রাসূল ﷺ সতর্ক করে বলেছেন, "যদি জাহান্নামীদের শরীর থেকে নির্গত ’গাসসাক’ এর মাত্র এক বালতি এই দুনিয়াতে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে এর দুর্গন্ধে গোটা পৃথিবীর সব মানুষ টিকতে না পেরে ধ্বংস হয়ে যাবে।" (মুস্তাদরাকে হাকেম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ)
এই 'গাসসাক' আসলে কী?
জাহান্নামের আগুনে পোড়া মানুষদের শরীর থেকে গলে পড়া পুঁজ, রক্ত, ঘাম আর চোখের পানির এক ভয়ংকর মিশ্রণ হলো এই গাসসাক। এটি একইসাথে টগবগে ফুটন্ত এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডা!
জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবে পুড়ে যখন তৃষ্ণায় মানুষের ছটফটানি শুরু হবে, তখন এক ফোঁটা পানির জন্য তারা পাগলের মতো আর্তনাদ করতে থাকবে।
আর ঠিক তখনই তাদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য মুখের সামনে তুলে দেওয়া হবে এই জঘন্য, চরম দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ আর রক্তের পেয়ালা! বাধ্য হয়ে গলার ভেতর দিয়ে সেটাই তাদের গিলে খেতে হবে।
অথচ আজ দুনিয়াতে আমরা কত অহংকার নিয়ে চলি! দামি সুগন্ধি মেখে বুক ফুলিয়ে জমিনে হাঁটি। চোখের গুনাহ, অন্যের হক মেরে খাওয়া বা মানুষের সাথে অন্যায় আচরণ করতে আমাদের বুক একটুও কাঁপে না।
আমরা কি ভুলে গেছি, আমাদের এই শরীরটা সামান্য একটা মশার কামড় বা এক ফোঁটা গরম তেলও সহ্য করতে পারে না? সেখানে এই ভয়াবহ গাসসাক আমরা কীভাবে সহ্য করব?
জাহান্নামের আগুনে পড়ার পর হাজার বছর রক্ত কান্না কাঁদলেও কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ, এই দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে আল্লাহর ভয়ে অনুতপ্ত হয়ে এক ফোঁটা চোখের পানিই জাহান্নামের সেই আগুনকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে পারে।
ইয়া রব! আমাদের এই দুর্বল শরীর জাহান্নামের আজাব সইবার মতো বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখে না। আমাদের সব অপরাধ আপনি ক্ষমা করে দিন। মৃত্যুর আগেই আমাদের খাঁটি তওবা করার তাওফিক দিন এবং জাহান্নামের ভয়াবহ আযাব থেকে আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন
Salman Farsi
তথ্যসূত্র: উমদাতুল ক্বারী
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!