প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসহাজির হলো হাবলু মিয়ার 'মাইঙ্ক্যাচিপা' অভিযানের ২য় তথা শেষ পর্ব!

গল্প ও উপন্যাস

হাজির হলো হাবলু মিয়ার 'মাইঙ্ক্যাচিপা' অভিযানের ২য় তথা শেষ পর্ব!

হাজির হলো হাবলু মিয়ার 'মাইঙ্ক্যাচিপা' অভিযানের ২য় তথা শেষ পর্ব!

টয়লেটের গন্ধযুক্ত চিপা থেকে যখন রাত ১০টায় হাবলু মিয়া বের হলো, তখন তার চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল সে কোনো বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়ে সশরীরে ফেরত এসেছে। ছেঁড়া পাঞ্জাবি, এক পায়ে জুতো নেই, আর গা থেকে অদ্ভুত এক সুবাস বের হচ্ছে।

বাড়ি ফিরে মায়ের বকুনি আর গরম পানির গোসল শেষে হাবলু যখন খাটে পিঠ ঠেকাল, সে ভাবল—যাক, চিপা থেকে তো বাঁচা গেল! মন্টু আর ঝন্টু যে যার মতো বউ নিয়ে এখন বাসর ঘরে সুখে আছে। আমার আপদ চুকেছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু হাবলু জানত না, বিধাতা তার জন্য আরও বড় এক ‘সুপার-সাইজ’ মাইঙ্ক্যাচিপা তৈরি করে রেখেছেন!

পরদিন সকাল বেলা। হাবলুর দরজায় বিকট শব্দে ধাক্কা। দরজা খুলতেই হাবলুর চোখ চড়কগাছ। সামনে মন্টু আর ঝন্টু দুজনেই দাঁড়িয়ে! তবে তাদের চোখে-মুখে বিয়ের আনন্দের বদলে কেমন যেন খুনের নেশা।

মন্টু চিৎকার করে বলল, "তোর জন্য আমার বিয়েটা প্রায় ভেস্তেই যাচ্ছিল হাবলু! তুই মাঝরাস্তা থেকে পালিয়ে গেলি কেন? কনে পক্ষ যখন গেটে টাকা চাচ্ছিল, তুই নাই! শেষে আমার মান-সম্মান বাঁচাতে পকেট থেকে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তুই আমার দোস্ত নামের কলঙ্ক!"

ঝন্টু পাশ থেকে ফোঁস করে উঠে বলল, "আরে মন্টু, ও তো তোর ওখানে গেছিল! আমার কথা চিন্তা কর। ও কাজী আনতে যাওয়ার নাম করে কোন চিপায় যে লুকাল, কাজী সাহেব আসলেন রাত ৯টায়! কনের বাপ তো রেগেমেগে বিয়েই ভেঙে দিচ্ছিল। সারা জীবন মনে রাখব হাবলু, তুই আমার বিপদে পিঠ দেখিয়েছিস!"

হাবলু আমতা আমতা করে নিজের ছেঁড়া পাঞ্জাবির দোহাই দিতে চাইল, কুকুরের তাড়ার গল্প বলতে চাইল। কিন্তু দুই বন্ধুই রেগেমেগে আগুন। তারা সাফ জানিয়ে দিল, "আজকে দুপুরে আমাদের দুজনের বাড়িতেই বউভাতের দাওয়াত। তুই যদি দুই জায়গাতেই ঠিক সময়ে উপস্থিত না হোস, তবে আমাদের বন্ধুত্ব এখানেই শেষ! আর হ্যাঁ, উপহার হিসেবে দামি কিছু আনতে হবে!"

আবারও সেই একই দিন, একই দুপুর, আর দুই বন্ধুর একই আল্টিমেটাম। হাবলু এবার বুঝল, এবার আর টয়লেটে লুকিয়ে বাঁচা যাবে না। সমাজ তাকে চিনে ফেলেছে।

দুপুর ১টা। হাবলু বুদ্ধি করে একটা বিশাল বড় প্রেসার কুকার কিনল। ভাবল, একটাই উপহার কিনবে, যেটা দুই বন্ধুর কাজেই লাগবে। সে প্রথমে গেল মন্টুর বউভাতে।

মন্টুর হাতে প্রেসার কুকারটা দিয়ে বলল, "দোস্ত, কালকের ভুলের জন্য মাফ চাই। এই নে তোর উপহার।" মন্টু একটু নরম হয়ে বলল, "ঠিক আছে, বস। খেয়ে যা।" হাবলু এক প্লেট বিরিয়ানি মুখে তুলবে, অমনি তার ফোনে ঝন্টুর কল, "কই তুই? সবাই খেয়ে চলে যাচ্ছে, তোর দেখা নাই!"

হাবলু মন্টুকে বলল, "দোস্ত, পেটটা কেমন যেন কামড়াচ্ছে, একটু ওষুধি পান খেয়ে আসি।" বলেই সে মন্টুর হাত থেকে প্রেসার কুকারটা টান দিয়ে কেড়ে নিল! মন্টু অবাক হয়ে বলল, "এই! উপহার কেড়ে নিচ্ছিস কেন?" হাবলু দৌড়াতে দৌড়াতে বলল, "আরে ভুল করে তোকে ঝন্টুরটা দিয়ে দিয়েছি, তোরটা বিকেলে এনে দেব!"

হাবলু সেই একই প্রেসার কুকার বগলে চেপে রিকশা নিয়ে ছুটল ঝন্টুর বাড়ি। সেখানে গিয়ে ঝন্টুর হাতে সেই একই কুকার ধরিয়ে দিল। ঝন্টু খুশি হয়ে বলল, "বাহ্! কাজের জিনিস দিয়েছিস। বোস, বিরিয়ানি খা।"

হাবলু এবার যেই না বিরিয়ানির মাটন পিসে কামড় দেবে, দেখে মন্টু তার নতুন বউ আর দলবল নিয়ে ঝন্টুর বাড়ির সামনে দিয়ে রিকশায় করে যাচ্ছে! (কারণ দুজনের শ্বশুরবাড়ি একই এলাকায় ছিল)। মন্টু রিকশা থেকে নামতেই দেখতে পেল ঝন্টুর টেবিলের ওপর ঠিক একই প্রেসার কুকার, আর হাবলু সেখানে বসে গপগপ করে খাচ্ছে!

মন্টু এসে ঝন্টুর কুকারটা উল্টেপাল্টে দেখল। কুকারের গায়ে তখনো মন্টুর নামের স্টিকারের আঠা লেগে আছে! মন্টু গর্জে উঠল, "ঐ হাবলু! এটা তো তুই আমাকে দিয়েছিলি! এখান থেকে চুরি করে এনে ঝন্টুকে দিয়েছিস?"

ঝন্টুও খেপে গেল, "কীহ্! ও মন্টুর দেওয়া বাসি উপহার আমাকে এনে দিয়েছে?"

দুই বন্ধু মিলে এবার টেবিল চাপড়ে হাবলুকে ধরল। মন্টু বলল, "আজকে তোকে এই কুকার দিয়েই পিটাব!" ঝন্টু বলল, "না, ও আমার বিরিয়ানি খেয়েছে, ওকে আজ ডাবল জরিমানা দিতে হবে!"

হাবলু দেখল বেগতিক। সে বিরিয়ানির প্লেট ফেলে টেবিলের তলা দিয়ে চিপা গলে এক লাফে ড্রইংরুমের জানালা দিয়ে বাইরে দিল দৌড়! পেছনে বরযাত্রীর দল আর দুই বন্ধু মিলে চিৎকার করতে করতে তাড়া করল।

হাবলু মিয়া জুতো ফেলে এক টানে সোজা নিজের বাড়ির ভেতরে ঢুকে সদর দরজায় চারটা সিটকিনি আর তিনটা তালা লাগিয়ে দিল। তারপর জানালার গ্রিল ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, "ওহে সৃষ্টিকর্তা! এই দুনিয়ায় মন্টু-ঝন্টু যতদিন থাকবে, আমার কপালে কি কোনোদিন শান্তিতে বিরিয়ানি খাওয়া জুটবে না? আমাকে এই ফ্রেন্ডশিপের মাইঙ্ক্যাচিপা থেকে পার করো!"

সেই থেকে হাবলু মিয়া প্রতিজ্ঞা করেছে—বন্ধুর বিয়ে তো দূরের কথা, কোনো বন্ধু যদি ভালোবেসে তাকে এক কাপ চাও খাওয়াতে চায়, হাবলু আগে জিজ্ঞেস করে, "দোস্ত, আশেপাশে অন্য কোনো বন্ধু ওত পেতে নেই তো?"

২ মন্তব্য · ৭৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (২)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন
চঞ্চল আহমেদ ১০ দিন আগে

অসাধারন

বাংলা ট্রিবিউট ১০ দিন আগে

হাসি থামাতেই পারছিনা।ধন্যবাদ মনটা ভালো করে দেওয়ার জন্য