প্রথম পাতাজীবনধারা"Boss Pleasing" বা চামচামি/তেলবাজি

জীবনধারা

"Boss Pleasing" বা চামচামি/তেলবাজি

"Boss Pleasing" বা চামচামি/তেলবাজি

অফিসে আপনি খুব বিরক্ত কারন চারিদিকে তোষামোদ।হ্যা বিরক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং এটি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি করপোরেট বা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রেই কম-বেশি দেখা যায়। একে করপোরেট ভাষা"Boss Pleasing" বা চামচামি/তেলবাজি বলা হয়।

 আপনার ক্ষোভ এবং হতাশা একদম স্বাভাবিক, কারণ দিনরাত কষ্ট করে কাজ করার পরও যখন একজন ফাঁকিবাজ ও তেলবাজ ব্যক্তি বসের প্রিয় পাত্র হয়ে প্রমোশন পায়, তখন কর্মস্পৃহা নষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

তবে এই পরিস্থিতির পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কারণ থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন এমনটা ঘটে এবং এই পরিস্থিতিতে আপনার কী করা উচিত:

তেলবাজরা কেন ভালো থাকে?

  • বসের মানসিক তৃপ্তি: অনেক বস বা ম্যানেজার নিজের যোগ্যতা নিয়ে ভেতরে ভেতরে এক ধরণের হীনমন্যতায় ভোগেন। তারা এমন মানুষ পছন্দ করেন যারা সবসময় তাদের প্রশংসা করবে এবং সব কথায় "হ্যাঁ" মেলাবে।
  • যোগাযোগের চাতুর্য (Visibility): তেলবাজরা কাজের চেয়ে বসের কাছে নিজের উপস্থিতি জাহির করতে বেশি সময় দেয়। তারা ছোট একটি কাজ করলেও সেটাকে বসের সামনে বিশাল বড় করে উপস্থাপন করতে পারে।
  • তথ্য সরবরাহকারী (Informant): তারা অফিসের ভেতরের সব খবর বা গসিপ বসের কান পর্যন্ত পৌঁছায়। অনেক বসই

এই তথ্যের জন্য তাদের নিজের পাশে রাখেন

শুধু কাজ জানা মানুষ কেন "অকাজের" মনে হয়?

  • নীরবে কাজ করা: যারা শুধু কাজ করেন, তারা ভাবেন "আমার কাজই কথা বলবে।" কিন্তু বর্তমান করপোরেট দুনিয়ায় শুধু কাজ করলেই হয় না, সেই কাজের কথা বসকে জানাতেও হয়।
  • বসের সাথে দূরুত্ব: কাজের মানুষরা সাধারণত বসের সাথে কাজের বাইরে বাড়তি খাতির জমাতে পারেন না বা চান না। এর ফলে বসের সাথে একটি দূরত্ব তৈরি হয়।
  • সহজে প্রতিস্থাপনযোগ্য (Replaceable): কোম্পানি অনেক সময় ধরে নেয় যে, এই মানুষটি তো চুপচাপ কাজ করেই যাবে, একে আলাদা করে মূল্যায়ন না করলেও সে ছেড়ে যাবেনা।

এই পরিস্থিতিতে আপনার করণীয় কী?

নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে তেলবাজি করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে করপোরেট জগতে টিকে থাকতে এবং নিজের মূল্যায়ন পেতে আপন"স্মার্ট ওয়ার্ক করতে হবে:

  • কাজের দৃশ্যমানতা (Visibility) বাড়ান: আপনি কী কাজ করছেন, তা নিয়মিত ইমেইল, উইকলি রিপোর্ট বা মিটিংয়ের মাধ্যমে বসকে জানান। চুপচাপ কাজ শেষ করে বসে থাকবেন না।
  • কমিউনিকেশন স্কিল উন্নত করুন: বসের সাথে কাজের খাতিরে নিয়মিত পেশাদার যোগাযোগ বজায় রাখুন। কাজের আপডেট দেওয়ার বাহানায় বসের সাথে কথা বলুন।
  • নেটওয়ার্কিং বাড়ান: শুধু নিজের বসের ওপর নির্ভর না করে অফিসের অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলুন।

সীমানা নির্ধারণ করুন (Set Boundaries): অতিরিক্ত কাজের বোঝা নেবেন না যা আপনার মানসিক চাপ বাড়ায় অথচ কোনো ক্রেডিট এনে দেসবশেষে, যদি দেখেন কোনো প্রতিষ্ঠানে সততা ও যোগ্যতার বিন্দুমাত্র মূল্য নেই এবং সেখানে শুধুই তেলবাজদের রাজত্ব, তবে বুঝবেন সেই প্রতিষ্ঠানের কালচার বা সংস্কৃতি ত্রুটিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য এমন বিষাক্ত কর্মপরিবেশ (Toxic Work Environment) পরিবর্তন করে নতুন কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।



১ মন্তব্য · ১৩৫ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (১)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন
হিমু ২৫ দিন আগে

Toxic Work Environment) পরিবর্তন করে নতুন কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরির চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।