প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসটিউমার

গল্প ও উপন্যাস

টিউমার

টিউমার

গবেষকরা ইঁদুরের ওপর গবেষণায় দেখেছেন,ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে পুনর্গঠন করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে, এটন্যাচারাল কিলার (NK) কোষের কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আনে। NK কোষ হলো এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা, যা আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংস্পর্শ ছাড়াই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে।

উপবাসের সময় রক্তগ্লুকোজের মাত্রা কমে যা, অন্যদিকে ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে NK কোষগুলো তাদের প্রধান জ্বালানি হিসেবে গ্লুকোজের পরিবর্তচর্বি (ফ্যাট) ব্যবহার করতে মানিয়ে নেয়। এই পরিবর্তনের ফলে তারা এমন টিউমারের ভেতরেও টিকে থাকতে এবং সক্রিয় থাকতে পারে, যেখানে পুষ্টির অভাবের কারণে সাধারণত অনেক রোগ প্রতিরোধকারী কোষ ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

ফাস্টিং বা উপবাস আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটায়—এটি শরীরের ভেতরে NK কোষগুলোর চলাচলের স্থান পরিবর্তন করে। গবেষণায় দেখা যায়, অনেক NK কঅস্থিমজ্জায় (Bone Mar চলে যায়। সেখানে তারা বেশি মাত্রাযইন্টারলিউকিন-১২ (IL-12) নামের একটি রোগ প্রতিরোধকারী সংকেত অণুর সংস্পর্শে আসে। IL-12 তাদের এমন কিছু প্রোটিন তৈরি করার ক্ষমতা বাড়ায়, যেগুলো সাইটোকাইন (Cytokine নামে পরিচিত এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরবর্তীতে এসব পরিবর্তিত NK কোষ আবার রক্তপ্রবাহ ও টিউমারের মধ্যে ফিরে আসে। তখন তাদের বিপাকীয়ভাবে এক ধরনে“প্রশিক্ষিত” অবস্থায পাওয়া যায়। ফলে তারা ক্যানসার কোষ আক্রমণ করতে আরও প্রস্তুত থাকে এবং টিউমারের বৃদ্ধি ধীর করতে পারে।

গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত করে যেস্বল্প সময়ের উপবাস রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর বিপাকীয় কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে, যা তাদের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই গবেষণা ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছ। মানুষের ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিজ্ঞানীরা এখন খুঁজে দেখছেন, উপবাস ছাড়াই ওষুধের মাধ্যমে এই একই ধরনের জৈবিক পথগুলো সক্রিয় করা যায় কি না। যদি তা সম্ভব হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রোগীকে দীর্ঘ সময় উপবাস না ক্যানসার ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা আরও বাড়ানো একটি নতুন পদ্ধতি তৈরি হতে পারে।

📄 গবেষণাপত্র (Research Paper)

০ মন্তব্য · ৩১ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!