প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসভালো কাজের প্রতিদান

গল্প ও উপন্যাস

ভালো কাজের প্রতিদান

ভালো কাজের প্রতিদান

#পুরোনো একটি শহরের ব্যস্ত বাজারে ছোট্ট একটি জুতার দোকান ছিল। দোকানের মালিকের নাম ছিল রাশেদ। বাবার কাছ থেকেই সে জুতা মেরামতের কাজ শিখেছিল। দোকানটি খুব বড় ছিল না—এক পাশে কাঠের তাক, তাতে কিছু পুরোনো জুতা, চামড়ার টুকরা, সুতা, পেরেক আর নানা ধরনের যন্ত্রপাতি। দোকানের সামনে একটি পুরোনো কাঠের পিঁড়ি ছিল। সারাদিন সেখানে বসে রাশেদ মানুষের জুতা সেলাই করত, সোল লাগাত আর ছেঁড়া স্যান্ডেল মেরামত করত।


বিজ্ঞাপন

রাশেদের সংসারও খুব স্বচ্ছল ছিল না। স্ত্রী, এক ছেলে এবং অসুস্থ বাবাকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন যত টাকা উপার্জন হতো, তার একটা অংশ দিয়ে সংসার চলত, আর বাকিটা দিয়ে বাবার ওষুধ কিনতে হতো। কোনো দিন বেশি কাজ থাকলে রাতে একটু ভালো খাবার হতো, আর কোনো দিন কাজ কম হলে ডাল-ভাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো।


তবে রাশেদের একটি গুণ ছিল—সে মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করত। দরিদ্র মানুষের জুতা মেরামত করতে গিয়ে তাদের অবস্থা বুঝে অনেক সময় মজুরি কমিয়ে দিত। কিন্তু তার নিজের সংসারে অভাব থাকায় সে সবসময় সাহায্য করতে পারত না।


একদিন দুপুরের দিকে বাজারে একজন অচেনা বৃদ্ধ এসে রাশেদের দোকানের সামনে বসে পড়লেন। তার পরনে ছিল পুরোনো, ধুলোমাখা কাপড়। হাতে একটি লাঠি। পায়ে প্রায় ছেঁড়া স্যান্ডেল। মুখে ক্লান্তির ছাপ।


রাশেদ কাজ করতে করতে বলল, “চাচা, শরীর খারাপ?”

বৃদ্ধ বললেন, “না বাবা, একটু বসছি। অনেক দূর হেঁটে এসেছি।”

রাশেদ বলল, “বসুন। পানি লাগলে বলবেন।”

বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, “আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুন।”

বৃদ্ধ প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে বসে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে চলে গেলেন।


পরদিন আবার তিনি এলেন।

আবার দোকানের সামনে বসে রইলেন।

এভাবে কয়েকদিন চলতে লাগল।


বাজারের অন্য দোকানদাররা বিষয়টি লক্ষ্য করল। একজন রাশেদকে বলল, “ওই বৃদ্ধ প্রতিদিন তোমার দোকানের সামনে বসে থাকে কেন? তাকে অন্য কোথাও যেতে বলো।”


রাশেদ বলল, “বৃদ্ধ মানুষ। একটু বসলে সমস্যা কী?”

লোকটি বলল, “সমস্যা হলো, তোমার দোকানের সামনে ক্রেতারা বসতে পারে না।”


রাশেদ চারদিকে তাকিয়ে দেখল। সত্যিই দোকানের সামনে জায়গা কম। বৃদ্ধ বসে থাকলে দু-একজন ক্রেতাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।


রাশেদ ভাবল, “আমার তো নিজেরও সংসার আছে। ব্যবসা কমে গেলে সমস্যা হবে।”


কিন্তু তারপর বৃদ্ধের ক্লান্ত মুখটির দিকে তাকিয়ে সে আর কিছু বলল না।


একদিন বিকেলে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। বাজারে মানুষজন ছায়া খুঁজছিল। বৃদ্ধ এসে রাশেদের দোকানের সামনে বসে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তার মাথা নিচু হয়ে গেল।


রাশেদ বুঝতে পারল, বৃদ্ধ দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

সে দ্রুত একটি গ্লাস পানি এনে বলল, “চাচা, পানি খান।”

বৃদ্ধ পানি খেয়ে বললেন, “বাবা, আজ সারাদিন কিছু খাইনি।”

রাশেদ থমকে গেল।


তার নিজের দোকানে সেদিনও খুব বেশি বিক্রি হয়নি। দুপুরে সে ও তার ছেলে একটি রুটি ভাগ করে খেয়েছিল। ঘরে ফেরার সময় বাজার থেকে কিছু আটা কিনতে হবে।


তার পকেটে থাকা টাকা সে একবার গুনল।

তারপর দোকানের পাশে রাখা নিজের খাবারের পুঁটলিটি বের করল। সেখানে ছিল দুটি রুটি এবং সামান্য ভাজি।

সে পুঁটলিটি বৃদ্ধের হাতে দিয়ে বলল, “চাচা, এটা খান।”

বৃদ্ধ বললেন, “না বাবা, তুমি খাও।”

রাশেদ বলল, “আমি খেয়ে নিয়েছি।”


আসলে সে পুরোপুরি খায়নি। কিন্তু বৃদ্ধ যেন সংকোচ না করেন, তাই কথাটি বলল।


বৃদ্ধ খাবারটি নিয়ে ধীরে ধীরে খেতে লাগলেন।

রাশেদ আবার কাজে বসে গেল।

কিছুক্ষণ পর তার ছেলে দোকানে এসে বলল, “আব্বা, আপনার খাবার কোথায়?”

রাশেদ বলল, “আজ ক্ষুধা নেই।”

ছেলে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলল না।

সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, “আজ এত দেরি হলো কেন?”

রাশেদ ঘটনা বলল।

স্ত্রী বললেন, “আপনি নিজের খাবার দিয়ে দিয়েছেন?”

রাশেদ মাথা নাড়ল।

স্ত্রী একটু চিন্তিত হয়ে বললেন, “কিন্তু আমাদের ঘরেও তো খুব বেশি খাবার নেই।”

রাশেদ বলল, “আমি জানি।”

“তাহলে?”


রাশেদ শান্তভাবে বলল, “আজ আল্লাহ আমাকে একজন ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে দাঁড় করিয়েছিলেন। আমি জানি না এটা আমার পরীক্ষা ছিল কি না। তবে আমি চাইনি, সেই পরীক্ষা দিয়ে খালি হাতে ফিরতে।”


তার স্ত্রী আর কিছু বললেন না।

পরদিন সকালে রাশেদ দোকান খোলার আগেই দেখল, বৃদ্ধ বাজারের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি এক দোকানদারের কাছে কিছু জিজ্ঞেস করছেন।


রাশেদ এগিয়ে গেল।

“চাচা, কোথায় যাবেন?”


বৃদ্ধ বললেন, “একজন আত্মীয়কে খুঁজছি। শুনেছি তিনি এই শহরে থাকেন। কিন্তু ঠিকানা জানি না।”


রাশেদ বলল, “আপনার আত্মীয়ের নাম কী?”

বৃদ্ধ নাম বললেন।


রাশেদ বাজারের কয়েকজন পুরোনো ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করল। কিন্তু কেউ চিনল না।


বৃদ্ধ হতাশ হয়ে বললেন, “মনে হয় আমি ভুল জায়গায় চলে এসেছি।”


রাশেদ বলল, “চাচা, আপনি চাইলে আজ আমার দোকানের পাশে থাকুন। আমরা খোঁজ নেব।”


বৃদ্ধ অবাক হয়ে তাকালেন।

“তুমি এত কষ্ট করছ কেন?”


রাশেদ বলল, “আপনি আমার বাবার বয়সী। আপনার জন্য একটু সময় দেওয়া আমার ক্ষতি নয়।”


সেদিন রাশেদ নিজের কাজের পাশাপাশি বৃদ্ধের আত্মীয়কে খুঁজতে লাগল।


দুই দিন পরও কোনো খবর পাওয়া গেল না।


তৃতীয় দিন বিকেলে বাজারে একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি এসে রাশেদের দোকানের সামনে দাঁড়ালেন। তিনি বৃদ্ধকে দেখে হঠাৎ চিৎকার করে বললেন, “চাচা!”


বৃদ্ধ তাকিয়ে বললেন, “তুমি?”

লোকটি দৌড়ে এসে বৃদ্ধকে জড়িয়ে ধরল।


রাশেদ বুঝতে পারল, বহুদিনের বিচ্ছিন্ন আত্মীয় অবশেষে তাকে খুঁজে পেয়েছে।


লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল, “চাচা, আমরা ভেবেছিলাম আপনি আর বেঁচে নেই। কয়েক মাস ধরে আপনাকে খুঁজছি।”


বৃদ্ধ বললেন, “আমি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম।”

লোকটি রাশেদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে?”


বৃদ্ধ বললেন, “এই মানুষটি আমাকে কয়েকদিন ধরে আশ্রয় দিয়েছে। আমাকে খাবার দিয়েছে। আমার কথা শুনেছে। এমনকি নিজের দোকানের সামনে বসতে দিয়েছে।”


লোকটি রাশেদের হাত ধরে বলল, “আপনি যা করেছেন, তার প্রতিদান আমি কীভাবে দেব?”


রাশেদ হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, “আমার কোনো প্রতিদান দরকার নেই। আল্লাহ আপনাদের মিলিয়ে দিয়েছেন, এটাই যথেষ্ট।”


লোকটি বলল, “তবুও আমি কিছু দিতে চাই।”


রাশেদ বলল, “যদি সত্যিই কিছু করতে চান, তাহলে আপনার আশেপাশে এমন কোনো মানুষকে খুঁজে সাহায্য করুন, যে আপনার সাহায্যের অপেক্ষায় আছে।”


লোকটি চুপ করে গেল।


বৃদ্ধ রাশেদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বাবা, তুমি জানো না তুমি আমাকে কী দিয়েছ।”


রাশেদ বলল, “খাবার আর একটু জায়গা।”


বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, “না। তুমি আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছ, পৃথিবীতে এখনো মানুষের জন্য মানুষের হৃদয় খোলা আছে।”


তারপর তিনি বললেন, “আমি যখন তোমার দোকানের সামনে প্রথম দিন বসেছিলাম, তখন ভেবেছিলাম তুমি হয়তো আমাকে তাড়িয়ে দেবে। কিন্তু তুমি তা করোনি।”


রাশেদ বলল, “চাচা, আপনাকে তাড়ানোর মতো আমি কে? আজ আপনি দুর্বল, কাল আমিও হতে পারি।”


বৃদ্ধের চোখে পানি এসে গেল।


তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাকে এমন দিনে সাহায্য করুন, যেদিন তোমার সাহায্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে।”


বৃদ্ধ তার আত্মীয়ের সঙ্গে চলে গেলেন।


কয়েক মাস পর রাশেদের নিজের জীবনে কঠিন সময় এল। তার দোকানের ছাদে আগুন লেগে অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে গেল। চামড়া, যন্ত্রপাতি, কাঠের তাক—সব পুড়ে গেল। তার কয়েক মাসের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেল।


রাশেদ হতাশ হয়ে দোকানের সামনে বসে ছিল।

সে ভাবছিল, “এখন কীভাবে আবার শুরু করব?”

ঠিক তখন একজন লোক এসে তার সামনে দাঁড়াল।

রাশেদ তাকিয়ে দেখল, সেই বৃদ্ধের আত্মীয়।

লোকটি বলল, “আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?”

রাশেদ বলল, “হ্যাঁ।”


লোকটি বলল, “চাচা এখন আমার সঙ্গে আছেন। আপনার কথা তিনি প্রায়ই বলেন। আপনার দোকান পুড়ে যাওয়ার খবর শুনে তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন।”


রাশেদ বলল, “কী জন্য?”

লোকটি বলল, “চাচা বলেছেন, ‘যে মানুষ আমার দুর্বলতার সময় আমাকে জায়গা দিয়েছিল, আজ তার বিপদের সময় তুমি তার পাশে দাঁড়াও।’”


তারপর লোকটি কিছু টাকা এগিয়ে দিল।

রাশেদ নিতে চাইছিল না।


লোকটি বলল, “এটা দয়া নয়। এটা একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের দায়িত্ব।”


রাশেদ চোখের পানি মুছে টাকা নিল।

কিছুদিন পর তার দোকান আবার তৈরি হলো।

নতুন দোকানের সামনে সে একটি অতিরিক্ত কাঠের বেঞ্চ রাখল।

তার ছেলে জিজ্ঞেস করল, “আব্বা, এই বেঞ্চটা কেন?”


রাশেদ বলল, “যে মানুষটির বসার জন্য একদিন আমার দোকানের সামনে জায়গা ছিল না, তার কাছ থেকে আমি শিখেছি—মানুষের জন্য একটু জায়গা করে দিলে আল্লাহ কখনো কখনো আমাদের জীবনের জন্যও জায়গা তৈরি করে দেন।”


ছেলে বলল, “কিন্তু সবাই তো ভালো নয়।”


রাশেদ বলল, “সবাই ভালো হবে—এটা আশা করতে হবে না। কিন্তু আমরা যেন নিজের ভালোত্ব হারিয়ে না ফেলি, সেটাই দেখতে হবে।”


তারপর থেকে রাশেদের দোকানের সামনে সেই বেঞ্চটি সবসময় থাকত। কোনো বৃদ্ধ, পথিক বা ক্লান্ত মানুষ এলে সে বলত, “চাচা, একটু বসুন।”


কেউ পানি চাইলে পানি দিত। কেউ ক্ষুধার্ত হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার দিত। আর কেউ সাহায্য নিয়ে ধন্যবাদ দিতে চাইলে রাশেদ বলত, “আমাকে ধন্যবাদ দেবেন না। আল্লাহ যেন আমাকে আরও মানুষের কাজে লাগান—এই দোয়া করবেন।”


বছর কয়েক পর রাশেদের ছেলে বড় হলো। সে বাবার দোকানে কাজ করতে শুরু করল।


একদিন এক দরিদ্র বৃদ্ধ দোকানের সামনে এসে বসতে চাইল। ছেলে একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “আব্বা, এভাবে সবাইকে বসতে দিলে তো ক্রেতারা বসতে পারবে না।”


রাশেদ ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল, “তুমি কি জানো, তোমার বাবার দোকানের সামনে বসে থাকা একজন বৃদ্ধ একদিন আমাকে কী শিখিয়ে গিয়েছিলেন?”


ছেলে মাথা নাড়ল।


রাশেদ বলল, “মানুষের প্রয়োজন সবসময় টাকা দিয়ে মেটাতে হয় না। কখনো তাকে শুধু একটু জায়গা দিতে হয়, একটু সময় দিতে হয়, একটু সম্মান দিতে হয়।”


ছেলে চুপ হয়ে গেল।

রাশেদ বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে বলল, “চাচা, বসুন। যতক্ষণ ইচ্ছা বসুন।”

বৃদ্ধ বেঞ্চে বসে পড়লেন।

রাশেদ আবার নিজের কাজে ফিরে গেল।


কিন্তু তার অন্তরে তখন একটি পুরোনো শিক্ষা আরও গভীর হয়ে উঠছিল—


**মানুষের জন্য যে দরজা বন্ধ করে দেওয়া সহজ, সেই দরজা একটু খুলে রাখাই কখনো কখনো বড় ইবাদতের কারণ হতে পারে।**


### গল্পের শিক্ষা


আমরা প্রায়ই মনে করি, মানুষের উপকার করতে হলে অনেক টাকা দরকার। আসলে সব সময় তা নয়। কারও পাশে কয়েক মিনিট বসা, একজন বৃদ্ধকে সম্মান দেওয়া, একজন পথিককে পানি দেওয়া, ক্ষুধার্তকে নিজের খাবারের অংশ দেওয়া—এসব ছোট কাজও মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, **অসহায় মানুষকে সাহায্য করার সময় তার সম্মান রক্ষা করা।** সাহায্য করে তাকে ছোট করা নয়; বরং এমনভাবে পাশে দাঁড়ানো, যাতে সে নিজের মর্যাদা ধরে রাখতে পারে।


জীবনে কখন কার সাহায্য প্রয়োজন হবে, আমরা জানি না। আজ যে মানুষ দুর্বল, কাল হয়তো আমরাই দুর্বল হয়ে পড়ব। তাই মানুষের প্রতি দয়া করা আসলে নিজের ভবিষ্যতের জন্যও রহমতের দরজা খুলে দেওয়া।


**মানুষের জন্য একটু জায়গা রাখুন, একটু সময় রাখুন, একটু মায়া রাখুন। কারণ আপনি জানেন না—আপনার একটি ছোট ভালো কাজ কার জীবনে কত বড় আশার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।**


০ মন্তব্য · ৪৮ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!