প্রথম পাতাচিন্তা ও চেতনাআশেপাশে: নিজের চারপাশের গল্পকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

চিন্তা ও চেতনা

আশেপাশে: নিজের চারপাশের গল্পকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

আশেপাশে: নিজের চারপাশের গল্পকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার নতুন ডিজিটাল উদ্যোগ

নতুন এই উদ্যোগের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। আশেপাশের গল্পে সমৃদ্ধ হোক ‘আশেপাশে’; মানুষের গল্পে মানুষ আরও কাছাকাছি আসুকনতুন এই উদ্যোগের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। আশেপাশের গল্পে সমৃদ্ধ হোক ‘আশেপাশে’; মানুষের গল্পে মানুষ আরও কাছাকাছি আসুক।

 

বিজ্ঞাপন

নূরে আলম সিদ্দিকী

লেখক, প্রকাশক, কলাম লেখকদের চারপাশে প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে। কোথাও একজন তরুণ ছোট্ট উদ্যোগ দিয়ে বদলে দিচ্ছেন নিজের জীবন, কোথাও নিভৃতে একজন শিক্ষক আলোকিত করছেন একটি প্রজন্ম, কোথাও কোনো সামাজিক সংগঠন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, আবার কোথাও রয়েছে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সমস্যা, সম্ভাবনা কিংবা এমন কোনো মানুষের গল্প—যা জানার সুযোগই হয় না বৃহত্তর সমাজের। জাতীয় সংবাদমাধ্যমের ব্যস্ততায় স্থানীয় জীবনের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ গল্প অজানাই থেকে যায়।

এই না-বলা গল্পগুলোকে সামনে আনার প্রত্যয় নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে নতুন বাংলা ব্লগ ও নাগরিক লেখার “আশেপাশে” (ashepashe.com। এর সুন্দর ও অর্থবহ স্লোগান—“আশেপাশে—আপনার চারপাশের গল্প”

নামটির মধ্যেই যেন উদ্যোগটির দর্শন লুকিয়ে আছে। দূরের পৃথিবী সম্পর্কে আমরা এখন মুহূর্তের মধ্যেই জানতে পারি। কিন্তু আমাদের বাড়ির পাশের মানুষটি কী অসাধারণ কাজ করছেন, নিজের এলাকার কোনো পুরোনো স্থাপনার ইতিহাস কী, স্থানীয় তরুণেরা কী নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন কিংবা সমাজের চোখের আড়ালে কোন সমস্যাটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছে—সেসব অনেক সময় আমাদের অজানাই থেক‘আশেপাশে’ সেই দূরত্বটুকু কমাতে চায়।


চারপাশের মানুষই হবে গল্পের নায়ক

এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর অংশগ্রহণমূলক ধারণা। এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট লেখকগোষ্ঠীর লেখা প্রকাশের ওয়েবসাইট হয়ে থাকতে চায় না; বরং বন্ধু, পরিচিতজন, নতুন লেখক এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে চায়।

অর্থাৎ, গল্পের বিষয় যেমন হতে পারে আমাদের আশেপাশের মানুষ ও জীবন, তেমনি গল্পের লেখকও হতে পারেন আমাদেরই আশেপাশের কেউ।

একজন শিক্ষার্থী লিখতে পারেন তাঁর এলাকার হারিয়ে যেতে বসা কোনো ঐতিহ্য নিয়ে। একজন শিক্ষক তুলে ধরতে পারেন শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা। একজন ব্যাংকার লিখতে পারেন অর্থনৈতিক সচেতনতার কথা। একজন কৃষক বা উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প তুলে ধরতে পারেন স্থানীয় কোনো তরুণ। আবার কেউ লিখতে পারেন ভ্রমণ, সংস্কৃতি, ইতিহাস, শিক্ষা, সমাজ, মানবিক উদ্যোগ কিংবা নাগরিক সমস্যার এই বৈচিত্র্যই ‘আশেপাশে’কে একটি প্রাণবন্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করস্থানীয় গল্পের গুরুত্ব এখন আরও বেশি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে আমাদের সামনে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তথ্য আসে। কিন্তু তথ্যের এই প্রবল স্রোতের মধ্যেও একটি বড় সংকট রয়অর্থবহ স্থানীয় কনটেন্টের অভা

আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তের ভাইরাল ঘটনা মুহূর্তে জেনে যাচ্ছি, অথচ নিজের জেলা, উপজেলা, মহল্লা কিংবা গ্রামের অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ সম্পর্কে কিছুই জানছি না। অথচ সমাজের প্রকৃত চিত্র শুধু বড় বড় জাতীয় ঘটনা দিয়ে তৈরি হয় না। অসংখ্য ছোট ঘটনা, সাধারণ মানুষের সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, স্বপ্ন ও উদ্যোগ মিলিয়েই একটি দেশের বাস্তব জীবন তৈরি হয়।

‘আশেপাশে’ যদি এসব গল্পকে দায়িত্বশীলভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে পারে, তাহলে এটি শুধু একটি ব্লগ নয়—ধীরে ধীরস্থানীয় জীবন ও মানুষের গল্পের একটি মূল্যবান ডিজিটাল আর্কাই

আজ যে ছোট্ট উদ্যোগটির কথা কেউ লিখলেন, দশ বছর পর সেটিই হয়তো হয়ে উঠবে কোনো এলাকার পরিবর্তনের ইতিহাস।


নতুন লেখকদের জন্যও খুলতে পারে নতুন দরজা

বাংলাদেশে লেখার আগ্রহ আছে এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। সমস্যা হলো, অনেকেই জানেন না কোথায় লিখবেন, কীভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছাবেন কিংবা নিজের লেখার যাত্রা কীভাবে শুরু করবেন।

‘আশেপাশে’ সেই জায়গায় একটি উন্মুক্ত ও উৎসাহব্যঞ্জক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে তরুণ লেখক, শিক্ষার্থী ও নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তাঁরা বাস্তব জীবন পর্যবেক্ষণ করবেন, তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সহজ ভাষায় মানুষের গল্প বলবেন। এতে শুধু লেখালেখির দক্ষতাই বাড়বে না; সমাজ ও মানুষকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও সমৃদ্ধ হতবে একটি ভালো প্ল্যাটফর্মের শক্তি শুধু বেশি লেখা প্রকাশে বিশ্বাসযোগ্য লেখা প্রকাশ। তাই তথ্য যাচাই, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান, কপিরাইট রক্ষা, বিদ্বেষ ও অপপ্রচার পরিহার এবং সম্পাদনার মান বজায় রাখার বিষয়গুলো শুরু থেকেই গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। এতে ‘আশেপাশে’র প্রতি পাঠকের আস্থা তৈরি হবে।


নেতিবাচকতার ভিড়ে ইতিবাচক গল্প

আমাদের ডিজিটাল জগতে নেতিবাচক সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনা, সংঘাত, বিতর্ক ও কেলেঙ্কারি মানুষের মনোযোগ সহজেই কেড়ে নেয়। কিন্তু সমাজে প্রতিদিন যে অসংখ্য ভালো কাজ হচ্ছে, সেগুলোর কতটুকুই বা সামনে আসে?

কোনো তরুণ হয়তো নিজের গ্রামে পাঠাগার তৈরি করেছেন। কেউ অসহায় শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন বিনা মূল্যে। কোনো নারী ক্ষুদ্র উদ্যোগ দিয়ে কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। কেউ পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগাচ্ছেন, আবার কোনো প্রবাসী নিঃশব্দে এলাকার মানুষের জন্‘আশেপাশে’ এমন মানুষদের খুঁজে বের করতে পারে।

তবে ইতিবাচকতার অর্থ সমস্যাকে আড়াল করা নয়। এলাকার রাস্তা, পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নাগরিক সেবা কিংবা সামাজিক সমস্যাও এখানে উঠে আসতে পারে—কিন্তু তা হওয়া উচিত তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও সমাধানমুখী।


ছোট উদ্যোগ থেকে বড় সম্ভাবনা

প্রতিটি সফল ডিজিটাল উদ্যোগের শুরুতেই বিশাল আয়োজন থাকে না। প্রয়োজন হয় একটি পরিষ্কার উদ্দেশ্য, ধারাবাহিকতা এবং মানুষের বিশ্বাস।

‘আশেপাশে’র ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে এরলেখক, পাঠক, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় গল্পের সন্ধানদাতারা।

আজ এটি হয়তো একটি নতুন ব্লগ সাইট। ভবিষ্যতে এর পরিধি বিস্তৃত হয়ে স্থানীয় ইতিহাস, সাক্ষাৎকার, ছবি, ভিডিও, তরুণ উদ্যোক্তার গল্প, ভ্রমণ, সংস্কৃতি, নাগরিক সাংবাদিকতা কিংবা বিভিন্ন এলাকার ইতিবাচক পরিবর্তনের দলিল ধারণ করতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ যুক্ত হলে একসময় তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের হাজারো জনপদের গল্পের এক অনন্য ডিজিটাল মানচিসেই সম্ভাবনাটিই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক।

শুভ হোক ‘আশেপাশে’র পথচলা

একটি ওয়েবসাইট চালু করা সহজ; কিন্তু তাকে মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গায় নিয়ে যাওয়া কঠিন। এজন্য প্রয়োজন নিয়মিত মানসম্মত কনটেন্ট, দায়িত্বশীল সম্পাদনা, সত্যনিষ্ঠতা এবং পাঠক-লেখকের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

‘আশেপাশে’র যাত্রা তাই শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইটের উদ্বোধননিজের চারপাশকে নতুন চোখে দেখা এবং সাধারণ মানুষের অসাধারণ গল্পগুলোকে দৃশ্যমান করে তোলার একটি সুন্দর সামাজিক উদ্যগ।


আমাদের প্রত্যেকের আশেপাশেই গল্প আছে। প্রয়োজন শুধু সেই গল্পটি খুঁজে দেখা, মন দিয়ে শোনা এবং দায়িত্বের সঙ্গে অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া

“আশেপাশে—আপনার চারপাশের গল্প”—এই ছোট্ট বাক্যটি যদি সত্যিই প্ল্যাটফর্মটির প্রাণ হয়ে ওঠে, তাহলে একদিন ‘আশেপাশে’ শুধু একটি ওয়েব ঠিকানা নয়, মানুষের কাছাকাছি থাকা একটি পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য নাম হয়ে উঠতে পারে।

নতুন এই উদ্যোগের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। আশেপাশের গল্পে সমৃদ্ধ হোক ‘আশেপাশে’; মানুষের গল্পে মানুষ আরও কাছাকাছি আসুক।


নূরে আলম সিদ্দিকী

লেখক, প্রকাশক, কলাম লেখক

৪ মন্তব্য · ২৫৫ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (৪)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন
Admin ১০ আগস্ট, ২০২৬

"আশেপাশে.com" কে নিয়ে এতো সুন্দর, তথ্য নির্ভর লিখার জন্য, আপনাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।। সব সময় "আশেপাশে" এর পাশে থাকবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা।। ❤️

হাসান সাগর ১০ আগস্ট, ২০২৬

আশেপাশে ' কে সামনে পথ চলার সহায়ক হচ্ছে এই পোস্ট।।👍❤️

হিমু ১১ আগস্ট, ২০২৬

মন থেকে চাইলে কি না হয়!! আমি তো চাই (আমরা = আশেপাশে) সবাই যার, যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুক, পছন্দের বিভাগে বাসা বাধুক।।

নিষাদ ১১ আগস্ট, ২০২৬

আমরা সবাই রাজা