কবিগুরু রবিঠাকুর বলেছিলেন , " ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নেই। ফার্মগেট আছে, ধানমণ্ডি আছে -- পাশে একটা কৃষিকলেজ করে দাও। "
রবীন্দ্রনাথের এই কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে নবাব সলিমুল্লাহ কে সাথে নিয়ে ব্রিটিশ লর্ডের কাছে গিয়ে শেরে বাংলা ফজলুল হক বোঝালেন ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করলে সেটা পূর্ব বাংলার জন্যও ভালো -- ব্রিটিশদের জন্যও ভালো। ইংরেজরা তখনও গড়িমসি করছিলেন --- এবার তিনি হুংকার দিলেন যে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় না করে যদি বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় তাহলে বাংলার মানুষ বিদ্রোহ করলে তার দায় --- দায়িত্ব ব্রিটিশ লর্ডকেই নিতে হবে। এবার ব্রিটিশরা কিছুটা নমনীয় হল --- কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হল একটু দেরীতে ।
.শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক ঘোষণা দিয়েছেন নির্বাচনে জিতলে তিনি জমিদারি প্রথা চিরতরে উচ্ছেদ করবেন।
তিনি যাতে নির্বাচিত হতে না পারেন তার জন্য সারা বাংলাদেশ আর কলকাতার জমিদাররা একত্র হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। লাভ হয়নি --- কৃষকরা তাদের নেতাকে ভোট দিয়েছেন।
'তিঁনি অনুমান করতে পেরেছিলেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে কী কী দুর্দশা হবে বাংলার মানুষের। তাই তিঁনি পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী তে লিখেছেন , " যেখানেই আমরা সোহরাওয়ার্দি সাহেবের নির্দেশে পাকিস্তানের পক্ষে পতাকা দেখাতে গিয়েছি সেখানেই মানুষ আমাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারা বলেছে, শেরে বাংলা যেহেতু পাকিস্তান চায় না , আমরাও পাকিস্তান চাই না। " বঙ্গবন্ধু ' র বাবা বলেছেন , " বাবা তুমি যাই করো শেরে বাংলার বিরুদ্ধে কিছু বলো না। শেরে বাংলা এমনি এমনি শেরে বাংলা হয়নি। "
'কলকাতা হাইকোর্টের নামকরা আইনজীবী ছিলেন। একদিন তাঁর জুনিয়র হাতে একগাদা পত্রিকা নিয়ে এসে বললেন, " স্যার , দেখুন , কলকাতার পত্রিকাগুলো পাতার পর পাতা লিখে আপনার দুর্নাম ছড়িয়ে যাচ্ছে --- আপনি কিছু বলছেন না । " তিঁনি বললেন, " ওরা আমার বিরুদ্ধে লিখছে তার মানে হল আমি আসলেই পুর্ব বাংলার মুসলমান কৃষকদের জন্য কিছু করছি। যেদিন ওরা আমার প্রশংসা করবে সেদিন মনে করবে বাংলার কৃষক বিপদে আছে। "
'জ্ঞানতাপস প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক তাঁর জীবনী লিখতে চান জেনে বলেছিলেন, " রাজ্জাক, সত্যি বলো, তোমার মতলবটা আসলে কী ? " প্রফেসর রাজ্জাক বললেন, " আমার এই বিষয়টা খুব ভালো লাগে ---- আপনি যখন ইংরেজদের সাথে চলেন তখন মনে হয় আপনি জাত ইংরেজ। যখন বরিশালে আসেন মনে হয় আপনি বহুবছর ধরে নিজেই কৃষিকাজ করেন। আবার যখন কলকাতায় শ্যামাপ্রসাদ বাবুর সাথে কথা বলেন তখন আপনাকে আসলেই হিন্দু মনে হয়। নিজেকে কেউ আপনার মত এত পাল্টাতে পারে না। আপনি যাই বলেন, সত্য হোক -- মিথ্যা হোক, মানুষ বিনা দ্বিধায় তা বিশ্বাস করে। "
শেরে বাংলার জীবন নিয়ে বই লিখেছেন বিডি হাবীবুল্লাহ। বাংলাদেশে যারা রাজনীতি করতে ইচ্ছুক তাদের প্রত্যেকের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য ---- বাংলার গরীব কৃষকরা কী চায় তা জানা যাবে ঐ বই থেকে।
আজ এই মহান নেতার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।(সংগ্রহ)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!