প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসইয়াজুজ মাজুজ

গল্প ও উপন্যাস

ইয়াজুজ মাজুজ

ইয়াজুজ মাজুজ

ইয়াজুজ মাজুজ বা গগ ম্যাগগ এর যুদ্ধ অনেক কাল আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এটা এখন চুড়ান্ত অবস্থায় পৌছে গিয়েছে। এটা কোন ফিজিক্যাল যুদ্ধ নয়। এটা হল ভয় এবং ঘৃনা । আর এই ‍ভয় এবং ঘৃনার সৃষ্টি হয় অজ্ঞানতা থেকে আর শেষ হয় ভায়োলেন্স দিয়ে। 

অজ্ঞানতা টি কি ? অজ্ঞানতা টি হল এটা বুঝতে না পারা যে আমরা সবাই এক। আমরা অপরের মাঝে যে ত্রুটি খুজে বের করি , বাস্তবে সেটাও আমাদের ভিতর আছে বলেই দেখতে পাই। তা নাহলে দেখতে পাওয়ার কথা নয়। আমরা সৃষ্টির মাঝে খোদার অস্তিত্ব দেখতে পাই না কিন্তু ত্রুটি বিচ্যুতি ঠিকই দেখতে পাই। সবার ভিতরেই সেই একই শক্তি খেলা করে অথচ আমরা দেখতে পাই না, কারন আমরা নিজের ভিতরে সেই সত্বাকে  খুঁজি না তাই দেখতেও পাই না এবং অস্বীকার করি । এটাই কুফরি। সত্যকে ঢেকে রাখি বা অস্বীকার করাকেই কুফরি বলা হয়। এটা কোন গাল নয় বরং একজন মানুষের মানসিক দৈন্যতাকে নির্দেশ করে। 

বিজ্ঞাপন

আমরা যদি সেই সত্বাকে নিজের ভিতর আবিস্কার করতে পারি তাহলে সহসাই আমাদের সামনে সব কিছু দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে যাবে। আমরাও তখন অপরের মাঝে সেই একই সত্বাকে দেখতে পাব। যারা আল্লাহকে আকাশে বসিয়ে রেখেছে, নিজেদের থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে, নিরাকার ভাবে তারা অপরের প্রতি ভয়, ঘৃনা বোধ করে এবং অপরকে ধ্বংস করতে ক্ষতি করতে উদ্যত হয় ভালবাসার বদলে আর এরাই হল ইয়াজুজ, মাজুজ বা বাইবেলে বর্ণিত গগ ম্যাগগ। 

আমাদের যত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সেটা স্কুল হোক বা মাদ্রাসা হোক বা কলেজ ইউনিভার্সিটি হোক সবই এই ইয়াজুজ মাজুজ প্রোডাকশনের কারখানা ছাড়া কিছু না। এই শিক্ষায় নিজেকে জানা যায় না, নিজেকে রব কে চেনার উপায় নেই। যে শিক্ষা ব্যবস্থা নিজেকে জানতে দেয় না সেটা কোন শিক্ষা নয় বরং বোকা বানানোর কুশিক্ষা, দাস বানানোর প্রজেক্ট। শিশু অবস্থায় ঢোকে আর ইয়াজুজ মাজুজ হয়ে বের হয়। তাঁকে ডিসট্র্যাক্ট করে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার সমস্ত উপকরন এই শিক্ষা ব্যবস্থায় আছে কিন্তু সবথেকে জরুরী এবং আসল বিষয় যেটা , নিজেকে জানা, সেটার ব্যাপারে কোনরকম উপকরন নেই। কারণ কোন মানুষ যখন নিজেকে দেখে ফেলে তখন তার হাতে পুরো মহাবিশ্ব তুলে দিলেও সে সেটা গ্রহণ করবে না। তাঁকে দাস বানানো অসম্ভব। অসম্ভব। এই দুনিয়ার সমস্ত এস্টাবলিস্টমেন্ট , অর্থনীতি , শিক্ষা , রাজনীতি, সমাজ ব্যবস্থা যারা তৈরী করেছে তাঁরা্িএকটি বিষয়েকেই মাথায় রেখেছে সবসময় যাতে মানব শিশুকে ইয়াজুজ মাজুজ বানানো যায়। যাতে সে ভুল করেও যেন নিজেকে জানতে না পারে। 

যে ব্যক্তি বাকা বিল্লাহ স্তর একবার ঘুরে আসতে পেরেছে সে পৃথিবীর সব মানুষের একত্রিত জ্ঞান থেকেও কোটি কোটি গুন বেশী জ্ঞানের অধিকারী হয়ে যাবে নিমেষেই যদিও সে অক্ষরজ্ঞানহীন হয়ে থাকে। সব কিছু দেয়া আছে ভিতরে। যারা আমাদের বাইরে খুজতে বলে তাঁরা নিজেরাও জানে না কতবড় ধোঁকার ভিতরে তাঁরা নিজেরাই নিমজ্জিত আছে আর কত অসীম এক সম্ভাবনাকে হত্যা করার পরামর্শ তাঁরা দিচ্ছে। মানুষ হল পুরা মহাবিশ্বের একটি ছোট সংস্করন। সমুদ্রের এক ফোঁটা পানি পরীক্ষা করলেই সেই সুবিশাল সমুদ্রের গুনাগুন জানা হয়ে যায়। সেই সমূদ্রের পানি কি দ্বারা গঠিত, তেমনি মানুষ যদি নিজেকে দেখতে পায় , নিজেকে জানতে পারে তাহলে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান পুরো মহাবিশ্ব এবং এর পিছনের সব কিছুই তাঁর নখদর্পনে চলে আসবে। এজন্যই নবী সা: বলেছেন, যে নিজেকে জেনেছে সে তাঁর রবকে জেনেছে। আর এটাই হল আমাদের আসল উদ্দেশ্য। ১ এর থেকে সংখ্যার শুরু ৯ এ শেষ। এরপর আসে ১০। ১ আর ০ যোগ করলে আবার সেই ১ ই চলে আসে। যেখানে শুরু সেখানেই আবার শেষ । মাঝখানে শুধু জার্নি। অসীম সংখ্যা যেমন বানানো যায় যোগ , গুন করে তেমনি বাইরে তাকালে দেখার শেষ থাকবে না। লক্ষ কোটি জন্ম নিয়েও শেষ হবে না। শুধু চক্করই কাটতে থাকবে কিন্তু শেষ হবে না। তাই ফোকাস বাইরে নয় বরং ভিতরে করতে হবে। দুনিয়াতে যত নবী- রাসুল, সুফি- দরবেশ, যোগী জন্ম নিয়েছে তাঁরা এই কথাটিই ঘুরয়ে পেচিয়ে বারবার বলে গেছে। পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছে । কিন্তু তাঁদের বিরোধিতা তখনও করেছে এখনো করছে আগামীতেও করবে মানুষের আকৃতিতে ইয়াজুজ মাজুজের দল। এই জন্য আল্লামা ইকবাল বলে গেছেন, মোল্লারা কোরআনের যে তাফসির করেছে , তাই দেখে খোদ জীব্রাইল, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল তাজ্জব বনে গেছে। তোমার আর আল্লাহর মাঝে দুরত্ব কেন, মধ্যবর্তী মোল্লাকে হটিয়ে দাও। এরা কাছের জিনিস দুরে দেখায় আর দুরের জিনিস কাছে, কারন তাঁরা নিজেরাই ভুলের সাগরে ভাসমান।জিহাদ করতে চান ? তাহলে নিজের বিরুদ্ধে আগে জিহাদ করুন। নিজেকে ইয়াজুজ মাজুজ থেকে মানুষে পরিণত করেন। তারপর নিজেই বুঝে যাবেন এই মহাবিশ্ব কিভাবে চলে, কে চালায়। আপনার সামনে যারে দেখছেন সে কে। এর আগে যা করবেন তার সব কিছুই বিফলে যাবে। সব কিছুই ধোঁকা। তখন বুঝে যাবেন জ্ঞানীদের কথার অর্থ। কোরানের অর্থ, বাইবেলের অর্থ, নবীর অর্থ, রাসুলের অর্থ, বেদের অর্থ, দুনিয়ার স্বরূপ, খোদার স্বরূপ। সব বুঝতে পারবেন। সব দেখতে পারবেন। কোন বই পড়া লাগবে না, নিজেকে পড়তে পারলে কোটি কোটি বইএর জ্ঞান এমনিতেই জেনে যাবেন। অতীত, বর্তমান,ভবিষ্যৎ আলাদা নয় সবই বর্তমান। বাকি সব কিছুই ধোঁকা। আর ধোঁকাই হল শয়তানের অস্ত্র। পৃথিবীর কোন প্রানী ধোঁকা দেয়না, অহংকার করেনা, মিথ্যা বলেনা. ইর্ষা করেনা। এইগুলো আপনার ভিতর প্রকাশ পায় কেন তবে? কারণ, শয়তান আদমকে মিথ্যা বলে প্রতারনা করেছিল ছদ্মবেশী বন্ধু বেশে, কেন করেছিল কারন সে আদমকে ইর্ষা করেছিল, কেন ইর্ষা করেছিল? কারন সে ছিল অহংকারী। তাহলে আপনি যাই করেন না কেন , যতই ভালো উদ্দেশ্যেই করেন না কেন আদতে আপনি শয়তানের পথই ধরলেন। আপনার সমস্ত কিছুই ধোকা। অন্যকে ধোঁকা দিচ্ছেন না বরং নিজেকেই দিচ্ছেন। ইয়াজুজ মাজুজ শয়তানেরই দাস। শয়তানও রাজনীতিই করেছিল। আপনিও তাই করছেন। মানুষ হল আল্লাহর মহান সৃষ্টি। মানুষ কখনোও জাহান্নামি হবে না। হবে মানুষের চেহারা নিয়ে জীবন যাপন করা শয়তানের দাস ইয়াজুজ মাজুজ। এরা ফেৎনা আর ফ্যাসাদ ছাড়া কিছুই করতে জানেনা। সেটাই করে আজীবন আর তৃপ্তির ঢেকুর তোলে এই ভেবে যে বিরাট আল্লাহর কাজ করেছে। আরে বুরবাক আল্লাহর কাজ আল্লাহ নিজেই করে। তাঁর তোর প্রয়োজন নেই। তোর দায়িত্ব নিজেকে চেনা আর জানা। তুই সেটা বাদে সব কিছুই করছিস আর ভাবছিস আল্লাহর কাজ করছি। তোর ধারনাই নেই যারা হাজার বছর ধরে এই বরবাদি সিস্টেম ডেভেলপ করেছে তাঁরা কারা। তাঁরা সেই সিস্টেমে তোকে জন্মের পর থেকেই আটকে ফেলেছে। তোর কেন তোর চৌদ্দপুরুষের সাধ্য নেই এই সিস্টেম ধ্বংস করা। কারণ তাঁরাও আল্লাহর শক্তিতেই শক্তিমান। পার্থক্য হল তাঁরা সেটা জানে আর তুই সেটা জানিস না। যখন সত্য সামনে এসে দাঁড়াবে তখন তুই সবার আগে সেই সত্যকে মিথ্যা ভেবে তরবারী নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে জাহান্নামি হবি। কারন তুই ইয়াজুজ মাজুজ। সত্য দেখার আর চেনার মত জ্ঞান তোর নেই। কস্মিনকালেও হবে না যতক্ষন না নিজেকে পড়তে পারছিস নিজেকে চিনতে পারছিস। আল্লাহর আইন কায়েম করার জন্য তিনি নিজেই যথেষ্ট। দুনিয়াতে আল্লাহর আইনই বলবৎ আছে। তোর ভিতর সেটা নেই বলেই তুই এদিক ওদিক ঘোৎ ঘোৎ করে বেড়াচ্ছিস। 

এমন মানব জনম আর কি হবে,

মন যা কর তরাই কর এ ভবে ।


#রহস্য #ইয়জুজ #মায়জুজ #ফিলাফা #এজেন্ডা #একচোখ #ফিতনা #NOW #শয়তান #দাজ্জাল

০ মন্তব্য · ৫৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!