কখনো চারপাশে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে, তবুও ভেতরটা অস্থির লাগে।
মনে হয়— “একটু শান্ত হতে পারলে ভালো লাগত।”
থেরাপিতে এমন পরিস্থিতিতে কখনো Safe Place Imagery ব্যবহার করা হয়।
এতে এমন একটি জায়গা কল্পনা করতে বলা হয়, যেখানে আপনি নিরাপদ ও স্বস্তি অনুভব করেন। জায়গাটি বাস্তবও হতে পারে, আবার পুরোপুরি কল্পনারও হতে পারে।
শুধু জায়গাটিকে ভাবলেই হয় না। কী দেখছেন, কী শুনছেন, কী গন্ধ পাচ্ছেন, শরীরে কেমন অনুভূতি হচ্ছে—এসবের দিকে ধীরে ধীরে মনোযোগ দেওয়া হয়।
কেন এটি সাহায্য করতে পারে?
আমরা কোনো দৃশ্য কল্পনা করলেও শরীর তাতে কিছুটা সাড়া দিতে পারে। যেমন, খারাপ কিছু ভাবলে বুক ধড়ফড় করতে পারে বা শরীর টানটান হয়ে যেতে পারে।
তেমনি শান্ত কোনো দৃশ্য মনোযোগ দিয়ে কল্পনা করলে শরীরও ধীরে ধীরে শান্ত হওয়ার সংকেত পেতে পারে।
নিয়মিত অনুশীলনে এই শান্ত অনুভূতিতে ফিরে আসা কিছুটা সহজ হতে পারে।
কীভাবে শুরু করবেন?
প্রথমে এমন একটি জায়গা বেছে নিন, যেখানে নিজেকে নিরাপদ ও স্বস্তিতে মনে হয়। সেটা আপনার পরিচিত কোনো জায়গা হতে পারে, আবার নিজের কল্পনায় তৈরি করেও নিতে পারেন।
আরাম করে বসুন বা শুয়ে থাকুন। চোখ বন্ধ করতে স্বস্তি হলে চোখ বন্ধ করুন। অস্বস্তি হলে চোখ খোলা রাখুন।
এবার জায়গাটিকে মনে মনে ধীরে ধীরে দেখতে শুরু করুন।
চারপাশে কী আছে, কী রঙ দেখতে পাচ্ছেন, আলো কেমন—খেয়াল করুন।
তারপর শব্দের দিকে মনোযোগ দিন।
কী শুনতে পাচ্ছেন? বাতাস, পাখির ডাক, পানির শব্দ—নাকি নীরবতা?
এরপর গন্ধ, তাপমাত্রা ও শরীরের অনুভূতি লক্ষ্য করুন। বাতাস শরীরে লাগছে কি না, শরীরের কোথাও আরাম লাগছে কি না—শুধু খেয়াল করুন।
এভাবে কয়েক মিনিট জায়গাটির বিভিন্ন অনুভূতির দিকে মনোযোগ রাখুন। জোর করে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই।
তবে এটি সবার জন্য একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। কোনো জায়গাকেই নিরাপদ মনে না হলে, চোখ খোলা রেখে চারপাশের জিনিস, শব্দ ও শরীরের অনুভূতিতে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।
আর অতীতের ট্রমা থাকলে, এই ধরনের exercise প্রশিক্ষিত থেরাপিস্টের নির্দেশনায় করা নিরাপদ।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!