প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসউপস্থাপন

গল্প ও উপন্যাস

উপস্থাপন

উপস্থাপন

প্রাচীনকালের এক প্রতাপশালী রাজা এক রাতে খুব অদ্ভুত ও ভয়ানক একটি স্বপ্ন দেখলেন। তিনি দেখলেন, তার মুখের সবগুলো দাঁত একে একে ভেঙে পড়ে গেছে!

সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি দ্রুত রাজ্যের সবচেয়ে বড় ও নামকরা এক স্বপ্নবিশারদকে দরবারে ডেকে পাঠালেন।

বিজ্ঞাপন

বিশারদ রাজার স্বপ্ন শুনে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “মহারাজ, এটি তো বড়ই অশুভ স্বপ্ন! এর অর্থ হলো, আপনার চোখের সামনেই আপনার পরিবারের সবাই একে একে মারা যাবে। আপনি ছাড়া আপনার বংশের আর কেউ বেঁচে থাকবে না!”

এই কথা শুনে রাজা রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, “কী দুঃসাহস তোমার! আমার মুখের ওপর আমারই পরিবারের অমঙ্গল কামনা করছ?” 

রাজা প্রহরীদের ডেকে লোকটিকে চাবুক মেরে কারাগারে বন্দি করার নির্দেশ দিলেন।

এরপর রাজা আরেকজন জ্ঞানী পণ্ডিতকে ডাকলেন। পণ্ডিত রাজার স্বপ্নের কথা মন দিয়ে শুনলেন। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর পণ্ডিতের মুখে এক উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠল।

তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন, “মহারাজ! আপনাকে অনেক অভিনন্দন! এটি অত্যন্ত চমৎকার ও শুভ একটি স্বপ্ন!”

রাজা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কীভাবে? এর অর্থ কী?”

পণ্ডিত হাসিমুখে বললেন, “মহারাজ, এই স্বপ্নের অর্থ হলো, আপনার পরিবারের সবার চেয়ে আপনার আয়ু সবচেয়ে বেশি হবে! আপনার বংশের মধ্যে আল্লাহ আপনাকেই সবচেয়ে দীর্ঘজীবী করবেন এবং আপনি দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে রাজত্ব করবেন।”

এই কথা শুনে রাজা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন! তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্ডিতকে বিশাল ধন-সম্পদ ও প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।

রাজার মন্ত্রী অবাক হয়ে পণ্ডিতকে আড়ালে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, 

“ভাই, প্রথম ব্যক্তিও তো ঘুরিয়ে এই একই কথা বলেছিলেন। পরিবারের সবাই আগে মারা গেলে তো রাজাই সবচেয়ে বেশি দিন বাঁচবেন! তাহলে তাকে কেন শাস্তি দেওয়া হলো আর আপনাকে কেন পুরস্কৃত করা হলো?”

পণ্ডিত মুচকি হেসে উত্তর দিলেন, “আমরা দুজনেই তো একই কথা বলেছি। কিন্তু প্রথমজনের কথা বলার ভঙ্গি ছিল রূঢ় ও হতাশাজনক, যা রাজার মনে ভয় ও কষ্ট দিয়েছে।

আর আমি একই সত্যকে সুন্দর ও আশাব্যঞ্জক শব্দ দিয়ে সাজিয়ে বলেছি, যা রাজার হৃদয়কে শান্ত করেছে।”

কথা সবাই বলে, কিন্তু কথা বলার সুন্দর কৌশল সবাই জানে না।

সত্য কথা বলা অবশ্যই মহৎ গুণ, কিন্তু সেই সত্যটাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে তা মানুষের হৃদয় জয় করবে নাকি মনে আঘাত দেবে।

তীর যেমন একবার ধনুক থেকে ছুটলে ফেরে না, মুখ থেকে বের হওয়া কথাও ঠিক তেমনই। তাই মানুষের সাথে কথা বলার সময় এমন শব্দ বেছে নিন, যা অন্যের মনে আনন্দ সৃষ্টি করে, ভীতি নয়। সুন্দর বাচনভঙ্গি মানুষের সবচেয়ে বড় অলংকার।

০ মন্তব্য · ৫৩ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!