যখন ঋণের বোঝা ভারী হয়ে যায়, বিয়ের সমন্ধ বারবার আটকে যায়, পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের জট কিছুতেই খোলে না, আর মনে হয় চারপাশের সব রাস্তা বন্ধ- তখন শুধু একবার স্মরণ করুন, সমস্ত কিছুর চাবি একমাত্র তাঁরই হাতে!
আপনার মুখের ওপর বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজাগুলো মোটেও রাস্তার শেষ প্রান্ত নয়। সেগুলো শুধু অপেক্ষা করছে আপনি কখন তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে মন থেকে ডাকবেন:
"ইয়া ফাত্তাহ! (হে উন্মুক্তকারী), আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন!"
'আল-ফাত্তাহ' (উন্মুক্তকারী) এর ওপর বিশ্বাস রাখার মানে হলো, এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তাই চোখে পড়ছে না, ঠিক সেখান থেকেও তিনি পথ বের করে দিতে পারেন!
হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় সাহাবীরা ভেবেছিলেন শর্তগুলো বড্ড একপেশে, ইসলামের প্রচারের সব দরজা যেন বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি হযরত ওমর (রা.)-ও চরম কষ্ট আর ক্ষোভে ছিলেন। কিন্তু আসমানের হিসাব-নিকাশ ছিল একেবারেই ভিন্ন!
হতাশার সেই চরম মুহূর্তেই নাজিল হলো:
"নিশ্চয়ই আমি আপনাকে এক সুস্পষ্ট বিজয় (ফাতহ) দান করেছি!"
যে বিষয়টিকে তাঁরা 'বন্ধ দরজা' ভেবেছিলেন, সেটাই ছিল ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় বা 'উন্মোচন'!
'আল-ফাত্তাহ' যখন কোনো কিছু খুলে দেওয়ার ফয়সালা করেন, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই আপনার সেই দরজা বন্ধ করতে পারে না। তখন যা ঘটে:
• তিনি এমন জায়গা থেকে আপনার রিযিকের দরজা খুলে দেবেন, যেখানে আপনি কোনো চেষ্টাই করেননি।
• আপনার অন্তরকে প্রশান্তি আর সঠিক বুঝ দিয়ে খুলে দেবেন।
• মানুষের হৃদয়ে আপনার জন্য ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতার দরজা খুলে দেবেন।
আজই মাত্র দুই মিনিটের জন্য হলেও একটু নিরিবিলি দাঁড়ান। আসমান-জমিনের সমস্ত ধনভাণ্ডারের মালিকের কাছে হাত দুটো তুলে ধরুন। যে বিষয়টা আপনাকে ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিচ্ছে, সেটার জন্য তাঁর কাছে পথ চেয়ে দোয়া করুন। এরপর পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে নিজের কাজে মন দিন। এই ভরসা রাখুন যে, আপনার জীবনেও মুক্তি আসাটা এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
"আল্লাহ মানুষের জন্য তাঁর রহমতের যে দরজা খুলে দেন, তা আটকে রাখার কেউ নেই। — (সূরা ফাতির: ২)
ইয়া রব! আপনিই 'আল-ফাত্তাহ' (মহা উন্মুক্তকারী)। আমাদের জীবনের যত বন্ধ দরজা আছে, যত আটকে থাকা কাজ আর না-বলা কষ্ট আছে — আপনার অসীম রহমতে সব জট খুলে দিন। আমাদের সবার জন্য কল্যাণের পথ সহজ করে দিন। আমিন!
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!