"দুধ থেকে ঘি, রতি থেকে নূর"* 🌙
*"দেহের আগুন নেভানোর জিনিস না, ওটা জ্বালানোর জিনিস"*
দরদী, শোনো।
আল্লাহ মানুষকে দেহ দিছে শুধু ভোগের জন্য না।
দেহের ভিতর যে উত্তেজনা, যে রস-রতি — ওটা ইবাদতের সবচেয়ে বড় কারখানা।
অধিকাংশ মানুষ এই আগুনটারে নালায় ফেলে দেয়।
পানি ঢেলে নেভায়, নয়তো কাদায় মাখায়।
তাই নূর হয় না, ধোঁয়া হয়।
*১. রস রতি কি?*
এটা শুধু শরীরের চাহিদা না।
এটা আল্লাহর দেওয়া "কুদরতি তেজ"।
দুধের মধ্যে যেমন ঘি লুকায় আছে,
মানুষের রক্ত-রসের ভিতরেও নূর লুকায় আছে।
দুধ জ্বাল দিলে পানি উড়ে যায়, ঘি থাকে।
তেমনি সাধনা দিলে খাহেশাত উড়ে যায়, নূর থাকে।
*২. ভুল পথে গেলে কি হয়?*
রস বাইরে ফেললে শক্তি বাইরে যায়।
শরীর দুর্বল হয়, কলব অন্ধকার হয়, চেহার নূর নিভে যায়।
তখন মানুষ পশুর মতো খালি খোঁজে, পায় না।
কারণ সে তার নিজের খনিই লুট করে ফেলছে।
*৩. সঠিক পথ কোনটা?*
মারফত বলে — "রক্ষা করো, রূপান্তর করো"।
রসকে ধরে রাখো, সাধনা দিয়ে উপরে তোলো।
নিচের চক্র থেকে টেনে কলব-সিনায় আনো।
তখন ওই রস আর রস থাকে না, *নূরে* পরিণত হয়।
যেমন দুধ → ঘি → আরো দামি।
তেমনি রতি → তেজ → নূর → আল্লাহর কুরবত।
এইজন্যই ওলিরা বলে — "যে নিজের পানি নিজে হেফাজত করলো, সে নিজের রাজা হলো।"
*৪. নারীর জন্য বিশেষ হেকমত*
নারী দেহ আল্লাহর আয়না।
নারীর ভিতর চন্দ্রের ধারা বেশি।
চন্দ্র মানে ধারণ, পালন, রূপান্তর।
নারী যদি চায়, সে তার রস-রতিকে ইবাদতে লাগাতে পারে।
নফসকে পাক করলে ওই উত্তেজনাই জিকির হয়।
ওই কাঁপনই মোরাকাবা হয়।
ওই পানি শুকিয়ে কলবের বাতি জ্বলে।
তখন সে আর শুধু নারী থাকে না।
সে *নূরানি বস্তু* হয়।
তার নিঃশ্বাসে তাসবিহ, তার চোখে হায়া, তার শরীরে এবাদতের ঘ্রাণ।
*৫. সারকথা — ফকিরের নসিহত*
খাহেশাতকে গালি দিও না।
ওটা আল্লাহর দেওয়া শক্তি।
শুধু দিকটা ঘুরায় দাও।
বাইরে ফেললে পশু,
ভিতরে রাখলে ফেরেশতা,
আল্লাহর দিকে লাগালে ওলি।
*_"যে নিজের রসকে ঘি বানাতে পারলো,
সে-ই নিজের দেহকে মসজিদ বানাতে পারলো।
আর যার দেহ মসজিদ,
তার ভিতর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকে না।"__
__"দুধ ফেললে দুধই থাকে।
জ্বাল দিলে ঘি হয়।
রসও তাই। ফেললে পানি, রাখলে নূর।"__
__"উত্তেজনা গুনাহ না।
ভুল জায়গায় খরচ করাটাই গুনাহ।
দিক বদলাও, ইবাদত হয়ে যাবে।"__
__"নারী চাইলে নিজেকে আয়না বানাতে পারে।
আয়না ময়লা হলে নূর ধরে না।"_*
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!