প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাস*"দুই তীরহারা নদী"*

গল্প ও উপন্যাস

*"দুই তীরহারা নদী"*

*"দুই তীরহারা নদী"*

---*"দুই তীরহারা নদী"*  

_মারফতের আদব - ইশক আর ভক্তির কথা_

বিজ্ঞাপন


যে নারী কোনো সত্যসন্ধানী সাধকের হাতের ছোঁয়া পায়নি,  

যার বুকে কোনো গুরুর মমতার নূর পড়েনি,  

সে নারী সুন্দরী হইতে পারে, কিন্তু তার ভিতর *"মানুষ" নাই*।


আর যে পুরুষ কোনো আরিফা নারীর আন্তরিক শ্রদ্ধা আর ইশকের নূর পায়নি,  

সে পুরুষ দাড়ি-টুপি-তসবি ওয়ালা হইতে পারে, কিন্তু তার ভিতর *"আল্লাহ" নাই*।


*তারা দুইজনই দুই তীরহারা নদী দরদী।*  

বাহিরে পানি বয়, ঢেউ লাগে, মানুষ দেখে।  

কিন্তু ভিতরে? ভিতরে জীবনের স্রোত নাই।  

ভিতরে শুধু *শুষ্কতা আর মরুভূমির হাহাকার*।


 *শোনো, মারফতের আসল কথা:*


এই পথে দেহের মিলন মিলন না।  

*এই পথে হৃদয়ের আদবই আসল ইবাদত।*


যেখানে এক নারী অন্য পুরুষের ভিতর "রবের নূর" দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত করে,  

যেখানে এক পুরুষ অন্য নারীর ভিতর "ফাতেমার পর্দা" দেখে চোখ নামায়,  

*সেখানেই প্রেম জিকির হয়ে যায়।*  

*সেখানেই স্পর্শ সাধনা হয়ে যায়।*  

*সেখানেই দুইটা দেহ একটা মসজিদ হয়ে যায়।*


কিন্তু যে হৃদয় ভক্তির স্বাদ জানে না,  

তার বুকটা হইলো *শুকিয়ে যাওয়া নদীর খাত*।  

উপরে বালি, নিচে ফাটল।  

তার মুখে প্রেমের কথা থাকবে, কিন্তু কলবে আগুন থাকবে না।  

তার চোখে পানি থাকবে, কিন্তু রহমতের ঝরনা থাকবে না।


আর যার হৃদয় সত্য ইশকের আদব পাইছে?  

*তার বুকের মধ্যে সারাক্ষণ "কাওসারের ঝরনা" বয়।*  

সে কাউকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করে।  

সে কাউকে ভালোবাসলে সেজদায় কান্না করে।  

তার জন্যই মারফতের দরজা খুলে।  

তার জন্যই "আনা আল হক" এর রহস্য খোলে।


*শেষ কথা মন দিয়ে শোনো:*


স্বামী-স্ত্রী হওয়া সহজ।  

কিন্তু *"রূহের সঙ্গী"* হওয়া কঠিন।  

বিয়া করা যায়, কিন্তু আদব করা যায় না।  

সংসার করা যায়, কিন্তু সাধনা করা যায় না।


*যে সম্পর্কে আল্লাহর সম্মান নাই, ওইটা সংসার না - ওইটা কারাগার।*  

*যে প্রেমে রবের নূর নাই, ওইটা প্রেম না - ওইটা নফসের ব্যবসা।*


তাই আগে নিজেরে আরিফ বানাও।  

তারপর আরিফা খোঁজো।  

নইলে দুইজনেই তীরহারা হয়ে সারাজীবন বয়ে মরবা।


০ মন্তব্য · ৪০ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!