✨ যাঁর কাছে পবিত্র ফেরেশতাদেরও বোধশক্তি পৌঁছাতে পারে না,সেখানেও সর্দারে আম্বিয়া ﷺ-এর পদচিহ্ন পৌঁছে গেছে। ❤️
🔹 শবে মেরাজে, যখন রাসূলে আকরাম হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা ﷺ সিদরাতুল মুনতাহা-য় পৌঁছালেন, তখন বর্ণিত আছে যে, হযরত জিবরাইল (আ.) আরজ করলেন:
“ইয়া রাসূলাল্লাহ ﷺ! আমি যদি এই স্থান থেকে আরও সামনে অগ্রসর হই, তাহলে আমার ডানা পুড়ে যাবে।”
অতঃপর রাসূলে আকরাম ﷺ একাকী সামনে অগ্রসর হলেন। যখন তিনি আরশে ইলাহির নিকটবর্তী হলেন এবং নিজের মুবারক নালাইন (জুতা) খুলে রাখার ইচ্ছা করলেন, তখন বর্ণিত আছে যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আহ্বান করা হলো:
تَقَدَّمْ عَلَى بَسَاطِ الْعَرْشِ بِنَعْلَيْكَ، لِيَتَشَرَّفَ الْعَرْشُ بِغُبَارِ نِعَالِ قَدَمَيْكَ
অনুবাদ:
“আপনার মুবারক নালাইনসহ আরশের বিছানার ওপর সামনে অগ্রসর হোন, যাতে আপনার পদযুগলের নালাইনের ধূলিকণা দ্বারা আরশ সম্মানিত হতে পারে।”
🔹 এটি রাসূলে আকরাম ﷺ-এর মহত্ত্ব ও মর্যাদার এমন এক উচ্চতম মর্যাদা, যেখানে স্বয়ং আরশে ইলাহিও তাঁর মুবারক নালাইনের ধূলিকণার মাধ্যমে সম্মানিত হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে।
আর যখন রাসূলে আকরাম ﷺ-এর মহত্ত্ব ও মর্যাদা এমন উচ্চ পর্যায়ের, তখন তাঁর ঈমানি ভ্রাতা, ওসী ও উত্তরাধিকারী—আমিরুল মুমিনিন ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর মহত্ত্বের কী অবস্থা হতে পারে?
যাঁর সম্পর্কে রাসূলে আকরাম ﷺ থেকে বর্ণিত হয়েছে:
دَمُكَ دَمِي، وَلَحْمُكَ لَحْمِي، وَجِسْمُكَ جِسْمِي، وَرُوحُكَ رُوحِي، يَا عَلِيُّ، أَنْتَ أَخِي
অনুবাদ:
“হে আলী (আ.)! তোমার রক্ত আমার রক্ত, তোমার গোশত আমার গোশত, তোমার দেহ আমার দেহ, তোমার আত্মা আমার আত্মা। হে আলী! তুমি আমার ভাই।”
🔹 যখন নূরানি ফেরেশতাদের নেতা হযরত জিবরাইল (আ.)-ও রাসূলে আকরাম ﷺ-এর মুবারক নালাইনের ধূলিকণার সমকক্ষ হতে পারেন না, তখন আমিরুল মুমিনিন ইমাম আলী (আ.)-এর মতো কে হতে পারে? এবং কে-ই বা তাঁর সমকক্ষতা অর্জন করতে পারে? ❤️
📚 তথ্যসূত্র:
মানাকিব আলে আবি তালিব — ইবনে শাহর আশুব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৫
বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৩৮২
রূহুল বয়ান — ইসমাইল হাক্কি বুরসাভি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৮৫
তাফসির ইবনে আরাবি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৫
তাওহিদুল আরিফিন, পৃষ্ঠা ১০২
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!