সালমানের বাবা মা সম্পার বাবা মার সাথে কথাও বলে রেখেছে সম্পাকে তারা ঘরের বৌ হিসাবে চেয়ে নিয়েছে।তাদের বিয়েটা কিছু দিন পর করাবে কারন সালমানের চাকুরী হয়েছে মাত্র ১ বছর আর দুই পরিবারের আর্থিক অবস্থাও এখন খুব একটা ভালোনা। দূই পরিবার ঠিক করলো ছয় মাস পর সালমান আর সম্পার বিয়ে দিবে।
সালমান আর সম্পার ভালোবাসার দিন গুলো খুব ভালোই যাচ্ছে।দুই জনের ভীতর বোঝাপরাও খুব ভালো। সালমানের পৃথীবি সম্পা আর সম্পার পৃথীবি সালমান।সবাই তাদেরকে দেখে বলা বলি করতো ভালোবাসা কাকে বলে অদের দেখলে বোঝা যায়।
ছয় মাস পার হওয়ার পর দুই জনের পরিবার,তাদের বিয়ের তারিখ ঠিক করলো এবং বিয়ের কেনাকাটা শুরু করলো।খুব আনন্দ নিয়েই দুই পরিবার বিয়ের কেনাকাটা করে।সালমান আর সম্পা তাদের কেনাকাটা দুই জনেই করে।আস্তে আস্তে তাদের বিয়ের দিন আস্তে থাকে আর সবার ব্যাস্ততাও বারতে থাকে।
বিয়ের দিন সকালে সম্পা যায় পার্লারে আর এই দিকে সালমান কমিউনিতি সেন্টারে ব্যাস্ত।তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছে দুই পরিবার একসাথে।দুপুরে সম্পা আসে কমিঊনিটি সেন্টারে তার পর তাদের বিয়ে পড়ানো হয়।সব আত্মীয়দের খাওয়ানোর পর তারা বাড়ীতে চলে যায়।
সালমানের বাবা মা সম্পাকে নয়ে খুব খুশি।বিয়ের পরের দিন সালমান আর সম্পা,সম্পার বাড়ীতে গেলো,সেখানে একদিন থাকার পর আবার ফিরে এলো সালমানদের বাড়ীতে।সালমানের বড় ভাই তাদের হানিমুনের জন্য দুইটা টিকিট কেটে এনে,সম্পার হাতে দিয়ে বোল্ল কক্সবাজার থেকে ঘুরে এসো।ঠিক সেই মত তারা তৈরী হলো যাবার জন্য।রাত ১১টায় তাদের বাস, রাত ৮টার দিকে হঠাৎ সম্পা বোল্ল তার শরীরটা খুব খারাপ লাগছে,বোলতে বোলতে সে জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেললো। সম্পাকে সাথে সাথে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।সালমান,সালমানের বাবা মা ভাই বোন,সম্পার বাবা মা বোন সবাই হাস্পাতালে ।সেখানে এক কান্নার রোল পড়েছে।দুই ঘন্টা চলে গেলো ডাক্তার কিছুই বলছে না।
দুই ঘন্টা পর ডাক্তার এসে বলল সম্পার ক্যান্সার হয়েছে কুব খারাপ অবস্থা।হাস্পাতালে তখন কান্নার রোল আরো প্রকট হলো।সালমানের পৃথীবিটা মনে হলো ধংস হয়ে আসল।কেউ বুঝতেই পাড়লো না সম্পার এতো বড় একটা রোগ হয়েছে।ডাক্তার বলে দিল সম্পা আর বেশী দিন বাচবেনা।যে কয়দিন বাচে কেমো দিতে হবে।এক মাস যায় দুই মাস যায় সালমানের যদিও খুব কষ্ট হচ্ছে টাকা পয়সা জোগার করতে ,তারপরও তাকে টাকা জোগার করতেই হবে তার পৃথীবির জন্য।সালমানের বাবা তার সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করেছে,সম্পার বাবা তারও সব সম্পত্তি বিক্রি করেচে মেয়েকে বাচানোর তাগিদে।কিন্তু টাকা শেষ হয়েছে সম্পা শুস্থ হয় না।সালমান হাল ছাড়তে রাজী না,কারণ তার পৃথীবিকে সে ধংস হতে দিবেনা,সম্পা তো তারই শরীরের আংশ।সম্পা ছাড়া তার পৃথীবি আন্ধকার।
অনেক কষ্টে লিখলাম,অনেক পাথর বুকে নিয়ে।জীবনে এতো ভালোবাসার জীবন দুঃখে পরিনত হতে দেখিনি।সম্পা এখনও ওভাবেই বেচে আছে গত তিন মাস ধরে।সালমান চেষ্টা করে যাচ্ছে সম্পাকে বাচাতে।
আমাদের আশেপাশে, এমন অনেক ভালো লাগা,ভালোবাসা পূর্নতা পায় না।। 🥲 এই মরণ ব্যধি ক্যান্সার এর সত্যি কারের প্রতিকার কি কোনো দিন আসবে!!!