প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসনূহ (আ.)

গল্প ও উপন্যাস

নূহ (আ.)

নূহ (আ.)

#নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে দীর্ঘদিন ধরে আল্লাহর পথে ডাকছিলেন। তিনি তাদের বুঝিয়েছেন, সতর্ক করেছেন, আল্লাহর নিদর্শন দেখিয়েছেন এবং অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর কথা গ্রহণ করেনি। বরং তারা নিজেদের অবিশ্বাস ও অহংকারে আরও শক্ত হয়ে গিয়েছিল।


বিজ্ঞাপন

এরপর এমন একটি সময় এলো, যখন আল্লাহ তাআলা নূহ (আ.)-কে একটি বিশেষ নির্দেশ দিলেন। তাঁকে একটি নৌকা নির্মাণ করতে বলা হলো। 


নূহ (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে শুরু করলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ছিল—নৌকাটি এমন একটি জায়গায় নির্মিত হচ্ছিল, যেখানে আশপাশের মানুষ সেই কাজ দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছিল।


তারা ভাবতে লাগল, “এখানে আবার নৌকা কেন?”

নদী কোথায়?

সমুদ্র কোথায়?

এখানে তো নৌকা চালানোর মতো কোনো জায়গাই নেই!


তারা বুঝতে পারছিল না, নূহ (আ.) এমন একটি কাজ কেন করছেন। আর যখন মানুষ কোনো বিষয়ের কারণ বুঝতে পারে না, তখন অনেক সময় তা নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে। তাই নূহ (আ.) নৌকা নির্মাণ করতে থাকলেন, আর তাঁর জাতির লোকেরা তাঁকে নিয়ে উপহাস করতে লাগল।


## মানুষ যখন আপনার কাজের অর্থ বুঝবে না


একজন মানুষ কোনো কাজ করছে, কিন্তু আশপাশের লোকেরা তার উদ্দেশ্য জানে না। তখন তারা নানা কথা বলতে পারে।


“লোকটা পাগল হয়ে গেছে।”

“এত অদ্ভুত কাজ করছে কেন?”

“এটা কি কখনো সম্ভব?”

“এতে কী লাভ হবে?”


নূহ (আ.)-এর ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছিল। কিন্তু এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—**নূহ (আ.) মানুষের হাসি দেখে আল্লাহর নির্দেশ পালন বন্ধ করেননি।**


তিনি বলেননি, “মানুষ তো আমাকে নিয়ে হাসছে, হয়তো আমি ভুল করছি।”

তিনি বলেননি, “সবাই যখন আমাকে পাগল মনে করছে, তাহলে কাজটা বাদ দিই।”


তিনি মানুষের প্রতিক্রিয়াকে আল্লাহর নির্দেশের চেয়ে বড় মনে করেননি। তিনি কাজ করে যেতে থাকলেন। একটি একটি করে কাঠ সংগ্রহ হলো। নৌকার কাঠামো তৈরি হতে লাগল। দিনের পর দিন কাজ চলল। আর মানুষের হাসি-তামাশাও চলতে থাকল। কিন্তু নূহ (আ.) থামলেন না।


## কেন তিনি থামলেন না?


কারণ তিনি জানতেন, তিনি নিজের ইচ্ছায় এই কাজ করছেন না। এটি আল্লাহর নির্দেশ। 


এখানেই ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। আমরা সাধারণত এমন কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি, যার ফলাফল আমাদের চোখের সামনে দেখা যায়।


আপনি একটি গাছ লাগালেন—আপনি জানেন, কয়েক বছর পর গাছ বড় হতে পারে।

আপনি ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করলেন—আপনি লাভের আশা করছেন।

আপনি পড়াশোনা করলেন—আপনি পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা করছেন।


কিন্তু আল্লাহর পথে এমন কিছু কাজ আছে, যার ফলাফল সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় না। তখন মানুষের বিশ্বাস পরীক্ষা হয়।


নূহ (আ.)-এর সামনে ঠিক এমনই একটি পরিস্থিতি ছিল। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালন করছিলেন, কিন্তু তাঁর জাতির মানুষ সেই নির্দেশের ফলাফল দেখতে পাচ্ছিল না।


তারা শুধু একটি নৌকা দেখতে পাচ্ছিল। নূহ (আ.) দেখছিলেন—**আল্লাহর আদেশ।**

এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যই ছিল আসল।


## উপহাসের মাঝেও কাজ


কুরআনে এসেছে, নূহ (আ.) যখন নৌকা নির্মাণ করছিলেন, তাঁর জাতির নেতারা যখনই তাঁর পাশ দিয়ে যেত, তাঁকে নিয়ে উপহাস করত।


ভাবুন, একজন মানুষ নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। সে জানে কেন কাজটি করছে। কিন্তু চারপাশের মানুষ এসে তাকে নিয়ে হাসছে। প্রতিদিন। বারবার। একই কথা। একই বিদ্রূপ। একই তাচ্ছিল্য। এমন পরিস্থিতিতে একজন সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে।


কিন্তু নূহ (আ.) আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের কাজ চালিয়ে গেলেন। এখানেই আমাদের জন্য বড় শিক্ষা রয়েছে। 

**মানুষের হাসি কোনো কাজের সত্যতা নির্ধারণ করে না।**


কেউ আপনার ভালো কাজ নিয়ে হাসলেই সেটি খারাপ হয়ে যায় না। কেউ আপনার দ্বীনদারিকে নিয়ে উপহাস করলেই আল্লাহর পথে চলা ভুল হয়ে যায় না। কেউ আপনার সৎ উপার্জনকে বোকামি বললেই হারাম উপার্জন হালাল হয়ে যায় না।


কেউ আপনার পর্দা, নামাজ, দান বা সততাকে পুরোনো চিন্তা বললেই তা মূল্যহীন হয়ে যায় না। যদি কোনো কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়, তাহলে মানুষের হাসি দেখে তা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।


## কখনো কখনো সঠিক পথটি একাকী মনে হয়


নূহ (আ.)-এর জাতির অধিকাংশ মানুষ তাঁর বিরোধিতা করেছিল। তিনি ছিলেন একজন নবী। তবুও তাঁর চারপাশের অধিকাংশ মানুষ তাঁকে সমর্থন করেনি।


এটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য শেখায়—**সত্যের পথে থাকা মানেই সবসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন পাওয়া নয়।**


অনেক সময় আপনি সঠিক কাজ করবেন, কিন্তু কেউ আপনাকে উৎসাহ দেবে না।


আপনি হারাম ব্যবসা ছেড়ে দেবেন, বন্ধুরা বলবে—“এভাবে চললে তুমি পিছিয়ে পড়বে।”

আপনি অন্যায় সম্পর্ক ছেড়ে দেবেন, কেউ বলবে—“তুমি খুব সেকেলে।”

আপনি সুদের টাকা থেকে নিজেকে দূরে রাখবেন, কেউ বলবে—“এ যুগে এসব চলে না।”

আপনি মানুষের হক ফিরিয়ে দেবেন, কেউ বলবে—“এত সৎ হয়ে লাভ কী?”


কিন্তু একজন মুমিনের প্রশ্ন হওয়া উচিত— “মানুষ কী বলবে?” এর আগে—**“আল্লাহ কী চান?”**


নূহ (আ.) মানুষের হাসিকে নয়, আল্লাহর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।


## কাজটি অসম্ভব মনে হলেও


নৌকা তৈরির দৃশ্যটি বাইরে থেকে দেখলে মানুষের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু একজন মুমিন সবকিছু শুধু নিজের চোখে দেখা বাস্তবতার ওপর নির্ভর করে বিচার করে না। সে বিশ্বাস করে, আল্লাহ এমন কিছু জানেন যা সে জানে না।


মানুষ ভবিষ্যৎ জানে না। আল্লাহ জানেন।

মানুষ কেবল বর্তমান পরিস্থিতি দেখতে পায়।

আল্লাহ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ—সব জানেন।


এই কারণে আল্লাহর নির্দেশ কখনো কখনো মানুষের কাছে এমন কিছু মনে হতে পারে যার তাৎক্ষণিক যুক্তি সে বুঝতে পারছে না।


তখন ঈমানের দাবি হলো—সত্যিকারভাবে আল্লাহর নির্দেশ বুঝে নেওয়ার পর বিনয়ের সঙ্গে তা পালন করা।


## নূহ (আ.)-এর ধৈর্য ছিল কাজের ধৈর্য


অনেক সময় আমরা ধৈর্যকে শুধু চুপ করে থাকা মনে করি। কিন্তু নূহ (আ.)-এর ধৈর্য ছিল সক্রিয়। তিনি বসে বসে অপেক্ষা করেননি। তিনি কাজ করেছেন। নৌকা নির্মাণ করেছেন। আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছেন। উপহাস সহ্য করেছেন। অপমান সহ্য করেছেন। মানুষের বিরোধিতা সহ্য করেছেন।


অর্থাৎ তাঁর ধৈর্য ছিল এমন ধৈর্য, যার সঙ্গে চেষ্টা যুক্ত ছিল। এটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।


কেউ চাকরি খুঁজছে। তাকে কয়েক জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। ধৈর্য মানে ঘরে বসে থাকা নয়। চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কেউ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধৈর্য মানে সবকিছু ছেড়ে দেওয়া নয়। হালাল পথে আবার চেষ্টা করা। কেউ সন্তানকে দ্বীনের পথে বড় করতে চাইছে। সন্তান কথা শুনছে না। ধৈর্য মানে হাল ছেড়ে দেওয়া নয়। ভালোবাসা, শিক্ষা, দোয়া ও সঠিক পদ্ধতিতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।


নূহ (আ.) আমাদের শেখান—**সবর মানে নিষ্ক্রিয়তা নয়; সবর মানে সঠিক পথে অবিচল থাকা।**


## মানুষ আপনার উদ্দেশ্য বুঝবে না—তবুও কাজ করুন


নূহ (আ.)-এর জাতির মানুষ নৌকা তৈরির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি।


তারা শুধু বাহ্যিক কাজটি দেখেছিল। আজও মানুষ অন্যের জীবনে এমনটাই করে।


কেউ কেন একটি ভালো কাজ করছে, আমরা না জেনেই মন্তব্য করি।

কেউ কেন একটি সুযোগ ছেড়ে দিল, আমরা না জেনেই তাকে বোকা বলি।

কেউ কেন অন্যায় লাভ গ্রহণ করল না, আমরা বলি—“এত সৎ হয়ে কী হবে?”

কেউ কেন আল্লাহর জন্য নিজের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করছে, আমরা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসাহাসি করি।


কিন্তু আমরা জানি না তার অন্তরে কী চলছে। আমরা জানি না সে আল্লাহর কাছে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা জানি না তার সামনে কী পরীক্ষা চলছে। তাই অন্যের কাজ না বুঝে উপহাস করা উচিত নয়।


## উপহাসের জবাব কীভাবে দিতে হয়?


নূহ (আ.) তাঁর জাতির উপহাসে সত্যের কাজ বন্ধ করেননি। এটাই তাঁর অন্যতম শিক্ষা। মানুষের প্রতিটি কথার জবাব দেওয়া জরুরি নয়। কখনো কখনো আপনার সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো—**আপনার কাজ।**


কেউ বলল, “তুমি পারবে না।” আপনি চুপচাপ চেষ্টা করে যান।

কেউ বলল, “তুমি বদলাতে পারবে না।” আপনি আল্লাহর কাছে ফিরে যান।

কেউ বলল, “সততা দিয়ে আজকের পৃথিবীতে চলা যায় না।” আপনি সততা ধরে রাখুন।


কেউ বলল, “নামাজ পড়ে কী লাভ?” আপনি নামাজ পড়তে থাকুন। কারণ মানুষের কথার শেষ নেই। আজ তারা হাসবে। কাল তারা চুপ করবে। কিন্তু আপনার আমল আপনার সঙ্গে থাকবে।


## নৌকা শুধু কাঠের ছিল না—এটি ছিল আনুগত্যের প্রতীক


নূহ (আ.)-এর জন্য নৌকা ছিল শুধু একটি বাহন নয়। এটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্যের প্রকাশ। মানুষ তখন শুধু কাঠ দেখছিল। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশ মানার অর্থ ছিল আরও গভীর। নূহ (আ.) যেন নিজের কাজ দিয়ে ঘোষণা করছিলেন—“আমি আমার রবকে বিশ্বাস করি, যদিও অন্যরা আমাকে বুঝতে না পারে।”


এই বিশ্বাসই একজন মুমিনকে কঠিন সময়ে শক্ত রাখে। 


আপনি যখন কোনো হারাম কাজ ছেড়ে দেন, তখন হয়তো আপনার হাতে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প আসে না।

আপনি যখন আল্লাহর জন্য কোনো অন্যায় সুযোগ ছেড়ে দেন, তখন হয়তো মানুষ আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করে।


কিন্তু আপনি যদি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন, তাহলে মনে রাখবেন—আপনি এমন একজনের ওপর ভরসা করেছেন যিনি আপনার চেয়ে আপনার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বেশি জানেন।


## একটি ছোট সিদ্ধান্ত, বড় পরীক্ষা


ধরুন, আপনার সামনে দুইটি পথ। একটি সহজ, কিন্তু হারাম। অন্যটি কঠিন, কিন্তু হালাল। সহজ পথ বেছে নিলে আজই লাভ পাবেন। কঠিন পথ বেছে নিলে অপেক্ষা করতে হবে। আপনি কোনটি বেছে নেবেন?


এখানেই ঈমানের পরীক্ষা।


নূহ (আ.)-এর ঘটনায়ও আমরা দেখি, আল্লাহর নির্দেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন মানুষের চোখে সেই কাজটি অদ্ভুত মনে হচ্ছিল। মুমিন সবসময় তাৎক্ষণিক লাভ দেখে সিদ্ধান্ত নেয় না।


সে দেখে—**“এই কাজটি কি আমার রবকে সন্তুষ্ট করবে?”**


## আজকের জীবনে নূহ (আ.)-এর শিক্ষা


আমাদের জীবনে এমন অনেক মুহূর্ত আসে, যখন মানুষ আমাদের ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে হাসে। 

আপনি হয়তো কাউকে প্রতারণা করার সুযোগ পেলেন, কিন্তু করলেন না। 

বন্ধু বলল, “তুমি বোকা।”

আপনি হয়তো পরীক্ষায় নকল করার সুযোগ পেলেন, কিন্তু করলেন না।

কেউ বলল, “একটু নকল করলে কী হতো?”

আপনি হয়তো ব্যবসায় ভুল তথ্য দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে পারতেন, কিন্তু করলেন না।

কেউ বলল, “এটাই তো ব্যবসার নিয়ম।”

আপনি হয়তো কারও হক মেরে নিজের সম্পদ বাড়াতে পারতেন, কিন্তু তা করলেন না।

কেউ বলল, “সবাই তো করে।”


এই সময় নূহ (আ.)-এর কথা মনে রাখুন।**মানুষের হাসি সাময়িক; আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী।**


## সবচেয়ে বড় শিক্ষা—সবকিছু বুঝে তারপরই বিশ্বাস করতে হবে, এমন নয় মানুষ অনেক সময় বলে—


“আমি আগে ফলাফল দেখতে চাই।”

“আগে বুঝতে হবে এতে আমার লাভ কী।”

“আগে সবাইকে করতে দেখব।”


কিন্তু আল্লাহর প্রতি ঈমানের একটি অংশ হলো—আল্লাহর জ্ঞান আমাদের জ্ঞানের চেয়ে অসীম। আমরা সীমিত দেখি। তিনি সব দেখেন। আমরা ভবিষ্যৎ জানি না। তিনি জানেন। আমরা কোনো ঘটনার একটি অংশ বুঝি। তিনি পুরো বাস্তবতা জানেন।


তাই আল্লাহর নির্দেশ স্পষ্ট হয়ে গেলে শুধু নিজের সীমিত বুদ্ধি দিয়ে তার সব পরিণতি বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঠিক নয়। বুঝতে চেষ্টা করব, জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করব, কিন্তু সত্য পরিষ্কার হলে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য করব।


## শেষ শিক্ষা


নূহ (আ.)-এর নৌকা নির্মাণের ঘটনা আমাদের শেখায়—


**মানুষের উপহাস দেখে সত্যের পথ ছেড়ে দেওয়া যাবে না।**


**আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে কাজটি কঠিন মনে হলেও হতাশ হওয়া যাবে না।**


**ফলাফল চোখে না দেখলেও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।**


**সবর মানে বসে থাকা নয়; চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।**


**মানুষ আপনার উদ্দেশ্য না বুঝলেও আপনি যদি সঠিক পথে থাকেন, তাহলে তাদের কথায় বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।**


আর সবচেয়ে বড় কথা—


আজ আপনি যদি আল্লাহর জন্য কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নেন এবং মানুষ আপনাকে নিয়ে হাসে, তাহলে মনে রাখবেন, মানুষের হাসি আপনার আমলের মূল্য কমিয়ে দেয় না।


হয়তো তারা বুঝতে পারছে না আপনি কেন এই পথ বেছে নিয়েছেন।


হয়তো তারা আপনার সিদ্ধান্তকে দুর্বলতা মনে করছে।

হয়তো তারা আপনাকে পিছিয়ে পড়া মানুষ মনে করছে।


কিন্তু আপনি যদি জানেন যে আপনার সিদ্ধান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাহলে মানুষের প্রশংসার অপেক্ষায় থাকবেন না এবং তাদের উপহাসে ভেঙে পড়বেন না।


নূহ (আ.)-কে যখন তাঁর জাতির মানুষ উপহাস করেছিল, তখন তিনি কাজ থামাননি।


তিনি কাঠের ওপর কাঠ বসাতে থাকলেন।

দিনের পর দিন।

অবিচলভাবে।


কারণ তিনি মানুষের চোখের সামনে থাকা বর্তমানকে নয়, তাঁর রবের নির্দেশকে বিশ্বাস করেছিলেন।


আজ আমাদের জীবনেও এমন অনেক “নৌকা” তৈরি করতে হয়—নামাজের অভ্যাস, তাকওয়া, হালাল উপার্জন, সত্যবাদিতা, ধৈর্য, পরিবারকে দ্বীনের পথে রাখা, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।


শুরুতে হয়তো কেউ হাসবে।


কেউ বলবে, “এত কষ্ট করে কী হবে?”

কেউ বলবে, “আজকের যুগে এসব দিয়ে চলে?”


কিন্তু আপনি থামবেন না।


কারণ আপনি জানেন না, আপনার আজকের ছোট্ট আনুগত্য আগামী দিনে আপনার জন্য কত বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়াবে।


**মানুষের চোখে অদ্ভুত মনে হলেও আল্লাহর আদেশের পথে থাকা কখনো বোকামি নয়।**


নূহ (আ.)-এর নৌকা তাই শুধু একটি নৌকার গল্প নয়।


এটি এমন একজন মুমিনের গল্প, যিনি মানুষের হাসির চেয়ে আল্লাহর নির্দেশকে বড় করেছিলেন, মানুষের সন্দেহের চেয়ে আল্লাহর প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বাস করেছিলেন এবং ফলাফল আসার আগেই আনুগত্যের পথে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন।


আর এটাই আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা


০ মন্তব্য · ৫৯ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!