একসময় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের নাম শুনলেই অনেকের মনে ভেসে উঠত দুর্ঘটনা, যানজট আর দীর্ঘ ভোগান্তির চিত্র। ব্যস্ত এই মহাসড়কে সামান্য অসতর্কতা কিংবা একটি দুর্ঘটনাই তৈরি করত দীর্ঘ যানজট। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চেনা দৃশ্য। সড়কের বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাপনা এবং দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমে আসায় মহাসড়কটিতে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক থেকে স্বস্তির পথে
আগে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনা ছিল নিত্যদিনের আতঙ্ক। বিশেষ করে ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড, বাঁক এবং জনবহুল এলাকায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খল চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াত।
বর্তমানে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সড়ক সম্প্রসারণ, লেন ব্যবস্থাপনা এবং যানবাহন চলাচলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, আগের তুলনায় সড়কে চলাচল এখন বেশি স্বস্তিদায়ক।
তবে দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন দাবি করার মতো নির্ভরযোগ্য সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ধামরাই অংশের বিশেষ লেন নিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তাই উন্নতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
কমেছে যানবাহনের চাপ
ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমে আসার অন্যতম কারণ হিসেবে পদ্মা সেতু চালুর পর দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচলে পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মহাসড়কের লেনসংখ্যা বাড়ানো এবং স্থানীয় গণপরিবহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ১৯ মার্চ ঈদযাত্রার সময়ও মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে স্বাভাবিক সময়ে যান চলাচল ও বিশেষ সময়ের যানবাহনের চাপ এক নয়।
উন্নয়নের সুফল ধরে রাখতে প্রয়োজন নজরদারি
মহাসড়কের উন্নয়ন হলেও কিছু জায়গায় সার্ভিস লেন দখল, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ভাসমান দোকান এবং রাস্তার ওপর যাত্রী ওঠানামার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে সড়কের উন্নয়নের সুফল ব্যাহত হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাসড়কের বর্তমান স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
শেষ কথা
ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের চিত্রে পরিবর্তন এসেছে—এটি যাত্রী ও চালকদের জন্য স্বস্তির খবর। একসময় যে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠত, সেখানে এখন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সুফল দেখা যাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী করতে হলে সড়ক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক শুধু একটি যোগাযোগপথ নয়; এটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে এই মহাসড়ক আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
একসময় যে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকতো না!! সেখানে এখন উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সুফল দেখা যাচ্ছে।