অটিজম কী?
অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) হলো একটি স্নায়ুবিকাশজনিত অবস্থা, যেখানে শিশুর , সামাজিক যোগাযোগ , আচরণ ও শেখার ধরনে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে। এর লক্ষণ ও মাত্রা একেক শিশুর ক্ষেত্রে একেক রকম।২-৩ বছরের মধ্যে এটি প্রকাশ পায়।অটিজমের কারণ
অটিজমের একটি নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জিনগত কারণ — বংশগত বা জিনের পরিবর্তনের ভূমিকা থাকতে পারে।
মস্তিষ্কের বিকাশের ভিন্নতা।
গর্ভকালীন কিছু জটিলতা বা ঝুঁকি।
পরিবারে অটিজমের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।
বিভিন্ন জিনগত ও পরিবেশগত কারণের সম্মিলিত প্রভাব থাকতে পারে।
অটিজমের লক্ষণ
চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করতে অসুবিধা।
নাম ধরে ডাকলে সবসময় সাড়া না দেওয়া।
কথা বলতে দেরি হওয়া বা যোগাযোগে অসুবিধা।
অন্যের সঙ্গে খেলতে বা সামাজিকভাবে মিশতে অসুবিধা।
একই কাজ বারবার করা বা একই ধরনের আচরণ করা।
রুটিন পরিবর্তন হলে অস্বস্তি বা বিরক্তি প্রকাশ করা।
কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা খেলনার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ।
শব্দ, আলো, স্পর্শ বা গন্ধের প্রতি বেশি বা কম সংবেদনশীলতা।
খেলাধুলা বা শেখার ধরনে অস্বাভাবিক পুনরাবৃত্তি দেখা যেতে পারে।
আচ্ছা এই অটিজম কি পুরোপুরি ভালো হয়? বা কোনো সুযোগ আছে এর থেকে প্রতিকার পাওয়ার?
অটিজম সাধারণত পুরোপুরি “সেরে যায়” এমন কোনো রোগ নয়। এটি মস্তিষ্কের বিকাশের একটি ভিন্নতা, যা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি থাকে।
তবে এর মানে এই নয় যে অটিজমে আক্রান্ত শিশু উন্নতি করতে পারে না। সঠিক সময়ে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে অনেক শিশুর যোগাযোগ, শেখা, আচরণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের দক্ষতা অনেক উন্নত হতে পারে।