এক ঐতিহাসিক ঘটনা পড়ুন। আপনার আখিরাতের কল্যানের জন্য পড়ুন। নিজের ভালোর জন্য পড়ুন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পড়ুন। ঘটনাটি একজন নেককার ব্যক্তি বারা ইবনে মালেক আল আনসারীর।নিজেকে কল্পনা মালেক আল আনসারীর জায়গায় কল্পনা করুন। পড়ুন।
আপনাদের এক মহান বীরের কথা বলতে যাচ্ছি আপনাদের। যিনি ইসলামের কঠিন সময়ে হাল ধরেছিল আল্লাহর রহমতে। ফিতনার সময়ে যেই মহান বীর সামনে থেকে নেতৃত্ব দানকারী একজন। উনার নাম- বারা ইবনে মালেক আল- আনসারী।
*
তিনি হচ্ছে নবী সল্লাল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আনাস ইবনে মালেকের ভাই ইবনে মালেক আল আনসারী।
তিনি ছিলেন কোকড়ানো চুল, শীর্ণ দেহের অধিকারী।একেবারে ঘার হাড্ডি দেখা যায় এমন দুর্বল দেহের দিকে তাকিয়ে থাকা ছিল দর্শকের জন্য কষ্টদায়ক।
কিন্তু তাতে কি! এই দেহ নিয়েই তিনি যুদ্ধে প্রায় শতাধিক মুশরিকের খতম করে জাহান্নামে পাঠিয়েছেন। এছাড়াও আরো বহু জিহাদে তিনি অন্য যোদ্ধাদের সঙ্গে কত কুফের মুর্শিক যে হত্যা করেছেন তার সঠিক হিসাব বলা বেশ কঠিন।
তিনি সেই দুঃসাহসী যিনি নিজে একাই শত্রুর পক্ষের সকল বাধা ভেদ করে সম্মুখে এগিয়ে যেতেন।
তার বীরত্ব ও সাহসের এই কাহিনী শুরু হয় প্রিয়নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত এবং মহান প্রভুর সান্নিধ্যে তার মিলিত হওয়ার পর। যখন আরবের বিভিন্ন জাতি উপজাতি আল্লাহর দিন থেকে দলে দলে বেরিয়ে যাওয়া শুরু করেছিল, যেমন করেছিল তারা এই দিনে ইসলাম প্রবেশের বেলায়।
ধর্মত্যাগের এই ফিতনা এমন ব্যাপক রূপ ধারণ করল যে মক্কা মদিনা ও তায়েফের বাসিন্দারা এবং এখানে ওখানে বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষের শুধু ইসলাম ও ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকলেন। বাকি অনেকেই হয়ে পড়ল দ্বীন ত্যাগী মুরতাদ।
এই জটিল ও ভয়াবহ ফেতনা বিস্তারকালে আল্লাহর দ্বীন রক্ষায় পাহাড়ের মত অটল, অনর ও অবিচল রইলেন সিদ্দিকি আকবর হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তিনি মুহাজির ও আনসারদের মিলিয়ে ১১ টি সশস্ত্র দল প্রস্তুত করলেন এবং প্রত্যেক সেনাবাহিনী হাতে মুসলমানদের পতাকা তুলে দিলেন। তারপর মুজাহিদ বাহিনীদের জাযিরাতুল আরবের সকল প্রান্তে পাঠিয়ে দিলেন যেন দ্বীনত্যাগী মুরতাদদের সত্য ও হিদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনা যায়।
তরবারির ভয় দেখিয়ে হলেও বিচ্যুতদের যেন আবার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
মুরতাদের মধ্যে সংখ্যা ও শক্তিতে সর্ববৃহৎ দলটি ছিল হানিফা গোত্রের মুসায়লামাতুল কাযযাবের অনুসারী। মুসায়লামা নিজেকে নবী হিসাবে প্রচার করতে শুরু করেছিল এবং মুসায়লামার পক্ষে সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছিল তার নিজ গোত্র ও চুক্তিবদ্ধ গোত্রের মোট ৪০ হাজার দুর্ধর্ষক যোদ্ধা।
যাদের অধিকাংশই মুসায়লামার দলে যোগ দিয়েছিল একেবারে অন্ধ গোত্রপ্রীতি বা জাতিয়তাবাদের কারণে। অই মুরতাদরা বলতো, 'আমি নিঃসন্দেহে ঘোষণা দিচ্ছি যে মুসায়লামা মিথ্যুক ও ভন্ড নবী এবং মোহাম্মদ সত্যবাদী ও সত্যনবী। কিন্তু কুরাইশের সত্যবাদীর চেয়ে আমাদের নিকট নিজ গোত্রে মিথ্যাবাদী ভালো।'
এর ফলে মুসলমানের বিপক্ষে মুরতাদের দলের সং্খ্যা হয় ৪০ হাজার।
*
মুসলিম সৈনিকদের প্রথম যে দলটি ইকরিমা রাযিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে মুসায়লামার বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল, মুসায়লামা তাদের পরাজিত করে পিছু হঠাতে বাধ্য করে।
এরপর হযরত আবু বকর (রা.) তার বিরুদ্ধে পাঠালেন দ্বিতীয় বাহিনী খালেদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে। এই দলে অন্তর্ভুক্ত করলে মুহাজির ও আনসার এর বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরামকে। যাদের শীর্ষে ছিলেন বারা ইবনে মালেক আল আনসারী(রা) এবং একদল দুঃসাহসী মুজাহিদ সাহাবী।.
*
নজদের ইয়ামামা প্রান্তরে খালিদ বিন ওয়লীদ এবং মুসায়লামার বাহিনীর মাঝে শুরু হলো প্রচন্ড যুদ্ধ। অল্প সময়ের মধ্যে মুসায়লামার বাহিনী ময়দান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলল। বিজয়ের পাল্লা ঝুঁকে রইলো মুরতাদদের দিকে। মুসলিম বাহিনীর অবস্থা হয়ে পড়লো খুবই খারাপ। তাদের পায়ের নিচে থেকে মাটি যেন সরে যেতে থাকলো।
তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হলো। মুসায়লামার লোকজন খালিদ বিন ওয়ালিদের বিশাল তাবুদের ঢুকে পড়ে তার খুঁটিগুলো উপড়ে ফেলল।
এতক্ষণে মুসলিম বাহিনী ভয়াবহ ও শোচনীয় পরাজয়ের সম্ভাবনা আঁচ করতে পারলো। এই আশঙ্কা চরমভাবে তাদের অনুভূতিতে আঘাত হানলো যে, আজ মুসায়লামার কাছে যদি তাদের পরাজয় ঘটে, তাহলে আর কখনো ইসলামের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য কোথাও কেউ থাকবে না। শিরকমুক্ত জাযিরাতুল আরবে এক অদ্বিতয়, লা শারিক আল্লাহর এবাদত করার কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজ তাবুর শত্রুদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ায় নড়েচড়ে উঠলেন। ঝড়ো হাওয়ার গতিতে তিনি সেনাদলের সর্বত্র ছুটতে থাকলেন। ছোট বড় সকল ত্রুটি বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সেগুলো মাথায় রেখে দল পুনর্গঠন করলেন। এবং প্রত্যেক দলের হাতে পতাকা তুলে দিলেন। এবং নির্দেশ দিলে পূর্ণদমে ঝাপিয়ে পড়ার।
*
ধর্মত্যাগকারী মুরতাদ এবং মুসলিমদের মাঝে শুরু হলো আবার তুমুল লড়াই। এমন তুমুল লড়াই কেউ আগে কখনো দেখেনি। মুজাহিদরা দুশমনের উপর ঝাপিয়ে পড়ল জীবন বাজি রেখে। মুসলিম বাহিনীর ঝলসে ওঠা মুজাহিদের আক্রমণে দলে দলে মুসায়লামার মুরতাদ বাহিনীর লাশ পড়তে থাকলো। ইয়ামামার প্রান্ত (যেখানে এই জিহাদ সংঘঠিত হয়) মুরতাদের লাশের স্তুপে পরিণত হলো।
কিন্তু এত অধিক লাশ চোখে দেখেও মুসায়লামার লোকজনের মাঝে কোন ভাবান্তর হলো না। পাহাড়ের মত অবিচল থেকে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে লাগলো। মুসলিম মুজাহিদরাও বিস্ময়কর বাহাদুরের সব উদাহরণ সামনে রেখে এমন লড়াই করলেন যা বীরত্বের এক মহাকাব্য রচিত হয়ে যাবে।
*
ময়দানের মুজাহিদ সাবেন ইবনে কায়েস পতাকাবাহী ছিলেন। তিনি ভাবছেন আজই আমি শহীদ হয়ে যাব।এরপর তিনি সারা গায়ে সুগন্ধি মাখলেন। আরেক হাতে পতাকা অন্য হাতে তরবারি। এই বীর মুজাহিদের আবেগ নিয়ে লড়াই করতে করতে শত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে ঠেকাতে একসময় শহীদ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন।
এই ময়দানের আরেক পাশের চিত্র উমর ইবনুল খাত্তাব(রা:) এর ভাই জায়েদ ইবনুল খাত্তাব মুজাহিদ বাহিনীকে চিৎকার করে আহ্বান করলেন, 'হে আমার মুসলিম ভাইয়েরা দাঁত কামড়ে নিজেদের আদর্শের মজবুত থাকো। শত্রুকে নিপাত করতে থাকো। করতে করতে সম্মুখ এগিয়ে যাও। আল্লাহর কসম! এটাই আমার সর্বশেষ আহবান, আজ হয়তো মুরতাদ মুসায়েলমকে খতম করব নয়তো আমি নিজেই খতম হয়ে যাব। আল্লাহর কাছে গিয়ে নিজের অক্ষমতা ওজর তুলে ধরব'।
একথা বলেই তিনি শত্রু বাহিনীর উপর ঝাপিয়ে পড়লেন, বহু শত্রু সেনা ঘাটি উড়িয়ে দিয়ে একসময় নিজের কসম পূর্ণ করে শাহাদাতের সিঁড়ি বেয়ে আল্লাহ দরবারে পৌঁছে গেলেন।
এই ময়দানে আরো একজন মুজাহিদের নাম সালিম। তার দায়িত্বেও ছিল পতাকা। মুসলমানেরা সালিমকে নিয়ে ধারণা করেছিল যে শত্রুর আক্রমণের মুখে হয়তো সালিম অনড় থাকতে পারবে না। অথবা তার কাছ থেকে কোন প্রকার দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। এজন্যই সকলে মিলে তাকে জানালেন, ' আমাদের ভয় হচ্ছে আপনার এ দিক থেকে আমরা আক্রান্ত হবো, শত্রু সহজেই আপনার দিক থেকে আমাদের আক্রান্ত করে ফেলবে'।
সালিম বললেন, 'আমার এদিক থেকে যদি তোমাদের শরীরে একটি আঘাত লাগে তবে বুঝবে আমার চেয়ে নিকৃষ্ট হাফেজে কোরআন একজনও নেই।' এই কথার মাধ্যমে সালিম বাকি মুসলিমদের নিশ্চিন্ত থাকার বার্তা দিলেন।
তারপর সালিম ঝাপিয়ে পড়লেন আল্লাহর দুশমনদের উপর। নির্ভীক আক্রমণ চালিয়ে দুর্দান্ত লড়াই করলেন। করতে করতে প্রতিপক্ষ মুরতাদবাহিনীর তরবারির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলেন। ইসলামের পতাকা সমোচ্চ রেখে একসময় শহীদ হয়ে গেলেন।
মুজাহিদদের এত বীরত্বের পরেও সব একেবারে ম্লান হয়ে যায় বারা ইবনে মালেকের বীরত্বের পাশে। সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালি যখন মনে করলেন লড়াই এখুনি চূড়ান্ত পরণতির দিকে গড়াবে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষ এখন একেবারে তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখন তিনি বারা ইবনে মালেকের উদ্দেশ্যে হাঁক ছাড়লেন,'হে বারা ইবনে মালেক। শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হানো। আল্লাহ দুশমনদের খতম করে দাও।'
বারা ইবনে মালেকের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটতে লাগলো। সে বলল, 'হে মুজাহিদ ভাইয়েরা! তোমাদের কেউ যেন মদীনায় ফিরে যাওয়া চিন্তা না করে। আজকের পর তোমাদের জন্য কোনো মদীনা থাকবে না। চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকবে শুধুমাত্র লা শারিক আল্লাহর তাওহীদকে সমুন্নত করা, এরপর একমাত্র গন্তব্য হবে জান্নাত।'
তিনি চূড়ান্ত হামলা করলেন মুরতাদ মুশরিকদের উপর। তার সঙ্গে একযোগে হামলা করলেন সকল মুজাহিদন। বারা ইবনে মালিক আক্রমণ চালিয়ে একাই দুশমনদের সারি ভেদ করে সামনে এগুতে থাকলেন। মুরতাদদের গর্দানে তর-বা-রি কো*প মারতে মারতে চারদিকে লাশের স্তূপ করে ফেললেন। মুসায়লামা এবং তার বাহিনীর পায়ের নিচে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেল।
কোনো রকম জান বাঁচানোর আশায় তারা স্বদলবলে ঢুকে পড়ল সেই বাগানে- যা অগণিত লাশের স্তুপ জমা হওয়ার কারণে সেই দিনের পর ইতিহাসে প্রসিদ্ধ হয়েছে 'লাশের বাগান' নামে।
এই 'লাশের বাগানটি' ছিল বেশ প্রশস্ত পরিসর এবং উঁচু দেয়ালে ঘেরা। মুসায়লামা এবং তার হাজার হাজার সৈনিক সেখানে ঢুকেই বাগানের ছোট বড় সকল দরজা দিল বন্ধ করে। এর উঁচু দেয়ালে আশ্রয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা কে তারা নিশ্চিদ্র করে নিল এবং ভেতর থেকে মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে বৃষ্টির মতো তীরের অবিরাম বর্ষণ শুরু করল।
মুসলিম বাহিনীর পরাজয় সম্ভাবনার ভয়াবহতা আঁচ করে সামনে এগিয়ে এলেন বীর সেনানী বারা ইবনে মালেক আল আনসারী। তিনি গ্রহণ করলেন এমন এক অবিশ্বাস্য কৌশল যার বদৌলতে আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে দান করলেন চূড়ান্ত বিজয়, আর মুরতাদ ও ভণ্ড নবীর দলকে দিলেন চিরতরে খতম করে।
বারা ইবনে এর মালেক শক্ত সামর্থ্য কয়েকজন যোদ্ধাকে নির্দেশ দিয়ে বললেন, 'আমাকে একটি ঢালের উপর বসিয়ে বর্শার ফালায় উঁচু করে বাগানের ভেতরে প্রধান ফটকের কাছে নিক্ষেপ কর। এতে দ্বার-রক্ষীদের হাতে হয়তো আমার জীবন যাবে, শহীদ হব; নইলে আমি তোমাদের জন্য দরজা খুলে দিব। তোমরা ঢুকতে পারলেই এর মধ্যে আশ্রয় নেওয়া ভন্ড নবী ও তার বাহিনীকে চিরতরে খতম করে দেবে।
*
চোখের পলকে বারা ইবনে মালেক একটি ঢালের উপর বসে পড়লেন। তিনি ছিলেন হালকা-পাতলা শীর্ণদেহী। অনেকগুলো বর্ষার আগা দিয়ে উঁচু করে 'লাশের বাগানে' তাকে নিক্ষেপ করা হলো৷ তিনি উপর থেকে বজ্রপাতের মত নেমেই দ্বার-রক্ষীদের সঙ্গে মরণপণ লড়াই করে তাদের প্রায় ১০জনকে খতম করে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন।
এবং সঙ্গে সঙ্গে খুলে দিলেন দরজা। পঙ্গপালের মতো সে দিক দিয়ে হাজার হাজার মুজাহিদ প্রবেশ করে ঝড়ের গতিতে মুসায়লামার হাজার হাজার সৈনিককে হত্যা করে পৌঁছে গেলেন মুসায়লামার কাছে। অবিলম্বে তাকেও হত্যা করে পাঠানো হলো জাহান্নামে। কিন্তু এই ঘটনার মহানায়ক বারা ইবনে মালেককে দেখা গেল মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উপনীত। গুরতরর আহত হলেন।
এরপর দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হলো। সেনাপতি খালেদ বিন ওয়ালিদ নিজের অর্থায়নে তার সেবা যত্ন করেছেন। এর মাস খানেক পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।
*
বারা ইবনে মালেক আল- আনসারীর অন্তর শহীদী মৃত্যুর আকাঙ্খায় ছটফট করতে থাকল, যে শাহাদাতের লাভের সুযোগ তার হাতছাড়া হয়েছে 'লাশের বাগানে'-এ।
প্রিয় নবীর সঙ্গে গিয়ে মিলিত হওয়ার বাসনা আর শাহাদাতের পেয়ালা পান করার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের স্বপ্নে তিনি একটি পর একটি জিহাদের ময়দানে ছুটতে থাকেন। এভাবেই একদিন এসে গেল পারস্য নগরী 'তুসতার' বিজয়ের দিন।
বারা ইবনে মালেক আল্লাহার কাছে শাহাদাতের জন্য এই যুদ্ধে বিশেষভাবে প্রার্থনা করেছিলেন৷ এবং মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছিলেন। বীরের মতো এই জিহাদে লড়তে লড়তে অবশেষে বারা ইবনে মালেক শাহাদাতের অমিয়সূধা পান করলেন। মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেলেন।
*
প্রিয় পাঠক। আমদের ফিতনার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এই নির্দেশ আল্লাহর। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ফিতনার বিরুদ্ধে লড়াই করো।’ আল্লাহ আরো বলেন, ‘ফিতনা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ।’
আল্লাহ আমদের ফিতনার বিরোধী দল, ফিতনার বিরুদ্ধে এবং তার দ্বীনের মুজাহিদ হিসাবে কবুল করুক...।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!