মফস্বল শহরের হাবলু মিয়ার জীবনটাই কেটেছে বিভিন্ন চিপা-চাপায় পড়ে। তবে এবারের চিপাটা ছিল একেবারেই আন্তর্জাতিক মানের।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। হাবলু মিয়ার দুই পরম বন্ধু—একজনের নাম মন্টু, আরেকজনের নাম ঝন্টু। দুজনের মধ্যে সাত জন্ম ধরে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। মন্টু একদিন হাবলুকে এসে বলল, "দোস্ত, আগামী পরশু আমার বিয়ে। তুই কিন্তু আমার বরযাত্রী দলের প্রধান খলিফা!"
হাবলু মহাখুশি। কিন্তু একই দিন বিকেলে ঝন্টু এসে হাজির। মুখ কালো করে বলল, "দোস্ত, পরশুদিন আমারও বিয়ে। তুই কিন্তু আমার বিয়ের কাজী ঠিক করা থেকে শুরু করে কনে বিদায় পর্যন্ত সব সামলাবি। তুই ছাড়া আমার আর কে আছে!"
হাবলু পড়ল মহাবিপদে। দিন এক, তারিখ এক, সময়ও এক! এক বন্ধুকে 'হ্যাঁ' বললে অন্য বন্ধু তাকে আস্ত চিবিয়ে খাবে। একেই বলে মাইঙ্ক্যাচিপা
কোনো উপায় না পেয়ে হাবলু বুদ্ধি খাটাল। সে ঠিক করল, দুই বন্ধুর বিয়েতেই যাবে, তবে অল্টারনেট করে।
বিয়ের দিন দুপুরবেলা হাবলু প্রথমে গেল মন্টুর বিয়েতে। সেখানে গিয়েই সে বরের পাশে বসে গপগপ করে তিনটা রাজভোগ মিষ্টি মুখে পুরে দিল। ঠিক তখনই মন্টুর শ্বশুর এসে বলল, "বাবা হাবলু, তুমি বরযাত্রী পক্ষের মুরুব্বি। একটু গেটের দিকে যাও, কনে পক্ষ ফিতা কেটে টাকা চাচ্ছে। ঝামেলাটা মিটিয়ে এসো।"
হাবলু ভাবল, এটাই সুযোগ। সে গেটের দিকে যাওয়ার নাম করে পেছনের পকেট দিয়ে এক দৌড়ে পালালো। রিকশা নিয়ে সোজা ছুটল ঝন্টুর বিয়ের উদ্দেশ্যে।
ঝন্টুর বিয়েবাড়িতে পৌঁছাতেই ঝন্টু কেঁদে কেটে তার গলা জড়িয়ে ধরল, "দোস্ত! তুই এসেছিস? কাজী সাহেব তো এখনো আসেনি। কনের বাপ রাগ করছে। তুই একটু কাজী সাহেবের বাড়ি গিয়ে তাকে ধরে নিয়ে আয়!"
হাবলু আবার পড়ল চিপায়। সে কাজী খুঁজতে যাবে নাকি মন্টুর বিয়েতে ফেরত যাবে? অনন্যোপায় হয়ে সে কাজী সাহেবের খোঁজে রওনা দিল। কিন্তু বিধি বাম! রাস্তার মোড়ে আসতেই মন্টুর খালাতো ভাই হাবলুকে দেখে ফেলল। সে চিৎকার করে উঠল, "ঐ যে হাবলু ভাই! মন্টু ভাই আপনাকে খুঁজছে। আপনি এখানে কী করেন?"
হাবলু আমতা আমতা করে বলল, "না... মানে... আমি একটু মন্টুর জন্য স্পেশাল পান কিনতে এসেছিলাম!"
মন্টুর ভাই বলল, "পান পরে হবে, আগে চলেন!" বলে হাবলুর হাত ধরে টানতে লাগল।
ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে ঝন্টুর ছোট ভাই এসে হাজির। সে হাবলুকে দেখে বলল, "হাবলু ভাই! কাজী সাহেবকে না নিয়ে আপনি মন্টুদের সাথে কী করছেন? চলেন
এবার শুরু মন্টু আর ঝন্টুর ঝগড়া।হাবলু মাইঙ্ক্যাচিপার পুতুল হয়ে গেল! দুই পক্ষই ভাবল হাবলু বুঝি অপর পক্ষের হয়ে দালালি করছে।
টানাটানির এক পর্যায়ে হাবলুর সাধের নতুন পাঞ্জাবির হাতা "চররর" শব্দ করে ছিঁড়ে গেল। সেই সাথে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক বেওয়ারিশ কুকুর তাদের এই কাণ্ড দেখে খেঁকিয়ে তেড়ে এল।
কুকুর দেখে দুই ভাই হাবলুর হাত ছেড়ে যে যার মতো দিল দৌড়! আর হাবলু মিয়া ছেঁড়া পাঞ্জাবি বগলে চেপে, জুতো জোড়া হাতে নিয়ে, কুকুরের তাড়া খেয়ে সোজা দৌড়ে গিয়ে এক পাবলিক টয়লেটের ভেতর ঢুকে ভেতর থেকে লক করে দিল।
সেদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হাবলু মিয়া সেই গন্ধযুক্ত টয়লেটের চিপায় বসে রইল। দুই বন্ধুর বিয়ের ধুমধাম শেষ হওয়া পর্যন্ত সে আর বের হয়নি। রাতে যখন সে বাড়ি ফিরল, তখন তার মা জিজ্ঞেস করল, "কী রে হাবলু, বিয়ে কেমন হলো? বিরানী কপালে জোটেনি ,তবে আজ মন ভরে মাইঙ্ক্যাচিপার বাতাস খেয়ে এসেছি!"

হলো আসল তামাশা। মন্টু
ভাই অসাধারন মজার গল্প।হাসতে হাসতে পেট ব্যাথা হয়ে গেলো।