প্রথম পাতাজীবনধারাঅপ্রতিমকে নিয়ে কিছু কথা

জীবনধারা

অপ্রতিমকে নিয়ে কিছু কথা

অপ্রতিমকে নিয়ে কিছু কথা

ভেবেছিলাম, খুন করা হয়েছে যে অপ্রতিমকে—তাকে নিয়ে আর কিছু লিখব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারলাম না। কারণ অপ্রতিমের ঘটনাটি শুধু একজন মানুষের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের সমাজের কিছু দুরূহ ও অস্বস্তিকর বাস্তবতা।


বিজ্ঞাপন

একজন মানুষকে হত্যা করা হলো—এটা নিছক একটি সংবাদ নয়। এর পেছনে একটি পরিবার আছে, স্বজনদের কান্না আছে, অপূরণীয় শূন্যতা আছে। একজন অপ্রতিম চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আপনজনদের জীবনের অনেক কিছুই যেন থমকে যায়।


কিন্তু আমাদের সমাজে কিছুদিন পর কী হয়? আলোচনা কমে যায়, মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়, আর একটি পরিবারকে সেই শূন্যতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়।


আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট হয়তো এখানেই—আমরা কোনো ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলি, কিন্তু সেই ঘটনার মূল কারণ, বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কীভাবে ঠেকানো যায়, তা নিয়ে কতটা ভাবি?


অপ্রতিমের হত্যার বিচার চাই—এটা শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি এমন একটি সমাজের দাবি, যেখানে একজন মানুষের জীবনকে মূল্যবান মনে করা হয়। তবে বিচার মানে কারও বিরুদ্ধে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা—এটাই হওয়া উচিত পথ।


আজ অপ্রতিম, কাল হয়তো অন্য কেউ। আমরা যদি প্রতিটি ঘটনার পর কিছুদিন কান্না করে আবার সব ভুলে যাই, তাহলে সমাজের এই অন্ধকার কখনো কাটবে না।


তাই অপ্রতিমকে নিয়ে লিখছি। আলোচনার জন্য নয়, কাউকে হেয় করার জন্য নয়—শুধু মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, একটি মানুষের জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়, কোনো ক্ষণিকের খবরও নয়।


অপ্রতিমের জন্য ন্যায়বিচার হোক।

তার পরিবারের কান্নার উত্তর রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে থাকুক।

আর আমরা যেন অন্তত এতটুকু শিখি—অন্যায়ের সামনে নীরবতা কখনোই সমাজকে নিরাপদ করে না।

০ মন্তব্য · ২৮ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!