বিয়ের পর দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেল। কিন্তু সেই নেককার দম্পতির ঘরে কোনো সন্তান হলো না। দীর্ঘ ১৫ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে আল্লাহ তাআলা তাদের একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান দিলেন।
সন্তান পেয়ে তারা অনেক খুশি হলেন। তবে বয়সের কারণে তাদের মনে একটা চিন্তাও ছিল, তারা যদি না থাকেন, তাহলে এই সন্তানকে কে দেখবে? কিন্তু তারা আল্লাহর ওপর ভরসা করলেন। তারা বললেন, যিনি এত বছর পর আমাদের সন্তান দিয়েছেন, তিনিই আমাদের সন্তানকে হেফাজত করবেন।
একদিন গভীর রাতে তাদের দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। দরজা খুলে দেখলেন, প্রতিবেশী মায়মুন দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে পানি, মুখে অসহায়ত্ব।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “ভাই, ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার ওপর এক হাজার দিনারের ঋণ হয়েছে। পাওনাদার আমাকে বিচারকের কাছে নিয়ে যাবে, জেলে পাঠাবে।”
নেককার লোকটি একটুও দেরি করলেন না। ঘরে থাকা পুরো এক হাজার দিনার বের করে মায়মুনের হাতে দিয়ে বললেন, “এই টাকা নাও। তোমার বিপদে কাজে লাগাও। এক মাস পর পারলে ফেরত দিও।”
মায়মুন টাকা নিয়ে চলে গেল। কিন্তু এই সাহায্য তার মনকে ভালো করল না। বরং তার মনে লোভ ঢুকে গেল। সে ভাবল, “যে মানুষ এত সহজে এক হাজার দিনার দিয়ে দিতে পারে, তার ঘরে নিশ্চয়ই আরও অনেক টাকা আছে।”
শয়তানের প্ররোচনায় সে তাদের ঘরে চুরি করার পরিকল্পনা করল। কিন্তু কীভাবে তাদেরকে ঘর থেকে বের করা যায়, সেটাও সে ভেবে নিল।
এক রাতে সে চুপিচুপি তাদের ছোট্ট শিশুটিকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাগানের এক পাশে রেখে এল। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্না শুরু করল। সেই কান্না শুনে বাবা-মা ঘুম থেকে উঠে ছুটে গেলেন বাগানের দিকে। তারা তখনও জানতেন না, এই ঘটনাই তাদের জীবন বাঁচাতে যাচ্ছে।
তারা ঘর থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ছাদ ধসে পড়ল। সন্তানকে কোলে নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-মা চোখের সামনে নিজেদের ঘর ভেঙে পড়তে দেখলেন।
তখন তারা বুঝতে পারলেন, আর কিছুক্ষণ যদি তারা ঘরের ভেতরে থাকতেন, তাহলে হয়তো আজ তাদের পুরো পরিবারই মারা যেত। তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একজনের কাতর আওয়াজ শোনা গেল, “বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও!” তারা দ্রুত ধ্বংসস্তূপ সরাতে লাগলেন। আর একটু পর যা দেখলেন, তাতে তারা অবাক হয়ে গেলেন। নিচে চাপা পড়ে আছে তাদেরই প্রতিবেশী মায়মুন।
তখন পুরো ঘটনা পরিষ্কার হয়ে গেল। মায়মুনই তাদের সন্তানকে বাগানে রেখে এসেছিল, যাতে শিশুর কান্না শুনে বাবা-মা ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আর তারা বের হওয়ার পর সে চুরি করার জন্য ঘরে ঢুকেছিল।
কিন্তু আল্লাহর কুদরত দেখুন, যে ষড়যন্ত্র করে সে পরিবারটিকে ঘর থেকে বের করেছিল, সেই ষড়যন্ত্রই উল্টো তাদের জীবন বাঁচিয়ে দিল।
আর যে মানুষটি অন্যের সম্পদ চুরি করতে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সে নিজেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ল।
নেককার লোকটি চাইলে মায়মুনকে শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। বরং তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করলেন।
মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে যত পরিকল্পনাই করুক, আল্লাহ চাইলে সেই পরিকল্পনাই আমাদের জন্য কল্যাণের কারণ হয়ে যেতে পারে। তাই বিপদে পড়ে কখনো আল্লাহর ওপর থেকে ভরসা হারাবেন না।
কারণ আমরা সামনে যা দেখি, আল্লাহ তার চেয়েও অনেক বেশি জানেন। তিনি তাঁর বান্দার জন্য কোথা থেকে কীভাবে সাহায্য পাঠাবেন, আমরা তা কখনোই জানি না।
- আরবি থেকে অনূদিত
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!