ধুলোর শহরে ওমর শরীফ
দুপুরের রোদে পশ্চিমের ছোট্ট শহরটা যেন আগুনে পুড়ছিল। চারদিকে ধুলো, কাঠের তৈরি দোকান আর রাস্তার দুই পাশে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়ার গাড়ি। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল ঘোড়ার খুরের শব্দ।
ওমর শরীফ ধীরে ধীরে শহরে ঢুকলেন। মাথায় টুপি, গায়ে ধুলো-মাখা কোট, কোমরে পিস্তল। তাঁর চোখে ছিল এমন এক শান্ত দৃষ্টি, যেন ঝড় আসার আগের নিস্তব্ধতা।
বারের দরজা খুলতেই ভেতরের আড্ডা থেমে গেল।
শহরের কুখ্যাত বন্দুকবাজ টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াল।
— “এ শহরে নতুন মানুষ বেশিদিন টেকে না।”
শরীফ ঠান্ডা গলায় বললেন,
— “আমি টিকে থাকার জন্য আসিনি। হিসাব মেটাতে এসেছি।”
কথা শেষ হতেই চারপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। এক মুহূর্তের জন্য সবাই স্থির। তারপর শুরু হলো দ্রুত ড্র।
দুজনের হাত পিস্তলের দিকে ছুটল। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি গুলির শব্দে নীরব শহর কেঁপে উঠল। কিন্তু শরীফের লক্ষ্য ছিল শুধু প্রতিপক্ষকে থামানো—অযথা কাউকে আঘাত করা নয়।
এরপর শুরু হলো হাতাহাতি। টেবিল উল্টে গেল, চেয়ার ছিটকে পড়ল, আর বারজুড়ে শুরু হলো ধস্তাধস্তি। শরীফ একের পর এক আক্রমণ সামলে শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে মাটিতে ফেলে দিলেন।
ঘরটা আবার নিস্তব্ধ।
শরীফ পিস্তলটা কোমরে গুঁজে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।
বাইরে তখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে।
ঘোড়ায় চড়ে তিনি শহর ছাড়তে ছাড়তে শুধু একবার পেছনে তাকালেন।
ধুলোর শহর আবার শান্ত।
কিন্তু সবাই জানত—
ওমর শরীফ যেখানে যান, সেখানে গল্পের শেষটা কখনো সাধারণ হয় না।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!