প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসঈসা (আ:) ও তৃতীয় রুটি

গল্প ও উপন্যাস

ঈসা (আ:) ও তৃতীয় রুটি

ঈসা (আ:) ও তৃতীয় রুটি

ঈসা (আঃ) একজন লোককে সঙ্গে নিয়ে সফরে বের হলেন। পথ চলতে চলতে তারা একটি নদীর তীরে এসে পৌঁছালেন। তাদের সঙ্গে ছিল মাত্র তিনটি রুটি। দুজন মিলে দুটি রুটি খেয়ে নিলেন। আর একটি রুটি বাকি রইল।


বিজ্ঞাপন

কিছুক্ষণ পর ঈসা (আ:) নদী থেকে পানি পান করতে গেলেন। ফিরে এসে দেখলেন তৃতীয় রুটিটি নেই! তিনি সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তৃতীয় রুটিটি কে নিয়েছে?'

লোকটি বলল, আমি জানি না।

এই শুনে ঈসা (আ:) আর কিছু বললেন না।

*

তারা আবার পথ চলতে শুরু করলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর তারা একটি হরিণী ও তার দুটি বাচ্চাকে দেখতে পেলেন। ঈসা (আ:) আল্লাহর অনুমতিতে একটি বাচ্চা হরিণকে ডাকলেন। সেটি তার কাছে চলে এলো।

তিনি সেটিকে জবাই করলেন। তারা তার গোশত রান্না করে খেলেন।


খাওয়া শেষ হলে ঈসা (আ:) আল্লাহর অনুমতিতে সেই হরিণের বাচ্চাটিকে বললেন, 'আল্লাহর অনুমতিতে উঠে দাঁড়াও।'


অবিশ্বাস্যভাবে প্রাণীটি উঠে দাঁড়িয়ে চলে গেল। এরপর ঈসা (আ:) তার সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'আমি তোমাকে সেই সত্তার নামে জিজ্ঞেস করছি, যিনি তোমার সামনে এই নিদর্শন দেখালেন-তৃতীয় রুটিটি কে নিয়েছিল?'


লোকটি আবারও বলল, আমি জানি না।

*

তারা আবার পথ চলতে লাগলেন।

কিছুদূর পর তারা এমন একটি জায়গায় পৌঁছালেন যেখানে পানির প্রবাহ ছিল। ঈসা (আ:) সেই লোকটির হাত ধরে আল্লাহর অনুমতিতে পানির ওপর দিয়ে তাকে নিয়ে পার হয়ে গেলেন।


এত বড় একটি নিদর্শন দেখার পরও ঈসা (আ:) তাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন, 'আমি তোমাকে সেই সত্তার নামে জিজ্ঞেস করছি, যিনি তোমাকে এই নিদর্শন দেখালেন- তৃতীয় রুটিটি কে নিয়েছিল?'


লোকটি এবারও বলল, আমি জানি না।

*

অবশেষে তারা একটি নির্জন জায়গায় পৌঁছালেন। ঈসা (আ:) তাকে বললেন, 'তুমি এখানেই থাকো।' তারপর তিনি তাকে ছেড়ে চলে গেলেন।


কিছুক্ষণ পর সেই লোকের সামনে তিনটি সোনার পিণ্ড এসে উপস্থিত হলো। সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেল।

কিন্তু তখনই তার সামনে ফিরে এল সেই তিনটি রুটির হিসাব।


ঈসা (আ:)-এর সঙ্গে ছিল তিনটি রুটি;দুটি তারা খেয়েছিল,আর একটি সে গোপনে নিয়েছিল। আর এখন তার সামনে রয়েছে তিনটি সোনার পিণ্ড। সে তখন সত্য স্বীকার করে বলল, 'তৃতীয় রুটিটি আমিই নিয়েছিলাম।'


কিন্তু তখন সত্য স্বীকার করে কী লাভ?" ( আয-যুহদ, মু'জাম ইবনুল আ'রাবি)

*

পরবর্তীতে সে সম্পদের লোভে এমন লোকদের সংস্পর্শে পড়ে, যাদের পরিণতি ভয়াবহ হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পদই তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


আর ঈসা (আ:) যখন পরবর্তীতে সেই জায়গার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, তখন তিনি যেন দুনিয়ার বাস্তবতাটিই দেখিয়ে দেন। যে সম্পদের জন্য মানুষ সত্য লুকায়, আমানতের খিয়ানত করে, অন্যায় করে। সেই সম্পদই একদিন তার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

*

এটাই দুনিয়ার পরীক্ষা। দুনিয়ার পরীক্ষা আসলে এমনই।

পরীক্ষা সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু হয় না। কখনো পরীক্ষা আসে একটি রুটি হয়ে। কখনো সামান্য কিছু টাকা হয়ে। কখনো একটি সুযোগ হয়ে। কখনো রূপ হয়ে। নামধাম হয়ে। সেলিব্রেটি হয়ে।


কখনো এমন কোনো জিনিস হয়ে, যেটা দেখে আমরা মনে করি আরেহ এতটুকু নিলে কী এমন হবে!


কিন্তু আল্লাহর কাছে বিষয়টি হচ্ছে আপনি তখন কী করেছিলেন। আমরা অনেকেই গোপনে মানুষের ক্ষতি করি। অন্যের ক্ষতি করি বা করতে চাই। অনেক সময় এতে

মানুষের চোখ এড়িয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর দৃষ্টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না।


আখিরাতের জন্য ছোট আমানতও অনেক বড় বিষয়। ছোটখাটো বিষয়গুলো ভবিষ্যতের জন্য, আখিরাতের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।


গোপন গুনাহও কখনো কখনো মানুষের বড় পরীক্ষার দরজা খুলে দিতে পারে। আর ছোট একটি গোপন নেক আমলও হতে পারে আল্লাহর কাছে আপনার সবচেয়ে মূল্যবান আমল। অথবা আপনি আল্লাহর প্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।


মহান আল্লাহ আমাদের তাকওয়া দান করুন...।

০ মন্তব্য · ১০৮ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!