প্রথম পাতাগল্প ও উপন্যাসসোনালী বাক্স

গল্প ও উপন্যাস

সোনালী বাক্স

সোনালী বাক্স

এক অভাবী বাবা একদিন তার ৫ বছরের ছোট্ট মেয়েকে প্রচণ্ড বকাঝকা করলেন। কারণ মেয়েটি তাদের ঘরে থাকা একমাত্র দামি সোনালী রঙের র‍্যাপিং পেপারটি কেটেকুটে নষ্ট করে ফেলেছিল। 


বিজ্ঞাপন

এমনিতে সংসারে টানাপোড়েন, তার ওপর এমন দামি কাগজ নষ্ট করায় বাবার রাগ যেন ফেটে পড়ছিল। মেয়েটি ভয়ে এক কোণায় জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।


পরদিন সকালে ছিল বাবার জন্মদিন।


সকালে ঘুম থেকে উঠতেই ছোট্ট মেয়েটি দৌড়ে এসে সেই সোনালী কাগজে মোড়ানো একটি বাক্স বাবার হাতে দিল। মিষ্টি হেসে বলল, "শুভ জন্মদিন বাবা! এই উপহারটা শুধু তোমার জন্য।"


বাবার রাগ মুহূর্তেই গলে পানি হয়ে গেল। নিজের গতকালের কঠোর ব্যবহারের জন্য তার খুব অনুশোচনা হলো। কিন্তু যখন তিনি আগ্রহ নিয়ে বাক্সটি খুললেন, তার চোখ কপালে উঠল। বাক্সটি একদম খালি!


বাবার রাগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তিনি বললেন, "তুমি জানো না, কাউকে উপহার দিলে বাক্সের ভেতরে কিছু একটা দিতে হয়? একটা খালি বাক্স সুন্দর করে মুড়িয়ে দেওয়ার মানে কী?"


ছোট্ট মেয়েটি ছলছল চোখে বাবার দিকে তাকাল। তার দু'গাল বেয়ে পানি পড়ছিল। সে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, "বাবা, বাক্সটি তো খালি নয়! আমি কাল রাতে বাক্সের ভেতর তোমার জন্য ১০০টা চুমু দিয়ে তারপর কাগজটা আটকে দিয়েছি। এর ভেতরে থাকা সবটুকু ভালোবাসা শুধু তোমার জন্য।"


কথাগুলো শুনে বাবা যেন পাথর হয়ে গেলেন। তিনি হাঁটু গেড়ে বসে মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন এবং তার কাছে ক্ষমা চাইলেন।


সেই বাবা তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই সোনালী বাক্সটি নিজের বিছানার পাশে রেখেছিলেন। যখনই তার মন খারাপ হতো, তিনি বাক্সটি থেকে একটি 'কাল্পনিক চুমু' বের করে নিতেন আর মেয়ের সেই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা স্মরণ করতেন।


আমরা অনেক সময় বাইরের চাকচিক্য বা বস্তুগত জিনিসের মোহে পড়ে ভেতরে লুকিয়ে থাকা খাঁটি ভালোবাসাটা দেখতে পাই না।


না বুঝে, ক্ষণিকের রাগের মাথায় আমরা প্রায়ই এমন মানুষদের কষ্ট দিই, যারা আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।


আমাদের চারপাশের প্রতিটি মানুষই আসলে এক একটি 'সোনালী বাক্স', যা তাদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ। আমরা কি সেই বাক্সগুলোর কদর করতে পারছি?

০ মন্তব্য · ৫৬ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!