প্রজেক্ট মিরর
“যে মানুষটাকে মৃত ভাবা হয়েছিল”
ধাম!
গুলির শব্দে পুরো ঘরটা কেঁপে উঠল।
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড বুঝতেই পারল না কী হয়েছে।
রাশেদ মেঝেতে পড়ে আছে।
তার কালো শার্টের বুকের কাছে রক্তের দাগ ছড়িয়ে পড়ছে।
—“রাশেদ!”
আরিয়ান ছুটে যেতে চাইতেই নাভিদ বন্দুক তুলে তাকে থামিয়ে দিল।
—“ওখানেই দাঁড়াও।”
আরিয়ান থেমে গেল।
তার চোখে তখন রাগ, অবিশ্বাস আর অসহায়তা—সব একসঙ্গে।
—“তুই এটা কী করলি?”
নাভিদ কোনো উত্তর দিল না।
সে শুধু দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,
—“আমাদের হাতে সময় নেই।”
আরিয়ান দাঁত চেপে বলল,
—“তুই রাশেদকে মেরেছিস!”
—“না।”
নাভিদের উত্তরটা এত শান্ত ছিল যে আরিয়ান আরও অবাক হয়ে গেল।
—“গুলিটা ওকে লাগেনি।”
আরিয়ান রাশেদের দিকে তাকাল।
রাশেদ মেঝেতে পড়ে আছে।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর তার হাত নড়ল।
সে ধীরে ধীরে উঠে বসল।
তারপর বুকের ওপর হাত দিয়ে একটা ছোট ধাতব প্লেট বের করল।
গুলিটা সেই প্লেটে লেগে থেমে গেছে।
রাশেদ কাশতে কাশতে বলল,
—“পুরোনো অভ্যাস।”
আরিয়ান অবিশ্বাসের চোখে তাকিয়ে রইল।
—“তোমরা দুজন একসঙ্গে?”
নাভিদ এবার বন্দুক নামাল।
—“হ্যাঁ।”
আরিয়ান কিছু বুঝতে পারছে না।
—“তাহলে এতদিন আমাকে কী দেখানো হচ্ছিল?”
রাশেদ ধীরে উঠে দাঁড়াল।
—“তোমাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা।”
—“আমাকে?”
—“হ্যাঁ।”
আরিয়ান হেসে ফেলল।
কিন্তু সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না।
—“আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার পুরো দলকে শেষ করে দিলে?”
রাশেদের চোখ নিচু হয়ে গেল।
—“সবাই মারা যায়নি।”
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।
—“নীলা?”
রাশেদ উত্তর দিল না।
—“সামির?”
চুপ।
—“তানভীর?”
রাশেদ এবার ধীরে বলল,
—“সত্যিটা জানার আগে তোমাকে একটা কথা বুঝতে হবে।”
—“কী?”
—“যাদের তুমি মৃত ভাবছ, তাদের মধ্যে অন্তত দুজন এখনো বেঁচে আছে।”
আরিয়ানের বুকের ভেতর যেন হঠাৎ আলো জ্বলে উঠল।
—“কারা?”
রাশেদ বলল,
—“নীলা।”
এক মুহূর্ত থেমে—
—“আর সামির।”
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।
এতদিন ধরে যে দুটো নাম তার কাছে শুধু স্মৃতি ছিল, তারা আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।
কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্তটা বেশি সময় স্থায়ী হলো না।
কারণ রাশেদ বলল,
—“তানভীর বেঁচে আছে কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নই।”
ঘরটা আবার নীরব হয়ে গেল।
আসল গল্প
রাশেদ টেবিলের কাছে গিয়ে একটা পুরোনো ল্যাপটপ খুলল।
স্ক্রিনে PROJECT MIRROR-এর লোগো ভেসে উঠল।
তারপর একের পর এক ফাইল।
মানুষের নাম।
ছবি।
ব্যাংক হিসাব।
ব্যক্তিগত যোগাযোগ।
ব্যবসায়িক চুক্তি।
রাজনৈতিক ও কর্পোরেট নেটওয়ার্কের তথ্য।
আর প্রতিটি মানুষের পাশে লেখা—
CONTROL
আরিয়ান ধীরে বলল,
—“এগুলো কারা?”
রাশেদ বলল,
—“যাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করা যায়, তাদের তালিকা।”
—“কারা করছে?”
—“এই প্রশ্নের উত্তরটাই প্রজেক্ট মিররের আসল রহস্য।”
নাভিদ চেয়ার টেনে বসে বলল,
—“প্রজেক্ট মিরর কোনো একটা দেশের অপারেশন নয়।”
আরিয়ান তার দিকে তাকাল।
নাভিদ বলল,
—“এটা একটা নেটওয়ার্ক।”
—“কারা চালায়?”
নাভিদ স্ক্রিনে একটা ফোল্ডার খুলল।
ফোল্ডারের নাম—
MIRROR CORE
কিন্তু ফোল্ডারটি পাসওয়ার্ড দিয়ে বন্ধ।
নাভিদ বলল,
—“এই জায়গায় এসে আমরা আটকে গেছি।”
আরিয়ান জিজ্ঞেস করল,
—“পাসওয়ার্ড নেই?”
রাশেদ বলল,
—“আছে।”
আরিয়ান তাকাল।
—“কার কাছে?”
রাশেদ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
—“তোমার কাছে।”
আরিয়ান যেন কথাটা বুঝতেই পারল না।
—“আমার কাছে?”
—“হ্যাঁ।”
—“কীভাবে?”
রাশেদ বলল,
—“কারণ প্রজেক্ট মিররের শুরু থেকেই তুমি এর একটা অংশ।”
আরিয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর মাথা নাড়ল।
—“না।”
—“তুমি মনে করতে পারছ না।”
—“আমি কোনোদিন এই প্রজেক্টে কাজ করিনি।”
রাশেদ ধীরে বলল,
—“তুমি করেছিলে।”
আরিয়ান এবার রেগে গেল।
—“তাহলে আমি কেন কিছু মনে করতে পারছি না?”
নাভিদ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“কারণ তোমার স্মৃতি থেকে কিছু অংশ মুছে দেওয়া হয়েছিল।”
ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
আরিয়ান ধীরে ধীরে চেয়ারে বসে পড়ল।
—“কে?”
রাশেদ উত্তর দিল,
—“আমি।”
দশ বছর আগে
স্ক্রিনে একটা পুরোনো ভিডিও চালু হলো।
তারিখ—
১২ অক্টোবর, দশ বছর আগে।
ভিডিওতে দেখা গেল একজন তরুণ আরিয়ান।
চেহারায় বয়স কম।
সে একটা অন্ধকার ঘরে বসে আছে।
তার সামনে রাশেদ।
কিন্তু সেই রাশেদকে অনেক বেশি তরুণ দেখাচ্ছে।
ভিডিওতে রাশেদ বলছে,
—“তুমি যদি এটা দেখো, তাহলে ধরে নেব আমরা ব্যর্থ হয়েছি।”
তরুণ আরিয়ান বলল,
—“আমি কি সবকিছু ভুলে যাব?”
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল।
তারপর বলল,
—“হয়তো।”
—“আর যদি মনে পড়ে?”
—“তাহলে আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলবে।”
ভিডিও শেষ।
আরিয়ান নিথর হয়ে বসে রইল।
তার মাথার ভেতর হঠাৎ কিছু অস্পষ্ট ছবি ভেসে উঠতে শুরু করল।
একটা সাদা ঘর।
একটা কাচের দরজা।
কেউ চিৎকার করছে।
একজন নারী বলছে—
“ওকে থামাও!”
তারপর একটা ছোট মেয়ে।
সে আরিয়ানের হাত ধরে বলছে—
“ভাইয়া, আমাকে একা রেখে যেও না।”
আরিয়ান হঠাৎ মাথা চেপে ধরল।
—“না…”
নাভিদ উঠে দাঁড়াল।
—“আরিয়ান!”
—“ও কে?”
রাশেদ স্থির হয়ে গেল।
—“কাকে দেখেছ?”
আরিয়ান চোখ বন্ধ করে বলল,
—“একটা মেয়ে।”
রাশেদের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
—“তার বয়স?”
—“দশ… হয়তো এগারো।”
রাশেদ ধীরে বলল,
—“তাহলে কিছু কিছু ফিরে আসছে।”
আরিয়ান চোখ খুলল।
—“ও কে?”
রাশেদ এবার উত্তর দিল না।
আরিয়ান তার কলার চেপে ধরল।
—“আমি জিজ্ঞেস করেছি, ও কে?”
রাশেদ ধীরে বলল,
—“মায়া।”
আরিয়ান থমকে গেল।
—“মায়া?”
—“হ্যাঁ।”
—“মায়া তখন একটা শিশু ছিল?”
রাশেদ মাথা নাড়ল।
—“সে প্রজেক্ট মিররের প্রথম ভিকটিমদের একজন।”
আরিয়ান কিছু বলতে পারল না।
মায়ার আসল পরিচয়
নাভিদ দ্রুত কয়েকটা ফাইল খুলতে লাগল।
একটা পুরোনো ছবি স্ক্রিনে ভেসে উঠল।
ছোট একটা মেয়ে।
চোখে ভয়।
তার পাশে দাঁড়িয়ে তরুণ আরিয়ান।
আর পেছনে রাশেদ।
আরিয়ান ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।
—“এটা কোথায়?”
রাশেদ বলল,
—“একটা গবেষণা কেন্দ্রে।”
—“কী গবেষণা?”
রাশেদ চুপ করে রইল।
নাভিদ বলল,
—“মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার গবেষণা।”
আরিয়ান ধীরে বলল,
—“মানুষকে নিয়ন্ত্রণ?”
—“সরাসরি নয়।”
নাভিদ স্ক্রিনে একটা ডায়াগ্রাম দেখাল।
—“মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, কীসে ভয় পায়, কাকে বিশ্বাস করে, কোন তথ্য পেলে মত বদলায়—এসব নিয়ে কাজ করা হয়েছিল।”
আরিয়ান বলল,
—“আর মায়া?”
—“সে ছিল পরীক্ষার অংশ।”
আরিয়ান চোখ বন্ধ করল।
হঠাৎ তার মনে পড়ল—
একটা দরজা।
আগুন।
চিৎকার।
আর সে নিজেই মায়াকে নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
তারপর রাশেদ তাকে বলছে—
“তাকে নিয়ে বের হও!”
আরিয়ান চোখ খুলে উঠে দাঁড়াল।
—“আমি ওকে বাঁচিয়েছিলাম।”
রাশেদ মাথা নেড়ে বলল,
—“হ্যাঁ।”
—“তাহলে সে আমাকে চিনল না কেন?”
রাশেদ বলল,
—“কারণ মায়ারও কিছু স্মৃতি বদলে দেওয়া হয়েছিল।”
আরিয়ান স্তব্ধ।
—“তাহলে রেলস্টেশনে সে আমাকে চিনেছিল কীভাবে?”
রাশেদ এবার খুব ধীরে বলল,
—“কারণ তার স্মৃতি পুরোপুরি মুছে যায়নি।”
নাভিদের সত্য
হঠাৎ নাভিদের ফোন বেজে উঠল।
সে স্ক্রিনের দিকে তাকাল।
একটা মাত্র মেসেজ।
“তুমি অনেকক্ষণ ধরে মিথ্যা বলছ।”
নাভিদ ফোনটা বন্ধ করে ফেলল।
আরিয়ান সেটা দেখে ফেলেছে।
—“কার মেসেজ?”
—“কেউ না।”
—“নাভিদ।”
—“বলেছি কেউ না।”
আরিয়ান এগিয়ে গেল।
—“তুমি যদি আমার বন্ধু হও, তাহলে এখনই সত্যিটা বলো।”
নাভিদ চুপ।
রাশেদ বলল,
—“ওকে বলো।”
নাভিদ রাশেদের দিকে তাকাল।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—“আমি প্রজেক্ট মিররের সঙ্গে কাজ করেছি।”
আরিয়ান স্থির হয়ে গেল।
—“কতদিন?”
—“তিন বছর।”
—“আমার ওপর নজর রেখেছিলে?”
নাভিদ চোখ নামিয়ে বলল,
—“হ্যাঁ।”
আরিয়ান ধীরে বলল,
—“তাহলে ভিডিওতে তোমার ছবি ছিল কেন?”
নাভিদ বলল,
—“কারণ আমি সন্দেহভাজন ছিলাম না।”
—“তাহলে?”
নাভিদ আর কোনো কথা বলল না।
রাশেদ বলল,
—“নাভিদ তাদের জন্য কাজ করত।”
আরিয়ান নাভিদের দিকে তাকাল।
নাভিদ মাথা নিচু করে বলল,
—“শুরুতে করতাম।”
—“এখন?”
—“এখন আমি ওদের বিরুদ্ধে।”
আরিয়ান তিক্ত হেসে বলল,
—“আমি কীভাবে বিশ্বাস করব?”
নাভিদ বলল,
—“বিশ্বাস করতে হবে না।”
তারপর টেবিলের ওপর একটা পেনড্রাইভ রাখল।
—“এটা দেখো।”
আরিয়ান পেনড্রাইভটা হাতে নিল।
নাভিদ বলল,
—“এর ভেতরে আছে প্রজেক্ট মিররের আসল ডাটাবেস।”
রাশেদ সঙ্গে সঙ্গে বলল,
—“না!”
নাভিদ তাকাল।
—“ওকে জানতে হবে।”
—“ওটা খুললে আমাদের অবস্থান ট্রেস করবে।”
নাভিদ শান্ত গলায় বলল,
—“ইতিমধ্যে করেছে।”
ঘরের তিনজনই থেমে গেল।
দূরে কোথাও গাড়ির শব্দ শোনা গেল।
তারপর আরেকটা।
আরেকটা।
নাভিদ জানালার কাছে গিয়ে পর্দার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল।
তার মুখ বদলে গেল।
—“ওরা এসে গেছে।”
আরিয়ান বন্দুক তুলে নিল।
—“কতজন?”
নাভিদ বলল,
—“এবার আগের চেয়ে বেশি।”
রাশেদ দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বলল,
—“পেছনের পথ আছে।”
আরিয়ান বলল,
—“আমি পালাব না।”
রাশেদ তার দিকে তাকাল।
—“এটা পালানো নয়।”
সে টেবিল থেকে একটা পুরোনো ফাইল তুলে নিল।
—“এবার আমরা শিকার করতে যাচ্ছি।”
শেষ দরজা
তিনজন পেছনের করিডোর দিয়ে বের হতে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই—
ধাম!
সামনের দরজা ভেঙে পড়ল।
বাইরে থেকে মানুষের চিৎকার।
—“ভেতরে কেউ আছে!”
আরিয়ান রাশেদ ও নাভিদের দিকে তাকাল।
—“পেছনের পথ।”
তারা দৌড় দিল।
কিন্তু পেছনের দরজায় পৌঁছে আরিয়ান থেমে গেল।
দরজার ওপর লাল অক্ষরে লেখা—
AUTHORIZED PERSONNEL ONLY
নাভিদ বলল,
—“এটা খুলবে না।”
আরিয়ান বলল,
—“কেন?”
নাভিদ উত্তর দিল,
—“কারণ এটা আসলে দরজা নয়।”
সে দেয়ালের একটা অংশ সরিয়ে দিল।
ভেতরে ছোট একটা ঘর।
ঘরের মাঝখানে একটা চেয়ার।
চেয়ারের সামনে ক্যামেরা।
আর দেয়ালে লেখা—
MIRROR MEMORY ROOM
আরিয়ানের বুক কেঁপে উঠল।
রাশেদ বলল,
—“এটাই সেই জায়গা।”
—“কোন জায়গা?”
—“যেখানে তোমার স্মৃতি বদলানো হয়েছিল।”
আরিয়ান ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকল।
চেয়ারের পাশে একটা পুরোনো মনিটর।
মনিটর নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
স্ক্রিনে একজন মহিলা।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“আরিয়ান রহমান।”
আরিয়ান স্থির হয়ে দাঁড়াল।
—“তুমি কে?”
মহিলা বলল,
—“যে মানুষটা তোমাকে প্রথমবার প্রজেক্ট মিররে নিয়ে এসেছিল।”
আরিয়ান বলল,
—“মায়া?”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর মহিলা হেসে উঠল।
—“না।”
স্ক্রিনে ধীরে ধীরে একটি ছবি ফুটে উঠল।
একজন নারী।
আরিয়ান ছবিটা দেখে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলল।
কারণ এই মুখটা সে চিনে।
তার নিজের অতীত থেকে।
একজন মানুষ, যাকে সে বহু বছর ধরে মৃত মনে করে এসেছে।
তার মা।
আরিয়ানের ঠোঁট কাঁপতে লাগল।
—“এটা… কীভাবে সম্ভব?”
রাশেদ চোখ বন্ধ করল।
নাভিদ নিচু গলায় বলল,
—“কারণ তোমার মা কখনো মারা যাননি।”
স্ক্রিনের নারী এবার বলল—
—“আরিয়ান, এতদিন তোমাকে যে গল্পটা বলা হয়েছে, সেটা মিথ্যা।”
একটু বিরতি।
তারপর—
—“প্রজেক্ট মিররের আসল পরিচালক আমি।”
স্ক্রিন কালো হয়ে গেল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরে থেকে বিস্ফোরণের শব্দ এলো।
পুরো ভবন কেঁপে উঠল।
রাশেদ চিৎকার করল—
—“সবাই নিচে!”
আরিয়ান মাটিতে পড়ে গেল।
ধোঁয়ার মধ্যে তার চোখে শেষ যে জিনিসটা ধরা পড়ল—
দেয়ালের ওপর রক্তের মতো লাল অক্ষরে লেখা—
MIRROR NEVER FORGETS.
চলবে…
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!