ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুর সময় তার প্রাণ গ্রহণের জন্য মালাকুল মউত—মৃত্যুর ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন; কুরআনে বলা হয়েছে, “মৃত্যুর ফেরেশতা, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে, সে তোমাদের প্রাণ গ্রহণ করবে” (সূরা আস-সাজদাহ ৩২:১১)।
কুরআনের অন্য আয়াতে আবার মৃত্যুর সময় একাধিক ফেরেশতা আত্মা গ্রহণের কথা এসেছে, যা থেকে বোঝা যায় যে মালাকুল মউতের সঙ্গে অন্য ফেরেশতারাও এ কাজে অংশ নিতে পারেন।
তবে “প্রত্যেক মানুষ মৃত্যুর মুহূর্তে মালাকুল মউতকে অবশ্যই নিজের চোখে দেখবে”—এ কথা কুরআন বা নির্ভরযোগ্য হাদিসে সাধারণভাবে এভাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
অতএব, নিশ্চিতভাবে বলা যায়—মৃত্যুর সময় আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা মানুষের রূহ বা প্রাণ গ্রহণ করেন
মালাকুল মউত একাই সব করেন—এমন ধারণাও সম্পূর্ণ নয়; কুরআনে “আমাদের ফেরেশতারা” মানুষের প্রাণ গ্রহণ করে বলা হয়েছে।
মুমিনের মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং তার রূহ গ্রহণের বিষয়ে হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
তবে ফেরেশতাদের প্রকৃত চেহারা কেমন এবং মৃত ব্যক্তি তাদের ঠিক কীভাবে দেখতে পায়—এগুলো গায়েবের বিষয়।
তাই প্রচলিত গল্প বা দুর্বল বর্ণনার ভিত্তিতে নিশ্চিত কোনো দৃশ্যের দাবি করা উচিত নয়।
আর “মালাকুল মউত” নামের অর্থই হলো মৃত্যুর ফেরেশতা, যাকে আল্লাহ মানুষের রূহ গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছেন।
রূহ গ্রহণের পর মানুষকে তার রবের কাছে ফিরে যেতে হবে—কুরআন এ কথাও স্পষ্ট করেছে।
সুতরাং মৃত্যুর মুহূর্তটি শুধু দেহের জীবন শেষ হওয়া নয়; এটি আখিরাতের জীবনের দিকে যাত্রার শুরু।
মৃত্যুর সময় কী কী দেখা যায়—এ বিষয়ে যতটুকু ওহি দ্বারা প্রমাণিত, ততটুকুই বিশ্বাস করা নিরাপদ।
বিশেষ করে “প্রত্যেক মৃত ব্যক্তি মালাকুল মউতের চেহারা দেখবেই”—এমন কথা নিশ্চিতভাবে প্রচার করা ঠিক নয়।
আমাদের জন্য মূল শিক্ষা হলো, মৃত্যুর সময় কখন আসবে তা কেউ জানে না; তাই ঈমান ও নেক আমল নিয়ে প্রস্তুত থাকা জরুরি।
আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞানী।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!