সৌরঝড় কী?
সূর্য শান্ত থাকলে পৃথিবীতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু সূর্যে মাঝে মাঝে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় — যাকে বলে সৌরঝড়। এই ঝড় মহাকাশে আর পৃথিবীতে এমন প্রভাব ফেলতে পারে যা কল্পনাও করা কঠিন।
সৌরঝড় দুটো প্রধান রূপে আসে। প্রথমটি হলো "সোলার ফ্লেয়ার" — সূর্যের পৃষ্ঠে হঠাৎ আলো আর শক্তির বিস্ফোরণ। এটি মাত্র কয়েক মিনিটে ঘটে কিন্তু অবিশ্বাস্য পরিমাণ শক্তি ছাড়ে। দ্বিতীয়টি হলো "করোনাল মাস ইজেকশন" বা CME — সূর্যের বাইরের স্তর থেকে বিশাল পরিমাণ প্লাজমা আর চৌম্বক ক্ষেত্র ছুটে বের হয়। এটি পৃথিবীতে পৌঁছাতে সময় নেয় এক থেকে তিন দিন।
সৌরঝড় পৃথিবীতে কী করে? প্রথমে আঘাত করে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে। এই আঘাতে তৈরি হয় "জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম"। তখন অরোরার আলো স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল হয় — এমনকি বাংলাদেশ থেকেও দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সাথে স্যাটেলাইট, GPS, রেডিও যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বিদ্যুৎ গ্রিডে। সৌরঝড়ের চৌম্বক পরিবর্তন মাটির নিচের তার আর ট্রান্সফর্মারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ তৈরি করে। এতে বিশাল ট্রান্সফর্মার পুড়ে যেতে পারে — বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে মাসের পর মাস।
১৮৫৯ সালের "ক্যারিংটন ইভেন্ট" ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌরঝড়। সেবার টেলিগ্রাফ অপারেটররা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছিলেন, তার আপনাআপনি আগুন ধরে গিয়েছিল। ২০০৩ সালের সৌরঝড়ে সুইডেনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, বেশ কিছু স্যাটেলাইট নষ্ট হয়েছিল।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, আজকের প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় বড় সৌরঝড় হলে ক্ষতি হবে অকল্পনীয়। ইন্টারনেট, মোবাইল, ব্যাংকিং, হাসপাতাল — সব থেমে যাবে। তাই নাসা আর বিভিন্ন মহাকাশ সংস্থা সূর্যের কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করছে। সৌরঝড়ের আগাম সতর্কতা পেলে অন্তত কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!