প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসজিব্রাইল (আ.)

গল্প ও উপন্যাস

জিব্রাইল (আ.)

জিব্রাইল (আ.)

আসমানের এক নীরব প্রান্তে মালাকুল মউত ও জিব্রাইল আলাইহিস সালামের সাক্ষাৎ হলো—এটি কোনো বর্ণিত হাদিস নয়, বরং শিক্ষামূলক কল্পিত দৃশ্য।

জিব্রাইল (আ.) বললেন, “হে মালাকুল মউত, আল্লাহ আপনাকে মানুষের রূহ কবজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন—কাজটি কত মহান ও কঠিন!”

বিজ্ঞাপন

মালাকুল মউত বললেন, “আমি নিজ ইচ্ছায় কারও মৃত্যু ঘটাই না; আল্লাহর আদেশেই দায়িত্ব পালন করি।”

আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমাদের প্রাণ হরণ করবে সেই মৃত্যুর ফেরেশতা, যে তোমাদের জন্য নিযুক্ত”—সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১১।

জিব্রাইল (আ.) বললেন, “আর আমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীদের কাছে ওহি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে

কুরআনে এসেছে, জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর অনুমতিতে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর অন্তরে কুরআন পৌঁছে দিয়েছেন—সূরা আল-বাকারা ২:৯৭।

মালাকুল মউত বললেন, “তোমার দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া, আর আমার দায়িত্ব নির্ধারিত সময়ে তাদের রূহ কবজ করা।”

জিব্রাইল (আ.) বললেন, “তাহলে আমাদের উভয়ের কাজই আল্লাহর আদেশ পালন করা, নিজের কোনো ক্ষমতা দেখানো নয়।”

মালাকুল মউত বললেন, “হ্যাঁ, কোনো প্রাণীর মৃত্যু আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে হয় না।”

জিব্রাইল (আ.) বললেন, “মানুষ যদি মৃত্যুকে স্মরণ করত, তাহলে হয়তো তারা দুনিয়ার মোহে এতটা ডুবে থাকত না।”

মালাকুল মউত বললেন, “মৃত্যু মানুষের শেষ নয়; মৃত্যুর পর প্রত্যেককেই তার রবের কাছে ফিরে যেতে হবে।”

কারণ কুরআন ঘোষণা করেছে, “তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে”—সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১১।

জিব্রাইল (আ.) বললেন, “তাহলে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো আল্লাহর আনুগত্য ও ঈমানের ওপর জীবন শেষ করা।”

মালাকুল মউত বললেন, “নিশ্চয়ই, কারণ মৃত্যুর মুহূর্ত কখন আসবে—তা কোনো মানুষ জানে না।”

এই কল্পিত কথোপকথনের শিক্ষা হলো—জীবন ক্ষণস্থায়ী, মৃত্যু নিশ্চিত, আর শেষ প্রত্যাবর্তন একমাত্র আল্লাহর কাছেই; তাই মৃত্যুর আগে ঈমান ও আমল ঠিক করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

০ মন্তব্য · ৪৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!