*"ইশক মানে ফানা, ফানা মানে তিনি"*
প্রেমের পথে তলোয়ার চলে না রে বন্ধু।
এখানে রাজা হইতে গেলে ভিখারি হইতে হয়।
এখানে জোর চলে না, চলে শুধু আত্মসমর্পণ।
যে নিজের অহংকারের জামা-কাপড় এক এক করে খুলে ন্যাংটা হইতে পারে,
সেই দেখে ইশকের নগ্ন সত্য।
কারণ সত্য কখনো পোশাক পরে না।
এই পথে জাতের বিচার নাই।
ব্রাহ্মণ-চণ্ডাল এক কাতার।
কুলের বিচার নাই।
রাজার ছেলে আর ফকিরের ছেলে এক থালায়।
নারী-পুরুষের ভেদ নাই।
এখানে আছে শুধু এক নূরের কারিগরি।
এক আগুন, হাজার প্রদীপ।
প্রদীপ ভাঙলে আগুন মরে না।
আশেক যখন রাত জেগে অন্তরের দরজায় টোকা দেয়,
"কে?" বলে না মাশুক।
কারণ মাশুক আগে থেকেই জানে কে আসছে।
উত্তর আসে না জবানে, উত্তর আসে বুকের কাঁপনে।
সেই ভাষা কিতাবে নাই, সেই ভাষা রূহের।
যে শুনছে সে-ই বুঝছে।
আমরা মিলন বলতে বুঝি দুইটা শরীরের মিলন।
কিন্তু আসল মিলন তো পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া।
আমার আর তোমার মাঝে যে "আমি" নামের দেয়াল,
ওই দেয়ালটা ভাঙলেই মিলন।
পর্দা সরতেই দেখা যায় —
আশেক যারে খুঁজতেছে, সে নিজেই।
মাশুক যারে দেখা দেয়, সেও তিনি।
আয়নার এপাশ ওপাশ, কিন্তু ছবি একটাই।
তখন আর প্রেমিক থাকে না, প্রিয় থাকে না।
থাকে শুধু প্রেম।
আর সেই প্রেমের মালিক — পরম সত্তা।
যেমন ঢেউ সাগর থেকে আলাদা না,
প্রেমিকও প্রেমের উৎস থেকে আলাদা না।
যে একবার এই ইশকের শরাব পান করছে,
তার কাছে দুনিয়ার বাজার মিথ্যা লাগে।
তার ঘর আর ইট-পাথরে না, ঘর কলবের ভিতরে।
তার কাবা আর মক্কায় না, কাবা সিনার ভিতরে।
তার মাশুক আর বাইরে খোঁজা লাগে না,
মাশুক প্রতি শ্বাসে ডাকে।
তখন ঘুম নাই, জাগরণ নাই।
প্রতি শ্বাসে "হু",
প্রতি নীরবতায় নাত।
চোখের পানি আর পানি থাকে না,
ওটা মিলনের দলিল হয়ে যায়।
*শেষ কথা:*
খাপ পরিষ্কার রাখো। নূর নিজে এসে বসবে।
আয়না মুছো। চেহারা নিজে ধরা দেবে।
অহংকারের পর্দা ফালাও।
তারপর দেখো — আমি ছিলাম না, তুমিও ছিলা না।
ছিলেন শুধু তিনি। আর তাঁর খেলা।
---জোরে প্রেম হয় না।
প্রেম হয় কাপড় খুলে ফানায়।
তখন দেখো — তুমিও সে, আমিও সে।"__
__"মিলন মানে দুই দেহ না।
মিলন মানে দুই পর্দা সরে যাওয়া।
তারপর শুধু নূর আর নূর।"__
__"যার ঘর কলবে, তার কাবা কলবে।
যার মাশুক কলবে, তার খোঁজা শেষ।"_*
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!