শেষ পর্ব
“না, ছোট সোয়ালো!” বেচারা রাজপুত্র বলল। “তোমাকে মিসরে যেতেই হবে!”
“না। আমি সারাজীবন তোমার সাথেই থাকব,” সোয়ালো বলল। আর সে রাজপুত্রের পায়ের কাছে গিয়ে ঘুমিয়ে পড
পরের দিন সোয়ালো রাজপুত্রের কাঁধে গিয়ে বসল। রাজপুত্র তো আর দেখতে পায় না, তাই সে তাকে কত গল্প শোনাতে লাগল। সে মিসরের কথা বলল—মরুভূমি, উট, স্ফিংক্স, পিরামিড আর খেজুর গাছের বড় বড় সাপের ক
“প্রিয় ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “তুমি কত অদ্ভুত সব কথা বলছ! কিন্তু জানো আমার কাছে এর চেয়েও অদ্ভুত কোনটা লাগে? মানুষের কষ্ট। দুঃখের চেয়ে বড় কোনো রহস্য নেই। তুমি আমার শহরের ওপর দিয়ে উড়ে যাও, ছোট সোয়ালো, আর আমাকে এসে বলো তুমি সেখানে কী কী দেখতে প
তাই সোয়ালো শহরের ওপর দিয়ে উড়ে গেল। সে দেখল ধনীরা তাদের সুন্দর সুন্দর ঘরে আরামে দিন কাটাচ্ছে, আর ভিখারিরা তাদের দরজায় বসে আছসে অন্ধকার গলিতে অভুক্ত শিশুদের বসে থাকতে দেখল।
সে একটি ব্রিজের নিচে দুটি ছোট ছেলেকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকতে দেখল, তারা একটু উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করছ“এখানে ঘুমানো যাবে না!” একজন পুলিশ তাড়া দিল। “ভাগো এখান থেকে!”আর ছেলে দুটি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে পালিয়ে গেল।
সোয়ালো আবার রাজপুত্রের কাছে ফিরে এসে যা যা দেখেছে সব বলল।
“আমি সোনায় মোড়ানো,” রাজপুত্র বলল। “আমার গায়ের সোনাগুলো এক এক করে খুলে নিয়ে ওই গরিবদের দিয়ে দাও
এক টুকরো এক টুকরো করে সোয়ালো রাজপুত্রের শরীর থেকে সোনার পাতগুলো তুলে নিল। দেখতে দেখতে হ্যাপি প্রিন্সকে একদম মলিন আর ধূসর দেখাতে লাগল। এক টুকরো এক টুকরো করে সোয়ালো সেই সোনা গরিবদের দিয়ে দিল। ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখগুলো আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তারা রাস্তায় হাসাহাসি আর খেলাধুলা করতে লাগল। “আমাদের এখন খাবার কেনার রুটি আছে
তারপর তুষারপাত শুরু হলো। তার সাথে নেমে এলো হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। রাস্তাঘাট সব সাদা হয়ে গেল। ঘরের কার্নিশ থেকে বরফের বড় বড় স্তম্ভ ঝুলতে লাগল। সবাই শীতের পোশাক পরল, আর বাচ্চারা বরফের ওপর স্কেটিং করতে লা
বেচারা ছোট সোয়ালো পাখিটির দিন দিন আরও বেশি ঠান্ডা লাগতে লাগল। কিন্তু সে রাজপুত্রকে ছেড়ে গেল না। সে বেকারির দোকানের সামনে থেকে রুটির টুকরো কুড়িয়ে খেত। আর ডানা ঝাপটে নিজেকে একটু গরম রাখার চেষ্টা কর
অবশেষে, সে বুঝতে পারল সে আর বাঁচবে না, তার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। সে শেষবারের মতো রাজপুত্রের কাঁধে গিয়ে বসল“বিদায়, প্রিয় রাজপুত্র,” সে ফিসফিস করে বলল“তুমি যে শেষ পর্যন্ত মিসরে যাচ্ছ, এতে আমি খুব খুশি, ছোট সোয়ালো,” রাজপুত্র বলল। “তুমি এখানে অনেক দিন থেকে গেছ।”
“আমি মিসরে যাচ্ছি না,” সোয়ালো বলল। “আমি মৃত্যুর বাড়িতে যাচ্ছি। মৃত্যু কি ঘুমেরই ভাই নয়?
সে হ্যাপি প্রিন্সকে একটি চুমু খেল, এবং তার পায়ের কাছে ঢলে পড়ে মারা গেলঠিক সেই মুহূর্তে, মূর্তির ভেতর থেকে একটা অদ্ভুত শব্দ এলো— মড়মড রাজপুত্রের সিসার তৈরি হৃদয়টি ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেল
পরদিন সকালে, শহরের মেয়র তাঁর কাউন্সিলরদের নিয়ে মূর্তির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলে“ওহ হরি! হ্যাপি প্রিন্সকে তো দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না!” তিনি বললেন।
“একদমই ভালো লাগছে না!” কাউন্সিলররা সায় দিলেন। (তারা সব সময় মেয়রের কথায় সায় দ
“ওর চুনিটা কোথায় গেল?” মেয়র বলতে লাগলেন। “ওর চোখ দুটোই বা কই?! আর গায়ে তো কোনো সোনাও নেই! হায় খোদা! ও তো আর হ্যাপি প্রিন্সের মতো দেখতে নেই! একে তো দেখতে একবারে ভিখারির চেয়ে কোনো অংশে ভালো লাগছে “একবারে ভিখারির চেয়ে ভালো লাগছে না!” কাউন্সিলররা দোহাই দিলেন।
“আর… ওটা কী?!… ও মা… এ কী কাণ্ড…!” মেয়র বললেন। “ওর পায়ের কাছে একটা মরা পাখি পড়ে আছে!আমাদের একটা নতুন আইন পাস করতে হবে: ‘মূর্তির ওপর পাখিদের মরে পড়ে থাকা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।’ কেউ এটা নোট করে নাও!”আর সাথে সাথে কেউ একজন তা নোট করে নিল।
তারা হ্যাপি প্রিন্সের মূর্তিটি ভেঙে ফেলে দিল। “যা দেখতে সুন্দর নয়, তা কোনো কাজেরও নয়,” পত্রিকার একটি আর্টিকেলে লেখা হলোতারা মূর্তিটিকে একটি কারখানায় গলিয়ে ফেলল। কিন্তু সিসার তৈরি হৃদয়টি কিছুতেই গলল ন
“ভারী অদ্ভুত তো!” কারখানার এক শ্রমিক বলল। “এটা নিয়ে আমরা এখন কী করব?”“ধুর… ফেলে দাও ওটা জঞ্জালে,” অন্যজন বলল। “আর বসকে কিছু জানানোর দরকার নেই!”
তাই তারা রাজপুত্রের হৃদয়টা একটা ময়লার স্তূপে ফেলে দিল, ঠিক সেই মরা সোয়ালো পাখিটার পাশে
“শহরের সবচেয়ে মূল্যবান দুটি জিনিস আমার কাছে নিয়ে এসো,” ঈশ্বর তাঁর এক ফেরেশতাকে বললেনফেরেশতা গিয়ে সেই সিসার হৃদয়টি… আর মরা পাখিটিকে নিয়ে এল
“আহা! তুমি একদম সঠিক জিনিস দুটি বেছে এনেছ!” ঈশ্বর বললেন। “এই ছোট পাখিটি আমার স্বর্গের বাগানে গান গাইবে। আর আমার এই সোনার তৈরি শহরে, রাজপুত্র আবার চিরকালের জন্য সুখী হবে।”
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!