প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসজান্নাতি নারী "আছিয়া"

গল্প ও উপন্যাস

জান্নাতি নারী "আছিয়া"

জান্নাতি নারী "আছিয়া"

একজন জান্নাতি নারীর ঘটনা পড়ুন। যার কথা আল্লাহ কোরআনে বলেছেন। এমন এক নারীর ঘটনা, যিনি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজার স্ত্রী হয়েও আল্লাহর জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। পড়ুন।

*

বিজ্ঞাপন

এই মহান জান্নাতি নারীর নাম, নাম আসিয়া বিনতে মুযাহিম (রাঃ)। তিনি ছিলেন জালিম ফেরাউনের স্ত্রী। এবং ছিলেন মিশরের রাণী। বিশাল রাজপ্রাসাদ। অগণিত দাস-দাসী তার সেবার জন্য নিয়োজিত। স্বর্ণ-রৌপ্যের ঐশ্বর্য। ক্ষমতা, সম্মান, রাজকীয় জীবন, কোনো কিছুরই অভাব ছিল না।

*

যখন মুসা (আঃ) আল্লাহর বাণী নিয়ে ফেরাউনের কাছে এলেন, তখন আসিয়ার অন্তরে সত্যের আলো জ্বলে উঠল। মহান আল্লাহ আসিয়ার অন্তরে নূর ঢেলে দিলেন। তিনি বুঝলেন, রব ফেরাউন নয়। রব একমাত্র আল্লাহ। দুনিয়ার সব থেকে শক্তিধর ফিরাউন নয়, সব কিছু যার হাতের মুঠোয় তিনি আল্লাহ। আসিয়া গোপনে আল্লাহর ওপর ঈমান আনলেন।

*

একসময় ফেরাউন তার ঈমানের কথা জেনে গেল। সে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে উঠল। সে চাইল, আসিয়া যেন আল্লাহকে অস্বীকার করে। আল্লাহকে ত্যাগ করে। কিন্তু আসিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘তিনি আর কখনো সত্য থেকে ফিরে যাবেন না’।

*

এরপর শুরু হলো নির্মম নির্যাতন। আসিয়াকে খোলা প্রান্তরে নিয়ে যাওয়া হলো। তার হাত-পা শক্ত করে বেঁধে ফেলা হলো। প্রখর রোদের নিচে ফেলে রাখা হলো। বুকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো ভারী পাথর।

*

ফেরাউন ভাবল, এত কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি ঈমান ছেড়ে দেবেন।

 

কিন্তু আল্লাহর প্রতি আসিয়ার ভালোবাসা দুনিয়ার সব কষ্টের চেয়ে বড় ছিল। আল্লাহর প্রতি ঈমান তার জীবনের চাইতে দামী ছিল।

*

সেই কঠিন মুহূর্তে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে এমন একটি দোয়া করলেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের মুখে মুখে থাকবে,

"হে আমার রব! আপনার কাছে জান্নাতে আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার কাজ থেকে মুক্তি দিন এবং জালিম সম্প্রদায় থেকে আমাকে নাজাত দিন।"

*

মহান আল্লাহ জান্নাতি নারীর এই দোয়া কবুল করলেন। নির্যাতনের মাঝেই আল্লাহ তাকে জান্নাতে তার ঘর দেখিয়ে দিলেন। জান্নাতের সেই নিয়ামত দেখে তার হৃদয় প্রশান্ত হয়ে গেল। দুনিয়ার প্রাসাদ তখন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে গেল। একসময় তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।

*

 

দুনিয়ায় তিনি ছিলেন ফেরাউনের প্রাসাদের রাণী। কিন্তু আখিরাতে তিনি হলেন জান্নাতের অধিবাসী। ক্ষমতা তাকে মহান করেনি।


ঈমান তাকে মহান করেছে। মহান আল্লাহ তাকে শুধু জান্নাতই দেননি, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত ঈমানদারদের জন্য তাকে একটি আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জান দিব কিন্তু ঈমান দিব না এর পাক্কা একটা উদাহরণ আসিয়া (রাঃ)।


কুরআন-এ আল্লাহ বলেন,

"আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য উদাহরণ হিসেবে ফেরাউনের স্ত্রীর কথা উল্লেখ করেছেন.।"(৬৬:১১)

*

মহান আল্লাহ আমাদের এমন ঈমান দান করুন, যে ঈমান আমাদেরকে জান্নাতে এই জান্নাতি নারী আসিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করাবে…।

০ মন্তব্য · ৫২ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!