১৭৫৭ সালে মারাঠাদের দিল্লি দখল ভারতের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়ে মারাঠা সাম্রাজ্য তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করছিল। পেশোয়া বালাজি বাজি রাওয়ের ভাই রঘুনাথরাও এবং সেনাপতি মলহার রাও হোলকারের নেতৃত্বে মারাঠা বাহিনী ১৭৫৭ সালের আগস্ট মাসে আফগান শাসক আহমেদ শাহ আবদালির প্রতিনিধি নজিব-উদ্দৌলাকে পরাজিত করে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
সেই সময় নামেমাত্র মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় আলমগীর। দিল্লি দখলের পর মারাঠা শিবিরে আলোচনা শুরু হয় যে, দুর্বল মুঘল সম্রাটকে সরিয়ে সরাসরি কোনো মারাঠাকে দিল্লির সিংহাসনে বসানো হবে। মূলত পেশোয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র বিশ্বাসরাওকে দিল্লির সিংহাসনে বসানোর একটি জোরালো প্রস্তাব উঠেছিল। এটি সফল হলে পুরো ভারত সরাসরি হিন্দু মারাঠা সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসত।
মারাঠা নেতৃত্ব (বিশেষ করে পুনেতে থাকা পেশোয়া) বুঝতে পেরেছিলেন যে, একজন হিন্দু মারাঠাকে সরাসরি মুঘল সিংহাসনে বসালে ভারতের সমস্ত মুসলিম নবাব, নিজাম এবং স্থানীয় শাসকরা তাদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে যাবে। সিংহাসন দখল করলে আফগান শাসক আহমেদ শাহ আবদালির সাথে সরাসরি এবং সর্বাত্মক যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ত, যার জন্য মারাঠারা সে মুহূর্তে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। মারাঠাদের রাজধানী ছিল পুনেতে। এত দূর থেকে সরাসরি দিল্লির সিংহাসন সামলানো লজিস্টিক্যালি অত্যন্ত কঠিন এবং ব্যয়বহুল ছিল।মারাঠারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, সরাসরি সিংহাসন দখল করার চেয়ে মুঘল সম্রাটকে সিংহাসনে বসিয়ে রেখে পেছন থেকে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা বেশি সুবিধাজনক।
মারাঠারা শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় আলমগীরকে নামেমাত্র মুঘল সম্রাট হিসেবে রেখে দেয় এবং তাদের বিশ্বস্ত ইমাদ-উল-মুলককে উজির (প্রধানমন্ত্রী) হিসেবে নিয়োগ দেয়। এর মাধ্যমে মারাঠারা কার্যত পুরো উত্তর ভারতের অঘোষিত শাসকে পরিণত হয়। তবে তাদের এই আগ্রাসী সম্প্রসারণের কারণেই আফগান এবং অন্যান্য মুসলিম শাসকরা একত্রিত হয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৭৬১ সালের পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!