শেষ ফোনকল
পর্ব ২ — যে মানুষটি মারা যায়নি
সামিউল করিমের ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভিডিওটি তখনও চলছে।
ভিডিওতে সামিউল জীবিত।
সে একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে। সামনে ক্যামেরা। মুখে ক্লান্তি, চোখে ভয়।
পেছনে কোনো জানালা নেই। দেয়ালটাও অচেনা।
সামিউল ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে—
“যদি এই ভিডিওটা কেউ দেখে, তার মানে আমি হয়তো আর বেঁচে নেই।”
আরিফ রহমান নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনছিলেন।
ভিডিওর সামিউল আবার বলল—
“আমি জানি, সবাই ভাববে আমাকে টাকা-পয়সা, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সত্যিটা অন্য জায়গায়।”
সে কিছুক্ষণ চুপ করল।
তারপর খুব ধীরে বলল—
“তিন বছর আগে যে মানুষটাকে আমরা মেরেছিলাম...”
ভিডিও হঠাৎ থেমে গেল।
স্ক্রিন কালো।
আরিফ ল্যাপটপে বারবার ক্লিক করলেন।
ভিডিও আর চলছে না।
— এটা কে বন্ধ করল?
কেউ উত্তর দিল না।
আরিফ ঘুরে দাঁড়ালেন।
ঘরে উপস্থিত সবাইকে তিনি একবার করে দেখলেন।
মেহরিন।
গৃহকর্মী সালমা।
ড্রাইভার জসিম।
বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী কাদের।
আর পুলিশ সদস্যরা।
তারপর তিনি— কেউ ঘর থেকে বের ১. মৃত মানুষ
সকাল ৮টা ২৫।
পুলিশ বাড়িটা ঘিরে ফেলেছে।
আরিফ আবার স্টাডি রুমে ঢুকলেন।
মেঝেতে সেই মোবাইল ফোনটি পড়ে আছে, যেটাতে সামিউলের ভিডিও পাওয়া গিয়েছিল।
ফরেনসিক টিম ফোনটি পরীক্ষা করছে।
একজন কর্মকর্তা বললেন,
— স্যার, ফোনটা নতুন।
— নতুন?
— জি। তিন দিন আগে কেনা হয়েছে।
— কার নামে?
— ভুয়া পরিচয়ে।
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
— ফোনে কোনো সিম?
— নেই।
— তাহলে ভিডিওটা কীভাবে এসেছে?
— Wi-Fi দিয়ে ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
আরিফের চোখ সরু হয়ে গেল।
— বাড়ির Wi-Fi?
— জি।
— পাসওয়ার্ড কারা জানে?
কাদের বলল,
— বাড়ির সবাই।
আরিফ তার দিকে তাকালেন।
— সবাই?
— জি স্যার।
— আপনি?
— জি।
— ড্রাইভার?
— জি।
— গৃহকর্মী?
— জি।
— মেহরিন ম্যাডাম?
কাদের মাথা নেড়ে বলল,
— জি।
আরিফ বললেন,
— সামিউল সাহেব?
কাদের এবার থেমে গেল।
— স্যার... উনিও জানতেন।
আরিফ বুঝলেন—
খুনি চাইলে বাইরে থেকেও ফোনে ভিডিও
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। সামিউল যদি সত্যিই মৃত হন, ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছিল
২. ময়নাতদন্তদুপুর ১২টা।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট এল।
আরিফ রিপোর্টটা হাতে নিয়ে চুপ করে পড়ছিলেন।
মৃত্যুর সময রাত ১২টা ৪০ থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে।
বিষক্রিয়া নিশ্চিত।
কিন্তু আরও একটি বিষয় পাওয়া গেছে।
মৃত ব্যক্তির ডান হাতের নখের নিচে সামান্য ত্বকের কোষ।
অর্থাৎ মৃত্যুর আগে সে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেছিল।
আরিফ জিজ্ঞেস করলেন,
— DNA পাওয়া যাবে?
ফরেনসিক কর্মকর্তা বললেন,
— পাওয়া যেতে পারে।
— তাহলে পাঠাও।
— স্যার, আরেকটা বিষয় আছে।
— কী?
অফিসার একটি ছবি এগিয়ে দিল।
মৃত ব্যক্তির বাম কবজিতে হালকা কালচে দাগ।
যেন কোনো শক্ত জিনিস দিয়ে কিছুক্ষণ বাঁধা হয়েছিল।
আরিফ ছবিটা দেখলেন।
— এটা কি মৃত্যুর আগে?
— সম্ভবত।
— তাহলে লোকটাকে শুধু বিষ দেওয়া হয়নি।
অফিসার মাথা নাড়ল।
— মনে হচ্ছে কিছু সময়ের জন্য তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।
আরিফ ধীরে বললেন,
— অর্থাৎ খুনি তাকে কোথাও আটকে রেখে বিষ দিয়েছে, তারপর তাকে স্টাডিতে এনে বসিয়েছে।
অফিসার বলল,
— কিন্তু স্যার, সেটা কীভাবে সম্ভব?
আরিফ তাকালেন স্টা— স৩. সামিউলের পুরোনো ফাইল
বিকেল ৩টা।
আরিফ আবার মেহরিনকে ডাকলেন।
— আপনার স্বামীর লকার কোথায়?
— কেন?
— একটা পুরোনো ফাইল খুঁজছি।
মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর বললেন,
— বেডরুমে।
— চাবি?
মেহরিন নিজের ব্যাগ থেকে একটা ছোট চাবি বের করলেন।
লকার খুলতেই ভেতরে পাওয়া গেল কয়েকটি ফাইল।
ব্যাংকের কাগজ।
ব্যবসার দলিল।
কিছু পুরোনো ছবি।
আর একটি কালো ফোল্ডার।
ফোল্ডারের ওপর “R.K — 2023”
আরিফ থমকে গেলেন।
R.K.
রায়হান কবির।
তিনি ফোল্ডারটি খুললেন।
প্রথম পাতায় একটি ছবি।
ছবিতে একজন তরুণ।
তার রায়হান কবির।
পরের পাতায় একটি সংবাদপত্রের কাটিং।
শিরোন“ব্যবসায়ী রায়হান কবিরের রহস্যজনক মৃত্যু।”
মৃত্যুর তার১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩।
আরিফ নিচের লাইন পড়লেন।
“পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি আত্মহত্যা।”
তিনি ফাইলটা বন্ধ করলেন।
— আত্মহত্যা?
মেহরিন বললেন,
— তাই তো জানতাম।
আরিফ তার দিকে তাকালেন।
— আপনি রায়হানকে চিনতেন?
মেহরিনের মুখের রং বদলে গেল।
— না।
— নিশ্চিত?
— হ্যাঁ।
আরিফ টেবিলের ওপর একটি ছবি রাখলেন।
ছবিতে সামিউল আর রায়হান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে।
— তাহলে এই ছবিটা কী?
মেহরিন ছবির দিকে তাকিয়ে থাকলেন।
তারপর বললেন,
— ব্যবসার লোকজনের সঙ্গে ছবি থাকতেই পারে।
— আপনার স্বামী বলেছিলেন রায়হানকে তিনি চিনতেন না?
— আমি জানি না।
আরিফ এবার ফোল্ডারের শেষ পাতাটা খুললেন।
সেখা“রায়হান মারা যায়নি।”
মেহরিন হঠাৎ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
— এটা কে লিখেছে?
আরিফ বলল— সেটা আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পা৪. তিন বছর আগের রাত
সন্ধ্যা ৬টা।
আরিফ সামিউলের পুরোনো ফোনের ব্যাকআপ উদ্ধার করলেন।
একটি ডিলিট করা ভয়েস রেকর্ড।
সময১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রাত ১১টা ৪৭।
তিনি প্লে করলেন।
প্রথমে কিছু শব্দ শোনা গেল না।
তারপর সামিউলের কণ্ঠ—
“রায়হান, তুমি বুঝতে পারছ না। এটা দুর্ঘটনা ছিল।”
অন্য একজন পুরুষের কণ্ঠ—
“দুর্ঘটনা?”
সামিউল—
“আমি চাইনি এমন হোক।”
অপর ব্যক্তি হেসে বলল—
“তুমি চাইনি?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর—
“তুমি ওকে মেরেছ।”
রেকর্ডিং এখানেই শেষ।
আরিফ হেডফোন খুললেন।
তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মকর্তা বলল,
— স্যার, তাহলে রায়হানকে সামিউল হত্যা করেছিল?
আরিফ মাথা নাড়লেন।
— এখনও বলা যাবে না।
— কিন্তু কথাগুলো তো...
— কথাগুলো অনেক কিছু প্রমাণ করে। কিন্তু পুরো সত্যি নয়।
তিনি আবার রেকর্ডিং চালালেন।
এবার শেষ দুই সেকেন্ডে খুব ক্ষীণ একটা শব্টিক... টিক... টিক...
আরিফ হঠাৎ থামিয়ে দিলেন।
— এই শব্দটা কোথা থেকে আসছে?
অফিসার বলল,
— ঘড়ি?
আরিফ মাথা নাড়লেন।
— না।
তিনি রেকর্ডিংটি আরও জোরে চালালেন।
টিক...
টিক...
টিক...
তারপর দূরে একটি ট্রেনের হুইসেল।
আরিফ উঠে দাঁড়াল— রেকর্ডিংটা কোথায় করা হয়েছিল সেটা বের করতে৫. মেহরিনের গোপন কথা
রাত ৮টা।
বাড়ির সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেও মেহরিনকে আবার ডাকা হলো।
আরিফ এবার একা বসেছিলেন।
— আপনার স্বামীকে কে হত্যা করেছে আপনি জানেন?
মেহরিন তাকিয়ে রইলেন।
— না।
— আপনি মিথ্যা বলছেন।
মেহরিন চুপ।
— রায়হান কবিরের সঙ্গে আপনার কী সম্পর্ক ছিল?
মেহরিন এবার চোখ নামিয়ে ফেললেন।
— ছিল।
— কী সম্পর্ক?
অনেকক্ষণ পর তিনি বললেন,
— রায়হান আমার ভাই ছিল।
আরিফ চুপ হয়ে গেলেন।
— কী?
— ছোট ভাই।
— কিন্তু আপনার পদবি আলাদা কেন?
— আমাদের বাবা-মা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। রায়হান মায়ের সঙ্গে ছিল। আমি বাবার সঙ্গে।
আরিফ ধীরে বললেন,
— সামিউল জানত?
— হ্যাঁ।
— আর রায়হানের মৃত্যুর জন্য সামিউল দায়ী?
মেহরিন চোখ মুছে বললেন,
— সামিউল একা দায়ী ছিল না।
— তাহলে কারা ছিল?
মেহরিন কোনো উত্তর দিলেন না।
আরিফ বললেন,
— আপনার ভাইকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছিল?
মেহরিন এবার ফিসফিস করে বললেন,
— ও একটা গোপন হিসাব খুঁজে পেয়েছিল।
— কীসের হিসাব?
— সামিউলের কোম্পানির।
— তারপর?
— রায়হান বলেছিল, সে সবকিছু প্রকাশ করবে।
— তাই তাকে হত্যা করা হয়?
মেহরিন মাথা নেড়ে বললেন,
— হ্যাঁ।
— কে হত্যা করেছিল?
মেহরিন এবার আরসামিউল নয়।
আরিফ সামনে ঝুঁকলেন।
— তাহলে কে?
মেহরিন বললেন,
আমি জানি না।
৬. মৃত রায়হানের ফোনরাত ১০টা ১২।
আরিফ নিজের অফিসে ফিরে এলেন।
রায়হান কবিরের পুরোনো কল রেকর্ড বের করা হলো।
শেষ ফোনকল১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রাত ১১টা ৫৯।
নম্বরটি পরিচিত।
আরিফ নম্বরটি দেখে থমকে গেলেন।
নম্বরটি সামিউল করিমের।
অর্থাৎ রায়হান মারা যাওয়ার ঠিক এক মিনিট আগে সামিউলের সঙ্গে কথা বলেছিল।
কিন্তু আরও অদ্ভুত ব্যাপার ছিল।
সেই কলের দৈর্ঘ৪৭ মিনিট ১৩ সেকেন্ড।
আর রায়হানের মৃত্যুর সরকারি সময়—
রাত ১২টা ১৫।
অর্থাৎ রায়হান মারা যাওয়ার সময় পর্যন্ত সামিউলের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিল।
তাহলরায়হানকে কে হত্যা করেছিল?আর সামিউল ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছিল?৭. অচেনা সাক্ষী
রাত ১১টা ৪৮।
আরিফের ফোন বেজে উঠল।
অপরিচিত নম্বর।
— হ্যালো?
একজন বৃদ্ধের কণ্ঠ।
— আপনি গোয়েন্দা আরিফ রহমান?
— বলুন।
— সামিউল করিমের ব্যাপারে তদন্ত করছেন?
— হ্যাঁ।
— তাহলে রায়হানের ব্যাপারে আপনাকে একটা কথা বলতে হবে।
আরিফ উঠে দাঁড়ালেন।
— আপনি কে?
— আমি রায়হানের বাড়ির পাশের বাড়িতে থাকতাম।
— আপনি কী দেখেছিলেন?
বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— সেদিন রাতে রায়হানকে একটা কালো গাড়িতে উঠতে দেখেছিলাম।
— কে গাড়ি চালাচ্ছিল?
— মুখ দেখিনি।
— গাড়ির নম্বর?
— মনে নেই।
— আর কিছু?
— হ্যাঁ।
— কী?
বৃদ্ধের কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— গাড়ির পেছনের সিটে আরেসামিউল করিম।
আরিফ বললেন,
— আপনি নিশ্চিত?
— একশো ভাগ।
— তাহলে পুলিশকে বলেননি কেন?
ওপাশে দীর্ঘ নীরবতা।
তারপর বৃদ্ধ বললেন,
— কারণ পরের দিন সকালে আমার দরজার নিচে একটা ছবি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
— কীসের ছবি?
— আমার নাতির।
আরিফের বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।
— হুমকি?
— হ্যাঁ।
— ছবির পেছনে কী লেখা ছিল?
বৃদ্ধ ধীরে“যা দেখেছ, ভুলে যাও।”
কল কেটে গেল।
৮. সামিউলের দ্বিতীয় ভিডিওরাত ১টা ৩ মিনিট।
আরিফ অফিসে বসে রায়হানের পুরোনো ফাইল দেখছিলেন।
হঠাৎ কম্পিউটারে একটি নোটিফিকেশন এলNew video received.
প্রেরক—
UNKNOWN DEVICE
আরিফ ভিডিওটি খুললেন।
আবার সেই ঘর।
আবার সামিউল।
কিন্তু এবার সামিউল আগের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত।
সে বলছে—
“আরিফ রহমান... যদি তুমি এই ভিডিও দেখো, তাহলে বুঝবে প্রথম ভিডিওটা তোমাকে ইচ্ছা করেই দেখানো হয়েছিল।”
আরিফ স্থির হয়ে গেলেন।
সামিউল বলল—
“তোমাকে এই মামলায় আনা হয়েছে কারণ তুমি তিন বছর আগে রায়হানের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসার ছিলে।”
আরিফের চোখ বড় হয়ে গেল।
তিনি আস্তে বললেন,
— কী?
সামিউল আবার বলল—
“তুমি হয়তো সেটা মনে করতে পারবে না।”
ভিডিওতে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর—
“কারণ সেই রাতের পর তোমার স্মৃতি থেকে কিছু অংশ মুছে দেওয়া হয়েছিল।”
আরিফ চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
— অসম্ভব।
সামিউল বলল—
“তুমি রায়হানের লাশ প্রথম দেখেছিলে।”
“তুমি ঘটনাস্থলে ছিলে।”
“আর তুমি এমন একটা জিনিস দেখেছিলে, যা তোমার দেখা উচিত ছিল না।”
ভিডিওতে সামিউল হঠাৎ ক্যামেরার খুব কাছে চলে এল“রায়হান সেদিন মারা যায়নি।”
স্ক্রিনে কয়েক সেকেন্ড শুধু সামিউলের মুখ।
তারপর সে বলল—
“যে লাশটা তুমি দেখেছিলে...”
সে থামল।
“...সেটা রায়হানের ছিল নভিডিও শ৯. পুরোনো মামলা
আরিফ সঙ্গে সঙ্গে নিজের পুরোনো সার্ভিস রেকর্ড বের করলেন।
রায়হান কবিরের মৃত্যুর তদন্ত।
নথিতে তার স্বাক্ষর আছে।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার নাম।
ঘটনাস্থলের ছবিতে তার উপস্থিতি।
সবকিছু ঠিক।
কিন্তু একটি বিষয় অস্বাভাঘটনাস্থলের মূল ছবি নেই।
ফাইলে লেখা—
“Photographic evidence transferred to central archive.”
আরিফ কেন্দ্রীয় আর্কাইভে ফোন করলেন।
— রায়হান কবির কেসের মূল ছবি চাই।
ওপাশ থেকে উত্তর এল—
— স্যার, ওই ফাইলের ছবি নেই।
— নেই মানে?
— আর্কাইভে শুধু আপনার তদন্ত রিপোর্ট আছে।
— ছবি?
— হারিয়ে গেছে।
আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
ঠিক তখন তার ডেস্কের ওপর একটি খাম এসে পড়ল।
কেউ দরজায় ছিল না।
তিনি খামটি খুললেন।
ভেতরে একটি মাত্র ছবি।
পুরোনো।
ধূসর।
ছবিতে একটি মৃতদেহ পড়ে আছে।
চারপাশে পুলিশ।
এক পাশে দাতরুণ গোয়েন্দা আরিফ রহমান।
আর তার পাশে—
একজন লোক।
লোকটির মুখ ছবিতে স্পষ্ট।
আরিফ ছবিটা দেখে জমে গেলেন।
লোকটিসামিউল করিম।
কিন্তু ছবির পেছনে লেখা তারিখ—
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
অর্থাৎ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনাস্থলে সামিউল নিজে উপস্থিত ছিল।
আরিফ ছবিটা উল্টে দেখলেন।
পেছনে লাল কালিতে লেখা—“তুমি সব দেখেছিলে, আরিফ। শুধু মনে নেই।”
১০. শেষ দরজা
রাত ২টা ১৭।
ঠিক সেই সময়।
তিন বছর আগে রায়হানের মৃত্যুর সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।
আরিফের ফোন বেজে উঠল।
UNKNOWN NUMBER।
তিনি রিসিভ করলেন।
কেউ কথা বলল না।
শুধু দূরে ট্রেনের শব্দ।
টিক...
টিক...
টিক...
তারপর একজন পুরুষের কণ্ঠ—
— আপনি কি জানতে চান রায়হান এখন কোথায়?
আরিফ বললেন,
— হ্যাঁ।
— তাহলে আগামীকাল রাত ১১টায় পুরোনো রেলওয়ে গুদামে আসবেন।
— তুমি কে?
— যাকে আপনি তিন বছর আগে মৃত ঘোষণা করেছিলেন।
আরিফের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— রায়হান?
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।“না।”
কল কেটে গেল।
আরিফ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর স্ক্রিনে একটি ছবি এল।
একজন মানুষ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু তার হাতে—
একটি পুরোনো ঘড়ি।
আরিফ ঘড়িটা চিনতেওটা রায়হান কবিরের ঘড়ি।
তিন বছর আগে লাশের কবজি থেকে যে ঘড়িটা তিনি নিজ হাতে খুলেছিলেন।
আরিফ ছবিটা জুম করলেন।
ছবির নিচে “আগামীকাল দেখা হবে, গোয়েন্দা।”
আরিফ তখনও জানতেন না—
পরের রাতের সেই সাক্ষাৎ তার নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যের দরজা খুলে দেবে।
কারণ রেলওয়ে গুদামে যে মানুষটি তার অপেক্ষাসে রায়হান কবির নয়।
সে এমন একজন—
যাকে আরিফ তিন বছর ধরে মৃত বলে জানতেন।
আর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যিসেই মানুষটি ছিল আরিফের নিজের অতীতের অংশ।
পর্ব ২ সমাপ্ত
হয় লেখ পার
তারপর
—ঁড়িয়বিা।”
।
তারপর ফিসফিস । বললকজন ছিল।
ে প্র্য——িফের দিকে তাকালেন।েন।
দ শোনা়েন,
নে হাতেিখামামলেখডির দরজার দিকে।
়
? পাঠাতে পারে।
বললেন,
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!