম।

দরজার সামনে দুজন কনস্টেবল।

দরজায় কোনো ভাঙচুরের চিহ্ন নেই।

আরিফ নিচু হয়ে তালাটা দেখলেন।

— দরজা কে খুলেছে?

— নিহতের স্ত্রী।

— কীভাবে?

— ভেতর থেকে লক ছিল। দরজা ধাক্কা দিয়েও খোলা যায়নি। পরে লক ভেঙে ঢুকতে হয়েছে।

আরিফ ঘরে ঢুকলেন।

প্রথমেই তার চোখ গেল ডেস্কের দিকে।

সামিউল করিম চেয়ারে বসে আছেন।

মাথা সামান্য একদিকে হেলে আছে।

চোখ বন্ধ।

শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাত নেই।

ডেস্কের ওপর একটি খোলা ল্যাপটপ।

এক কাপ কফি।

একটি কলম।

আর একটি মোবাইল ফোন।

আরিফ ধীরে ধীরে ফোনটির দিকে এগিয়ে গেলেন।

— ফোনটা ছোঁয়া হয়েছে?

— না স্যার।

— নিশ্চিত?

— ফরেনসিক টিম আসার পর থেকে কেউ ছোঁয়নি।

আরিফ গ্লাভস পরলেন।

ফোনটি হাতে তুলে নিলেন।

স্ক্রিন কালো।

তিনি পাওয়ার বাটনে চাপ দিলেন।

স্ক্রিন 02:17 AM

আরিফ ভ্রু কুঁচকালেন।

— এখন কয়টা বাজে?

পুলিশ অফিসার বলল,

— ২টা ১৯।

আরিফ আবার ফোনের দিকে তাকালেন।

তারপর মৃতদেহের দিকে।

— তাহলে ফোনটা দুই মিনিট আগে বন্ধ হয়েছে?

— মনে হচ্ছে তাই।

ঠিক তখনইফোন বেজে উঠল।

ঘরের সবাই চমকে উঠল।

আরিফের হাতেই ফোন।

স্ক্রিনে লেখা—

UNKNOWN NUMBER

ঘর নিস্তব্ধ।

ফোন বাজছে।

একবার।

দুবার।

তিনবার।

আরিফ কলটি রিসিভ করলেন।

— হ্যালো?

কোনো উত্তর নেই।

শুধু বৃষ্টির শব্দ।

তারপর খুব ক্ষীণ একটি শব্দ।

মনে হলো কেউ ফিসফিস করে বলল—

“ওকে বিশ্বাস করবেন না।”

কল কেটে গেল।

আরিফ কয়েক সেকেন্ড ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অফিসার জিজ্ঞেস করল,

— কে ছিল স্যার?

আরিফ বললেন,

— জানি না।

তারপর ফোনের কল-লগ খুললেন।

তার চোখ হঠাৎ থেমে গ02:17 AM — Outgoing Call

তিনি স্ক্রিনটি পুলিশের অফিসারের দিকে ঘুরিয়ে ধরলেন।

— এই কলটা কার কাছে গেছে?

অফিসার নাম্বারটি দেখে বলল,

— স্যার, নাম সেভ করা নেই।

আরিফ নাম্বারটি কপি করলেন।

— ট্রেস করো।

— জি।

আরিফ আবার মৃতদেহের দিকে তাকালেন।

তারপর বললেন,

— ডাক্তার কখন আসবে?

— দশ মিনিটের মধ্যে।

আরিফ ধীরে বললেন,

— আমার মনে হচ্ছে লোকটা মারা যাওয়ার পরেও ফোন ব্যবহার করেছে

সামিউল করিমের স্ত্রী মেহরিন করিম বসেছিলেন নিচের ড্রয়িংরুমে।

বয়স প্রায় চল্লিশ।

চোখ লাল।

কিন্তু আরিফের অভিজ্ঞ চোখ একটা বিষয় লক্ষ করল—

মহিলাটি কাঁদছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার কান্নার মধ্যে আতঙ্কের চঅবিশ্বাস বেশি।

আরিফ বসে বললেন,

— আপনার স্বামীকে শেষ কখন জীবিত দেখেছেন?

— রাত সাড়ে এগারোটার দিকে।

— তারপর?

— উনি স্টাডিতে চলে যান।

— প্রতিদিন?

— প্রায়।

— আপনাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছিল?

মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

— না।

— নিশ্চিত?

— জি।

আরিফ নোটবুক বন্ধ করলেন।

— উনার কোনো শত্রু ছিল?

মেহরিন এবার সরাসরি তার দিকে তাকালেন।

— ব্যবসা করলে শত্রু থাকবেই।

— ব্যক্তিগত শত্রু?

নীরবতা।

তারপর মেহরিন বললেন,

— আপনি কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন?

আরিফ শান্তভাবে উত্তর দিলেন,

— কারণ আপনার স্বামীকে কেউ হত্যা করেছে।

মেহরিনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

— আপনি নিশ্চিত?

— আপনার স্বামী কি আত্মহত্যা করতে পারেন?

— না!

উত্তরটা এত দ্রুত এল যে আরিফের চোখ সরু হয়ে গেল।

— এত নিশ্চিত?

মেহরিন এবার ধীরে বললেন,

— সামিউল আত্মহত্যা করার মানুষ না।

— কেন?

— কারণ সে মৃত্যুকে ভয় পেত।

আরিফ কিছু বললেন না।

মেহরিন হঠাৎ নিচু গলায় বললেন,

— আর একটা কথা...

— বলুন।

— কয়েকদিন ধরে ও খুব অস্বাভাবিক আচরণ করছিল।

— কী ধরনের?

— রাতে ঘুমাত না। ফোন বন্ধ করে রাখত। মাঝে মাঝে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকত।

— কাউকে ভয় পাচ্ছিল?

মেহরিন উত্তর দেওয়ার আগে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারহ্যাঁ।

আরিফ সামনের দিকে ঝুঁকলেন।

— কাকে?

মেহরিন মাথা নাড়লেন।

— জানি না।

— উনি কি কাউকে নিয়ে কিছু বলেছিলেন?

— একবার বলেছিল...

— কী?

মেহরিনের ঠোঁট কাঁপছিল।

— “যদি আমার কিছু হয়, তাহলে আমার পুরোনো ফাইলটা খুঁজে বের করো।”

আরিফের চোখ এবার স্থির হয়ে গেল।

— কোন ফাইল?

— জানি

রাত ৩টা ৪০।

ফরেনসিক টিম কাজ শেষ করল।

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী—সামিউল করিমের মৃত্যু হয়েছে বিষক্রিয়ায়।

কিন্তু বিষটি সাধারণ কোনো বিষ নয়।

এমন একটি রাসায়নিক, যার গন্ধ ও স্বাদ প্রায় বোঝা যায় না।

আরিফ কফির কাপটির দিকে তাকালেন।

— কফিটা পরীক্ষা করো।

ফরেনসিক অফিসার বলল,

— ইতিমধ্যে পাঠিয়েছি।

আরিফ স্টাডির চারপাশে আবার হাঁটতে লাগলেন।

দরজা ভেতর থেকে লক।

জানালা ভেতর থেকে বন্ধ।

CCTV আছে।

বাড়ির সামনে গার্ড আছে।

রাত ১১টা ৩৪ থেকে ২টা ০৫ পর্যন্ত কেউ স্টাডির আশেপাশে যায়নি।

তাহলে খুনি ঢুকল কীভাবে?

আরিফ CCTV ফুটেজ দেখতে চাইলেন।

ল্যাপটপে ভিডিও চালানো হলো।

১১:৩২—

সামিউল স্টাডিতে ঢুকলেন।

১১:৩৮—

একজন গৃহকর্মী কফি দিয়ে গেল।

তারপর কেউ নেই।

১২:০০।

১:০০।

২:০০।

হঠাৎ—

আরিফ ভিডিও থামিয়ে দিলেন।

— এখানে পিছনে নাও।

ভিডিও পাঁচ মিনিট পিছিয়ে দেওয়া হলো।

আরিফ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

স্টাডির দরজার সামনে করিডোর।

খালি।

কেউ নেই।

কিন্তু দরজার নিচএকটি ছায়া দেখা যাচ্ছে।

আরিফ বললেন,

— এটা কী?

অফিসার বলল,

— স্যার?

— দরজার নিচে ছায়াটা কার?

সবাই চুপ।

ভিডিও আবার চালানো হলো।

ছায়াটি প্র১২ সেকেন্ড ছিল।

তারপর অদৃশ্য।

কিন্তু ক্যামেরায় কাউকে দেখা যায়নি।

আরিফ ধীরে বললেন,

— কেউ দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

— কিন্তু দরজার ওপাশে তো স্টাডি।

আরিফ তাকালেন।

— ঠিক।

তারপর আবার স্ক্রিনের দিকে তাকালেন।

— তাহলে ছায়াটা ৪

ভোর ৫টা।

বৃষ্টি থেমে গেছে।

আরিফ গাড়িতে বসে ফোন নম্বরটির রিপোর্টের অপেক্ষা করছিলেন।

ফোন এল।

— স্যার, নম্বরটা ট্রেস করা গেছে।

— কার?

— নম্বরটি একটি পুরোনো সিমের। মালিকের নামরায়হান কবি

আরিফ নামটি শুনে চুপ হয়ে গেলেন।

— নিশ্চিত?

— জি স্যার।

— লোকটা কোথায়?

ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।

তারপর উত্তর এল—

— স্যার...

— বলো।

রায়হান কবির মারা গেছে তিন বছর আগে।

আরিফ কিছুক্ষণ কোনো কথা বললেন না।

তারপর ধীরে বললেন,

— আবার চেক করো।

— করেছি স্যার।

— সিমটা এখন কার কাছে?

— সেটাই অদ্ভুত।

— কী?

— সিমটি গত তিন বছর ধরে সক্রিয় ছিল না।

আরিফ ভ্রু কুঁচকে বললেন,

— তাহলে আজ রাতে কল গেল কীভাবে?

ওপাশে কোনো উত্তর নেই।

ঠিক তখনই আরিফের নিজের ফোনে একটি মেসেজ এলUNKNOWN NUMBER

একটি মাত্র লাইন—


“আপনি ভুল জায়গায় খুঁজছেন।আরিফ মেসেজটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর দ্বিতীয় মেসেজ এল।“সামিউলকে আমি হত্যা করিনি।”

তৃতীয় মেসেজ—

“কিন্তু আমি জানি কে করেছে।”

আরিফ দ্রুত রিপ্লাই লিখলেন—

“তুমি কে?”

দুই সেকেন্ড।

তিন সেকেন্ড।

তারপর উত্তর এল।


“যাকে সামিউল তিন বছর আগে মেরে ফেলেছিল।”

আরিফের হাত থেমে গেল।

তারপর—

ফোনের স্ক্রিন কালো হয়ে গেল।

সকাল ৭টা।

আরিফ আবার স্টাডি রুমে ফিরে এলেন।

তিনি এবার একা।

টেবিলের ওপর সামিউলের ল্যাপটপ।

পাসওয়ার্ড ভাঙার চেষ্টা চলছে।

হঠাৎ ফরেনসিক অফিসার দৌড়ে এসে বলল,

— স্যার!

— কী হয়েছে?

— কফির রিপোর্ট এসেছে।

আরিফ ঘুরে দাঁড়ালেন।

— বিষ?

— জি।

— কী পাওয়া গেছে?

অফিসার বলল,

— কফিতে বিষ ছিল না।

আরিফ স্থির হয়ে গেলেন।

— কী বললে?

— কফি সম্পূর্ণ পরিষ্কার।

— তাহলে বিষ গেল শরীরে কীভাবে?

অফিসার উত্তর দেওয়ার আগেই আরিফের চোখ পড়ল ডেস্কের ওপর থাকা পানির বোতলের দিকে।

তিনি বোতলটি হাতে নিলেন।

ঢাকনা খোলা।

ভেতরে সামান্য পানি।

— এটা পরীক্ষা করেছ?

অফিসার মাথা নাড়ল।

— না স্যার।

আরিফ বললেন,

— এখনই করো।

কয়েক মিনিট পর রিপপানিতে বিষ পাওয়া গেছে।

আরিফ ধীরে চোখ বন্ধ করলেন।

তারপর বললেন,

— তাহলে খুনি কফি দিয়ে বিষ দেয়নি।

— জি।

— পানি দিয়েছে।

— কিন্তু স্যার...

— কী?

— বোতলটা তো স্টাডির ভেতরে ছিল।

আরিফ তাকালেন।

— জানি।

— তাহলে খুনি কখন ঢুকল?

আরিফ কোনো উত্তর দিলেন না।

তার চোখ এবার দরজার দিকে।

ভেতর থেকে লক করা দরজা।

জানালা বন্ধ।

CCTV-তে কেউ নেই।

আর তারপর হঠাৎ তার মাথায় একটা কথা“দরজার নিচের ছায়া।”

আরিফ দ্রুত দরজার কাছে গেলেন।

মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসলেন।

দরজার নিচের ফাঁকটা পরীক্ষা করলেন।

তারপর তিনি এমন একটি জিনিস দেখতে পেলেন, যা এতক্ষণ কারও চোখে পড়েনি।

দরজার নিচে আটকে আছএকটি খুব পাতলা কালো সুতো।

আরিফ সেটি টেনে বের করলেন।

সুতোর এক প্রান্ত দরজার ভেতরে।

অন্য প্রান্ত—

করিডোরের দিকে।

তিনি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।

তার মুখে প্রথমবারের মতো বিস্ময় দেখা গেল।

— খুনি ঘরে ঢোকেনি...

পুলিশ অফিসার বলল,

— তাহলে?

আরিফ কালো সুতোটার দিকে তাকিয়ে বললেন,খুনি বাইরে দাঁড়িয়েই দরজা খুলেছে।

ঠিক তখনই নিচতলা থেকে প্রচণ্ড চিৎকার শোনা গেল।

সবাই ছুটে গেল।

আরিফও দৌড়ালেন।

ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখলেন—

মেহরিন করিম হাতে একটি পুরোনো ছবি ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

ছবিতে তিনজন মানুষ।

সামিউল করিম।

রায়হান কবির।

আর তৃতীয় একযার মুখ কালো কালি দিয়ে পুরোপুরি মুছে দেওয়া

মেহরিন কাঁপা গলায় বললেন,

— এই ছবিটা সামিউলের পুরোনো লকারে ছিল।

আরিফ ছবিটা হাতে নিলেন।

ছবির পেছনে হাতে লেখা মাত্র একটি বাক্য“তৃতীয় মানুষটাকে খুঁজে পেলে খুনিকে পেয়ে যাবে।আরিফ ছবির দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর তার ফোন আবার বেজে উঠল।UNKNOWN NUMBER

তিনি রিসিভ করলেন।

ওপাশ থেকে এবার একজন পুরুষের কণ্ঠ।

খুব শান্ত।

খুব পরিচিত।

গোয়েন্দা আরিফ রহমান?

আরিফ বললেন,

— কে?

কণ্ঠটি হেসে বলল—

আপনি যে মানুষটাকে খুঁজছেন... সে আপনার খুব কাছেই আছে।

কল কেটে গেল।

আরিফ ধীরে ধীরে ঘরের সবার দিকে তাকালেন।

মেহরিন।

গৃহকর্মী।

ড্রাইভার।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী।

আর পুলিশ অফিসাররা।

তারপর তার চোখ গিয়ে থামলএকজনের ওপর।

যে এতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।

আরিফ তাকে দেখে বললেন—

আপনি এখানে কী করছেন?

লোকটি কোনো উত্তর দিল না।

শুধু মৃদু হাসল।

আর ঠিক তখনই—

বাড়ির সব আলো নিভে গেল।অন্ধকার।

এক সেকেন্ড।

দুই সেকেন্ড।

তিন সেকেন্ড।

তারপর আলো ফিরে এল।

লোকটি নেই।

শুধু মেঝেতে পড়ে আছে—

একটি মোবাইল ফোন।

স্ক্রিনে একটি ভিডিও চলছে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—সামিউল করিম জীবিত।

আর ভিডিওটির তারিখ—

আজকের তারিখ।

পর্ব ১ সমাপ্ত

পর্ব ২ — “যে মানুষটি মারা যায়নি”পরের পর্বে জানা যাবে—ভিডিওটি সামিউল নিজে ধারণ করেছিল, নাকি কেউ তার মৃত্যুর পর তাকে ব্যবহার করছে। আরিফ যে মানুষটিকে সন্দেহ করছে, সে আদৌ খুনি কি না—সেটাও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।

আর সবচেয়ে বড় রহস্যসামিউলের ঘরে পাওয়া মৃতদেহটি যদি সামিউলের না হয়, তাহলে সেটা কার?

০ মন্তব্য · ২৫০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!