---*"দুই তীরহারা নদী"*
_মারফতের আদব - ইশক আর ভক্তির কথা_
যে নারী কোনো সত্যসন্ধানী সাধকের হাতের ছোঁয়া পায়নি,
যার বুকে কোনো গুরুর মমতার নূর পড়েনি,
সে নারী সুন্দরী হইতে পারে, কিন্তু তার ভিতর *"মানুষ" নাই*।
আর যে পুরুষ কোনো আরিফা নারীর আন্তরিক শ্রদ্ধা আর ইশকের নূর পায়নি,
সে পুরুষ দাড়ি-টুপি-তসবি ওয়ালা হইতে পারে, কিন্তু তার ভিতর *"আল্লাহ" নাই*।
*তারা দুইজনই দুই তীরহারা নদী দরদী।*
বাহিরে পানি বয়, ঢেউ লাগে, মানুষ দেখে।
কিন্তু ভিতরে? ভিতরে জীবনের স্রোত নাই।
ভিতরে শুধু *শুষ্কতা আর মরুভূমির হাহাকার*।
*শোনো, মারফতের আসল কথা:*
এই পথে দেহের মিলন মিলন না।
*এই পথে হৃদয়ের আদবই আসল ইবাদত।*
যেখানে এক নারী অন্য পুরুষের ভিতর "রবের নূর" দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত করে,
যেখানে এক পুরুষ অন্য নারীর ভিতর "ফাতেমার পর্দা" দেখে চোখ নামায়,
*সেখানেই প্রেম জিকির হয়ে যায়।*
*সেখানেই স্পর্শ সাধনা হয়ে যায়।*
*সেখানেই দুইটা দেহ একটা মসজিদ হয়ে যায়।*
কিন্তু যে হৃদয় ভক্তির স্বাদ জানে না,
তার বুকটা হইলো *শুকিয়ে যাওয়া নদীর খাত*।
উপরে বালি, নিচে ফাটল।
তার মুখে প্রেমের কথা থাকবে, কিন্তু কলবে আগুন থাকবে না।
তার চোখে পানি থাকবে, কিন্তু রহমতের ঝরনা থাকবে না।
আর যার হৃদয় সত্য ইশকের আদব পাইছে?
*তার বুকের মধ্যে সারাক্ষণ "কাওসারের ঝরনা" বয়।*
সে কাউকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ করে।
সে কাউকে ভালোবাসলে সেজদায় কান্না করে।
তার জন্যই মারফতের দরজা খুলে।
তার জন্যই "আনা আল হক" এর রহস্য খোলে।
*শেষ কথা মন দিয়ে শোনো:*
স্বামী-স্ত্রী হওয়া সহজ।
কিন্তু *"রূহের সঙ্গী"* হওয়া কঠিন।
বিয়া করা যায়, কিন্তু আদব করা যায় না।
সংসার করা যায়, কিন্তু সাধনা করা যায় না।
*যে সম্পর্কে আল্লাহর সম্মান নাই, ওইটা সংসার না - ওইটা কারাগার।*
*যে প্রেমে রবের নূর নাই, ওইটা প্রেম না - ওইটা নফসের ব্যবসা।*
তাই আগে নিজেরে আরিফ বানাও।
তারপর আরিফা খোঁজো।
নইলে দুইজনেই তীরহারা হয়ে সারাজীবন বয়ে মরবা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!