সায়েন্স ফিকশন মানেই যে শুধু মহাকাশ, এলিয়েন আর পৃথিবী বাঁচানোর গল্প হতে হবে, এমন না। 'প্রজেক্ট হেইল মেরি' সেটা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে। Andy Weir-এর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমাটা শুরুতে যতটা রহস্যময়, ধীরে ধীরে ততটাই মানবিক হয়ে ওঠে।
Ryan Gosling-এর চরিত্রটা সিনেমার সবচেয়ে বড় শক্তি। একজন সাধারণ সাইন্স টিচার, যে হঠাৎ নিজেকে পৃথিবী থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে একটি মহাকাশযানে আবিষ্কার করে, অথচ নিজের মিশন বা সেখানে কীভাবে পৌঁছেছে কিছুই মনে নেই। এরপর স্মৃতি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকও তার সঙ্গে সেই রহস্যের ভেতরে ঢুকতে থাকে।
তবে সিনেমার আসল চমক 'রকি'। একজন মানুষ আর এক ভিনগ্রহের প্রাণীর মধ্যে বন্ধুত্ব কীভাবে ভাষা, সংস্কৃতি আর প্রজাতির সব সীমা অতিক্রম করতে পারে, সিনেমাটা সেটাই খুব সুন্দরভাবে দেখিয়েছে। রকি-র সঙ্গে গ্রেস-এর কেমিস্ট্রি এতটাই প্রাণবন্ত যে একটা সময় পর তাকে আর শুধু CGI ক্যারেক্টার মনে হয় না। বরং মনে হয়, সত্যিই দুজন বন্ধুকে দেখছি।
সিনেমাটার সাইন্স অংশটাও বেশ উপভোগ্য। সমস্যার পর সমস্যা, আর সেগুলো সমাধান করার জন্য গ্রেস-এর সাইন্টিফিক থিংকিং, ট্রায়াল এন্ড এরর এবং আবার চেষ্টা করা, পুরো ব্যাপারটাকে বেশ এংগেইজিং করে রেখেছে। অনেকটা The Martian-এর মতো সারভাইভালের ফ্লেভার আছে, তবে এখানে গল্পটা শেষ পর্যন্ত শুধু একজন মানুষের বেঁচে থাকার গল্প হয়ে থাকে না।
এত বড় একটা ক্রাইসিস-এর গল্প হয়েও সিনেমাটা শেষ পর্যন্ত মানুষের বুদ্ধি, সহযোগিতা আর একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের ওপর আস্থা রাখতে শেখায়। সাম্প্রতিক অনেক বড় বাজেটের সাইফাই যেখানে শুধু স্পেকটেকল দেখাতেই ব্যস্ত থাকে, সেখানে 'প্রজেক্ট হেইল মেরি' একটু বেশি আবেগ নিয়ে এগিয়েছে।
২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের রানটাইম কিছু জায়গায় একটু বেশি মনে হয়েছে। বিশেষ করে শেষের দিকে কয়েকটা অংশ আরেকটু সংক্ষিপ্ত হলে পেসিং আরও ভালো হতে পারত। আর কিছু হিউমার ও ডায়ালগ মাঝে মাঝে একটু বেশি প্রেডিক্টেবল এবং চিসি লেগেছে। তবে ছবির গল্পের আবেগের কাছে এইসব ঠুনকো লেগেছে।
সব মিলিয়ে ছবিটা শেষ হওয়ার পর শুধু মহাকাশ বা এলিয়েন-এর কথা মনে থাকে না, বরং বন্ধুত্ব, সহযোগিতা আর মানুষ হিসেবে আমরা কতটা ভালো হতে পারি, সেই কথাটাই বেশি মনে থাকে।
এটা হয়তো ইন্টারস্টেলার-এর মতো দার্শনিক বা The Martian-এর মতো গ্রাউন্ডেড নয়। কিন্তু নিজের মতো করে এটা খুবই এন্টারটেইনিং, ইমোশনাল এবং আশাবাদী একটা সাইফাই এডভেঞ্চার।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!