প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসরুই মাছের ডিজিটাল দাম!

গল্প ও উপন্যাস

রুই মাছের ডিজিটাল দাম!

রুই মাছের ডিজিটাল দাম!


১. ভুট্টো মিয়া: একজন অতি-চালাক মাছ ব্যবসায়ী (যে ওজনে কম দিতে ও বাড়িয়ে বলতে ওস্তাদ)।

বিজ্ঞাপন


২. মতিন সাহেব: একজন কড়া ক্রেতা (যিনি সহজে ঠকার পাত্র নন এবং খিটখিটে স্বভাবের)।


৩. নেপথ্য কণ্ঠ/বাজারের মানুষ: বাজারের চিরচেনা হট্টগোল।

------------------------------

[দৃশ্যপট: একটি কাঁচাবাজারের মাছের দোকান। বরফ দেওয়া বাক্সে বড় বড় রুই, কাতল ও ইলিশ মাছ সাজানো। পেছনে একটা ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন রাখা। ভুট্টো মিয়া হাতে একটা কাটারি নিয়ে মাছ কাটছে আর কায়দা করে ক্রেতা ডাকছে।]


ভুট্টো মিয়া: (হাঁক ছেড়ে) এই আইসা পড়েন! পদ্মার জ্যান্ত রুই, মেঘনার টাটকা ইলিশ! একদম পানির দামে মাছ! ইলিশ নিবেন তো মুখে দিলে মাখনের মতো গলে যাবে! আইসা পড়েন!


[মতিন সাহেব ছাতা বগলে, হাতে বাজারের থলি নিয়ে গম্ভীর মুখে দোকানে এসে দাঁড়ালেন এবং একটা বড় রুই মাছের পেটে আঙুল দিয়ে টিপে দেখলেন।]


মতিন সাহেব: এই যে মাছওয়ালা, মাছটা কি আসলেই তাজা? নাকি বরফ দিয়ে আইসিইউতে বাঁচিয়ে রেখেছ? পেটে আঙুল দিতেই তো দেবে যাচ্ছে!


ভুট্টো মিয়া: (বুক ফুলিয়ে) কী যে বলেন মতিন ভাই! এই মাছ আজ সকালেই নদী থেকে লাফ দিয়ে সোজা আমার বরফের বাক্সে এসে ঢুকেছে! মাছের চোখ দুইটা দেখেন, যেন আপনার দিকে তাকিয়ে হাসছে!


মতিন সাহেব: (মাছের চোখের দিকে তাকিয়ে) হাসছে না ছাই! মাছের চোখ তো পুরো লাল হয়ে আছে। মনে হচ্ছে সারা রাত জেগে সিনেমা দেখেছে! তা দাম কত?


ভুট্টো মিয়া: আপনার জন্য একদম এক দাম— ৬০০ টাকা কেজি। মাত্র ৩ কেজি ওজন আছে। নিলে এক দামে ১৮০০ টাকা দিয়ে দেন। একদম খাঁটি নদীর মাছ, গঙ্গাজল দিয়ে ধোয়া!


মতিন সাহেব: (মুখ বাঁকিয়ে) ৩০০ টাকা দেব। দিলে দাও, নয়তো পাশের দোকানে যাই।


ভুট্টো মিয়া: (বুক ধড়ফড় করার ভিনয় করে) ওরে বাবারে! ৩০০ টাকা? এই দামে তো মাছের আঁশও পাবেন না মতিন ভাই! আচ্ছা যান, আপনি বাজারের পুরোনো কাস্টমার, আপনার জন্য ৫০০ টাকা রাখলাম। ডিজিটাল মেশিনে ওজন দিয়ে দিই?


মতিন সাহেব: আচ্ছা দাও। তবে সাবধান, ওজনে এক ছটাক কম হলে কিন্তু কাটারি দিয়ে তোমার কান কেটে নেব!


[ভুট্টো মিয়া মাছটা ডিজিটাল মেশিনে তুলল। মেশিনের পর্দায় ভেসে উঠল ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। কিন্তু ভুট্টো মিয়া চতুরতার সাথে তার এক আঙুল মেশিনের এক কোণায় চেপে ধরে ওজন ৩ কেজি বানিয়ে দিল!]


ভুট্টো মিয়া: এই দেখেন মতিন ভাই! একদম ডিজিটাল কারবার, কোনো দুই নম্বরি নাই। কাঁটায় কাঁটায় ৩ কেজি! দাম হলো ১৫০০ টাকা। কেটে দেব?


মতিন সাহেব: (চশমা ঠিক করে মেশিনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন, তিনি ভুট্টো মিয়ার আঙুল চাপার কারসাজি ধরে ফেলেছেন) হ্যাঁ, কাটো। তবে পিসগুলো যেন একদম সমান হয়।


[ভুট্টো মিয়া খুশিতে মাছ কাটতে লাগল। মাছ কাটা শেষ হলে সে মাছগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে মতিন সাহেবের দিকে বাড়িয়ে দিল।]


ভুট্টো মিয়া: এই নেন ভাই, আপনার ৩ কেজি রুই মাছ। এবার জলদি ১৫০০ টাকা বের করেন।

[মতিন সাহেব পকেট থেকে ১০০০ টাকার একটা নোট বের করে ভুট্টো মিয়ার হাতে দিলেন।]


ভুট্টো মিয়া: (নোটটা উল্টেপাল্টে দেখে অবাক হয়ে) একি মতিন ভাই! দিলেন তো মোটে ১০০০ টাকা! বাকি ৫০০ টাকা কই? ৩ কেজির দাম তো ১৫০০ টাকা হয়!


মতিন সাহেব: (অত্যন্ত শান্ত গলায় থলিটা হাতে নিয়ে) হিসাব তো একদম ঠিকই আছে ভুট্টো মিয়া। মাছের আসল ওজন ছিল ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। আর বাকি ৩০০ গ্রাম ছিল তোমার ওই ডান হাতের বুড়ো আঙুলের ওজন!


ভুট্টো মিয়া: (জিভ কেটে) মানে? কী বলছেন এসব?


মতিন সাহেব: (হেসে) আরে মিয়া, আমি তো আর রুই মাছের সাথে তোমার আঙুলের ভর্তা রান্না করে খাব না! তাই তোমার আঙুলের ৩০০ গ্রামের দাম অর্থাৎ ৫০০ টাকা কেটে রেখেছি। নিজের আঙুল নিজের কাছেই রাখো, আর মাছের দাম ১০০০ টাকাই ধরো!


ভুট্টো মিয়া: (হাঁ করে নিজের আঙুলের দিকে তাকিয়ে, আমতা আমতা করে) ইয়ে... মানে মতিন ভাই... ডিজিটাল মেশিনে একটু সমস্যা করছিল আর কি...


মতিন সাহেব: (ছাতাটা ঘুরিয়ে হাসতে হাসতে) ডিজিটাল মেশিনে সমস্যা ছিল না ভুট্টো, সমস্যা ছিল তোমার নিয়তে! চলি ভাই, কাল এসে আবার তোমার অন্য আঙুলের ওজন মেপে যাব!


[মতিন সাহেব বাজারের থলি দোলাতে দোলাতে শিস দিতে দিতে চলে যান। ভুট্টো মিয়া মাথায় হাত দিয়ে ১০০০ টাকার নোটের দিকে তাকিয়ে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকে।]

(-সমাপ্ত-)

------------------------------


০ মন্তব্য · ৩২ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!