ঐতিহাসিক রহস্য
এখানে একটা দারুণ ঐতিহাসিক রহস্য আছে। মানুষ একদিনে জানতে পারেনি যে পৃথিবী ঘুরছে। ধারণাটি বহু শতাব্দী ধরে তৈরি হয়েছে, কিন্তু সরাসরি পরীক্ষায় পৃথিবীর ঘূর্ণন দেখানো যায় অনেক পরে।
এখানে একটা দারুণ ঐতিহাসিক রহস্য আছে। মানুষ একদিনে জানতে পারেনি যে পৃথিবী ঘুরছে। ধারণাটি বহু শতাব্দী ধরে তৈরি হয়েছে, কিন্তু সরাসরি পরীক্ষায় পৃথিবীর ঘূর্ণন দেখানো যায় অনেক পরে।
এক লোক নদীর তীরে বাস করত। তার তিনটি নৌকা ছিল। প্রথম নৌকাটি ছিল অনেক দামি কাঠের তৈরি, নানা রঙে সাজানো। লোকটি সারাদিন এই নৌকাটি ঘষেমেজে চকচকে রাখত।
সূর্য শান্ত থাকলে পৃথিবীতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু সূর্যে মাঝে মাঝে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় — যাকে বলে সৌরঝড়। এই ঝড় মহাকাশে আর পৃথিবীতে এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা কল্পনাও করা কঠিন।
শুনতে মজার লাগলেও পরিণতি হবে অনেক জটিল। পৃথিবীর আকার বদলালে শুধু জায়গা বাড়বে না — সবকিছু বদলে যাবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসবে মাধ্যাকর্ষণে। পৃথিবী দ্বিগুণ বড় হলে ভর বাড়বে অনেক বেশি — মাধ্যাকর্ষণ হবে এখনকার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।
পৃথিবী যদি সূর্যের কাছাকাছি হতো পৃথিবী এখন সূর্য থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে। এই দূরত্ব এতটাই নিখুঁত যে বিজ্ঞানীরা একে বলেন "গোল্ডিলক্স ডিস্ট্যান্স" — না বেশি গরম, না বেশি ঠান্ডা, একদম ঠিকঠাক। কিন্তু যদি পৃথিবী আরেকটু কাছে হতো, তাহলে কী হতো?
আমাদের এই মহাবিশ্বের ঠিক ওপাশেই কি লুকিয়ে আছে এমন এক অদৃশ্য জগৎ, যেখানে সময় সামনের দিকে নয়—বরং পেছনের দিকে বয়ে চলে?
এটাই দুনিয়ার পরীক্ষা। দুনিয়ার পরীক্ষা আসলে এমনই। পরীক্ষা সবসময় বড় কিছু দিয়ে শুরু হয় না। কখনো পরীক্ষা আসে একটি রুটি হয়ে। কখনো সামান্য কিছু টাকা হয়ে। কখনো একটি সুযোগ হয়ে। কখনো রূপ হয়ে। নামধাম হয়ে। সেলিব্রেটি হয়ে।
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও আলে মুহাম্মদের ওপর দরুদ প্রেরণ করুন এবং তাঁদের সম্মানিত ফারাজকে ত্বরান্বিত করুন। নূরানি মেরাজ ও বেলায়াতের আলোকে আরও গভীর এক ইরফানি-অনুমানভিত্তিক গবেষণা। 🌌 আরও গভীর ভূমিকা: সিদরা কোনো স্থান নয়; বরং এটি দুই পর্যায়ের মধ্যকার “বিভাজন-বিন্দু” আহলে বাইত (আ.)-এর ভাষায় “আল-মুনতাহা” (المنتهى) মানে সমাপ্তি নয়; বরং এটি হলো “রূপান্তরের বরযখ” বা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সীমা। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
একটি বিশাল গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করেছিল — আর সেই আঘাতের ফলেই পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছিল ডাইনোসর। এটি বিজ্ঞানের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর গল্পগুলোর একটি।
জাহান্নামের আগুনে পোড়া মানুষদের শরীর থেকে গলে পড়া পুঁজ, রক্ত, ঘাম আর চোখের পানির এক ভয়ংকর মিশ্রণ হলো এই গাসসাক। এটি একইসাথে টগবগে ফুটন্ত এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডা!
মিসরে যখন অত্যাচারের রাত দীর্ঘ হয়ে গেল, তখন আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন রাতের অন্ধকারে বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান।
সামিউল করিমের ল্যাপটপের স্ক্রিনে ভিডিওটি তখনও চলছে। ভিডিওতে সামিউল জীবিত। সে একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে। সামনে ক্যামেরা। মুখে ক্লান্তি, চোখে ভয়। পেছনে কোনো জানালা নেই। দেয়ালটাও অচেনা। সামিউল ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে—
বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ শুধু একজন জনপ্রিয় লেখক নন—তিনি বাংলাদেশের পাঠকসংস্কৃতি, টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্রে এক ধরনের স্বতন্ত্র যুগ তৈরি করেছিলেন। তাঁর গল্পের মানুষগুলো ছিল খুব সাধারণ—মধ্যবিত্ত পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, নিঃসঙ্গ মানুষ, অদ্ভুত স্বভাবের মানুষ—কিন্তু তাঁদের জীবনকে তিনি এমনভাবে লিখতেন যে পাঠক নিজের জীবনকে সেখানে খুঁজে পেতেন।
রাত তখন ২টা ১৭ মিনিট। ঢাকার আকাশে বৃষ্টি হচ্ছিল। সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি—একটানা, বিরক্তিকর, অথচ অদ্ভুতভাবে শান্ত। রাস্তার বাতিগুলো বৃষ্টির পর্দার ওপারে ঝাপসা হয়ে আছে। মাঝেমধ্যে কোনো গাড়ি চলে গেলে ভেজা রাস্তায় হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে পড়ছে। ধানমন্ডির একটি পুরোনো কিন্তু বিলাসবহুল বাড়ির সামনে পুলিশের গাড়ি থামল।
কখনো কি ভেবেছেন, যে পৃথিবীকে আপনি "বর্তমান" বলেন, সেটি কি সত্যিই "বর্তমান"? আপনি যখন রাতে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকান, অথবা সকালে সূর্যের প্রথম কিরণ অনুভব করেন, তখন আসলে আপনি "এখন"-কে দেখছেন না; আপনি দেখছেন "অতীত"-কে।
সূর্যের আলো সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ এবং নিকটতম নক্ষত্রটিতে পৌঁছাতে ঠিক কত সময় নেয়, তার একটি চমৎকার বিবরণ এই ইনফোগ্রাফিকটিতে তুলে ধরা হয়েছে:বুধ: সূর্যের আলো বুধ গ্...
আপনার ডিএনএ কেবল কোনো জৈবিক অংশ নয়, এটি আসলে ৪ বিলিয়ন বছরের পুরনো একটি হার্ডড্রাইভ!
মহাবিশ্বের শেষ সীমা: যেখানে ভেঙে পড়ে স্থান-কালের মসৃণ চাদর!মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি হলো স্থান-কাল (Space-time)। সাধারণভাবে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার ত...
বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। এ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে মসজিদ গভীরভাবে সম্পর্কিত। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আধুনিক শহর—সবখানেই ছোট-বড় অসংখ্য মসজিদ দেখা যায়। মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
১৯৫০-এর দশকে ঢাকা দ্রুত সম্প্রসারিত হতে থাকে। পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মধ্যবর্তী এলাকায় জনসংখ্যা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ছিল। এই পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লির জন্য একটি বড় মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
ঢাকার ব্যস্ত শহরের এক ছোট্ট ক্যাফেতে প্রায়ই বসত পাঁচ বন্ধু আরিফ, সিয়াম, তানভীর, রাহাত ও মেহেদ। আড্ডা, চা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় স্বপ্ন—এই ছিল তাদের নিয়মিত রুটিন। একদিন রাহাত মোবাইলের স্ক্রিনে কয়েকটি সবুজ-লাল ক্যান্ডেল দেখিয়ে বলল, —“জানো, এগুলো দিয়ে মানুষ নাকি টাকা কামায়?” তানভীর হেসে বলল, —“তাহলে আমরাও কামাব!”
ভাদ্র মাস এলেই আমাদের গ্রামের চেহারা বদলে যেত। চারদিকে কাঁচা-পাকা তালের গন্ধ, পুকুরের ধারে ব্যাঙের ডাক, আর সন্ধ্যা নামলেই ঝিঁঝিঁ পোকার কনসার্ট। তবে এসবের চেয়েও বড় আতঙ্ক ছিল গ্রামের পশ্চিমপাড়ার সেই বিশাল তালগাছটা। লোকমুখে শোনা যায়, গাছটার মাথায় নাকি একটা ভূত থাকে।
শীতের রাত। চারপাশে ঘন কুয়াশা এমনভাবে নেমেছে যে, পাঁচ-দশ হাত দূরের জিনিসও ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। গ্রামের মেঠোপথটা দিনের বেলায় যতটা পরিচিত, রাতে সেটাই যেন অচেনা হয়ে যায়।
পুরান ঢাকার পাড়াগুলো এমনিতেই একটু অন্যরকম। সরু গলি, মাথার ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার, পুরোনো দালানের বারান্দা, গলির মুখে চায়ের দোকান—আর বিকেল হলেই একসঙ্গে দশ রকম শব্দ।
শুক্রবার সন্ধ্যা হলেই আমাদের বন্ধুদের মধ্যে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা শুরু হয়ে যায়। কারণ সেদিন কারও বাড়ির ছাদে, কারও ড্রয়িংরুমে বসে জমে ওঠে আমাদের বহু পুরোনো তাসের আড্ডা।
চা ছাড়া একদিনও চলে না—এমন মানুষ পৃথিবীতে কম নেই। কারও সকাল শুরু হয় এক কাপ চায়ে, কারও দুপুরের ক্লান্তি কাটে চায়ে, আবার কারও কাছে সন্ধ্যার চা মানেই দিনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। তবে চা শুধু একটি পানীয় নয়; চা অনেকের কাছে একটা অনুভূতি, একটা অভ্যাস, কখনোবা এক টুকরো বন্ধুত্ব। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কত কথা যে বলা যায়, তার কোনো হিসাব নেই। রাজনীতি থেকে প্রেম, ফুটবল থেকে সিনেমা, অফিসের বস থেকে পাড়ার খবর—সবকিছুরই যেন একটা না একটা সম্পর্ক আছে চায়ের সঙ্গে। আর সত্যি বলতে কী, একা একা চা খাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু চায়ের আসল স্বাদ যেন পাওয়া যায় প্রিয় বন্ধু আর আপন মানুষদের সঙ্গে বসে।
দুপুরের রোদে পশ্চিমের ছোট্ট শহরটা যেন আগুনে পুড়ছিল। চারদিকে ধুলো, কাঠের তৈরি দোকান আর রাস্তার দুই পাশে নীরব দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়ার গাড়ি। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল ঘোড়ার খুরের শব্দ। ওমর শরীফ ধীরে ধীরে শহরে ঢুকলেন। মাথায় টুপি, গায়ে ধুলো-মাখা কোট, কোমরে পিস্তল। তাঁর চোখে ছিল এমন এক শান্ত দৃষ্টি, যেন ঝড় আসার আগের নিস্তব্ধতা।
বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল, হাওর, বাঁওড় ও অসংখ্য জলাশয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ। এ দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মাছ ও মাছ চাষের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একসময় মাছের প্রধান উৎস ছিল প্রাকৃতিক জলাশয়। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলাশয় কমে যাওয়া, অতিরিক্ত মাছ আহরণ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক উৎস থেকে মাছের সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিকল্পিত মাছ চাষের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে পুকুর, ডোবা, ঘের, বিল, খাল এবং অন্যান্য জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিণত হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত পোনা, মানসম্মত খাদ্য, পানির গুণাগুণ নি
গেম খেলা নিজে খারাপ কিছু নয়। বরং সীমিত সময়ের গেম বিনোদন, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে পারে। কিন্তু যখন গেম আমাদের সময়, পড়াশোনা, পরিবার, ঘুম, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন দায়িত্বের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে, তখন সেটি আসক্তির দিকে যেতে পারে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিশাল একটি অংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। বিশেষ করে ফরিদপুর, কুড়িগ্রাম ও চরাঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে প্রতি বছর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই চিরন্তন দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গ্রামীণ মানুষ এখন নিজস্ব প্রকৌশল ও বিজ্ঞানসম্মত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যার মধ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং কার্যকর সমাধান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে "প্লাস্টিক ড্রামের ভাসমান ঘর" বা অ্যামফিবিয়াস হাউজিং (Amphibious Housing)।
একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হলো। মায়া মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছে। সেদিন সে বাবার পুরোনো সেই চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে একটা কাগজ রাখল। কাগজে লেখা— “আব্বু, আমি পেরেছি।” তার পাশে ছিল একটা চকোলেট। সালমা দূর থেকে মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন। মায়া চেয়ারের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, —“আব্বু, আজকে আমি তোমার জন্য চকোলেট আনছি।” তারপর সে চকোলেটটা চেয়ারের ওপর রেখে দিল। বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিনের চালে টুপটাপ শব্দ। সেই একই শব্দ—
কেউ আবার এমন কিছু করতে চায়, যার নামই তার বাবা-মা আগে কখনো শোনেননি। আর এখানেই শুরু হয় দ্বন্দ“তুমি কী হতে চাও?”এই প্রশ্নটা শুনতে খুব সহজ। কিন্তু একজন ১৫–১৬ বছরের ছেলের কাছে প্রশ্নটা মোটেও সহজ নয়। সে হয়তো এখনো জানেই না সে কী করতে চায়। তার কাছে পৃথিবীটা এখনো অনেক বড়। কিন্তু পরিবার বলছে—
আব্বু, আজকে ফেরার সময় আমার জন্য একটা চকোলেট আনবা?” জালাল সাহেব হেসে বলতেন, “চকোলেট একটা না এনে, যদি দুইটা আনি?” মায়া চোখ বড় বড় করে বলত, —“তাহলে তুমি পৃথিবীর সেরা আব্বু!”
যদি নিজের ব্যাথা টের পাও তাহলে তুমি জীবিত। যদি অন্যের ব্যাথা টের পাও তবে তুমি মানুষ !
ঘরের ভেতরে একটা পুরোনো খাট। একটা কাঠের আলমারি। দেওয়ালে ধুলো পড়া একটা আয়না। আর জানালার পাশে একটা ছোট টেবিল। টেবিলের ওপর একটা শুকিয়ে যাওয়া ফুলের মালা। আদিবা দরজার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ সে বলল, —“ওখানে।”
আমরা চাই না গ্রাম পিছিয়ে থাকুক, আবার চাই না গ্রামের পরিচয় হারিয়ে যাক। এমন ভবিষ্যৎ চাই যেখানে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা ভালো পড়াশোনা, চিকিৎসা, ইন্টারনেট সবকিছু গ্রামেই পাবে। কৃষক তার ন্যায্য দাম পাবে, তরুণরা গ্রাম থেকেই কাজ করতে পারবে। কিন্তু একই সঙ্গে পুকুর, খাল, গাছ, মাঠ, পাখি, কৃষিজমি—সবই থাকবে, থাকবে সেই পরিচিত গ্রামবাংলার গন্ধ।
নুসরাতের বুক কেঁপে উঠল।—“কে?” আরিফ বলল, —“লায়লা।” ঠিক তখনই ভেতর থেকে একটা শব্দখস... যেন কেউ দরজার ঠিক ওপাশে দাঁড়িয়ে কাপড় ঘষছে। তারপর খুব আস্তে একটা মেয়েলি গলা—“আরিফ...” নুসরাতের হাত বরফ হয়ে গেল। আরিফ চাবি ঘোরাতে যাচ্ছিল। নুসরাত সর্বশক্তি দিয়ে তার হাত টেনে ধরল। —“না!” হঠাৎ দরজার ওপাশ থেকে জোরে ধাক্কা এল। ধাম! দুজনেই পিছিয়ে গেল। আবার— ধাম!
নুসরাত তখনও ব্যাপারটা গুরুত্ব দেয়নি। শিশুর কল্পনা। এটাই ভেবেছিল। সেদিন রাত সাড়ে বারোটার দিকে প্রথম শব্দটা হলো। ঠক। নুসরাত ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ল। আরিফ তখনও ঘুমাচ্ছে। আবার শব্দ হলো। ঠক... ঠক...
একজন মানুষ রাতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তুমি দেখলে—সে কারও জন্য অপেক্ষা করছে। অন্যজন দেখল—সে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে।