প্রথম পাতাচিন্তা ও চেতনাপীর বদলানো কি জায়েজ?

চিন্তা ও চেতনা

পীর বদলানো কি জায়েজ?

পীর বদলানো কি জায়েজ?

পীর বদলানো কি জায়েজ? সূরা ইনশিকাক - ১৯ নং আয়াতের গুপ্ত রহস্য*

অনেকেই বলে পীর বদলানো যায় না, পীর ধরা ফরজ, একবার ধরলে ছাড়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

আবার অনেকেই বলে পীর বদলানো জায়েজ। আসল সত্য কোনটা?

আল্লাহ পাক বলেন-

*"লাতারকাবুন্না ত্ববাকান আন ত্ববাক"*

*"অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে।"*

(সূরা ইনশিকাক ৮৪:১৯)

এই এক আয়াতের ভিতরেই পুরা তরিকতের রহস্য লুকানো!

শোনো দরদী,

*শরিয়তের ফতোয়া কি বলে?*

পীর ধরা ফরজ না, ওয়াজিব না। এটা সুন্নত। একজন সৎ পথ প্রদর্শক ধরা।

যদি দেখো তোমার ডাক্তার তোমার রোগ সারাতে পারতেছে না, তুমি কি ডাক্তার বদলাবা না?

তেমনি, যদি দেখো তোমার পীর তোমাকে নফস থেকে মুক্তি দিতে পারছে না, তোমাকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারছে না, শুধু নজরানা নিচ্ছে, শরিয়ত বিরোধী কাজ করাচ্ছে - তাহলে তাকে বদলানো শুধু জায়েজ না, ওয়াজিব।

*মারফত কি বলে?*

মারফত বলে, তুমি এক তবকায় আটকে থেকো না।

তবকা মানে স্তর। ছাত্র যখন ক্লাস ওয়ানে পাশ করে, তখন তাকে ক্লাস টু-তে যেতে হয়। তখন তার শিক্ষক বদলায়।

তরিকতের পথেও এমন -

প্রথমে তুমি নফসের তবকায়, তোমার পীর তোমাকে নফস চিনাবে।

তারপর ক্বলবের তবকায় যাবে, সেখানে অন্য মুর্শিদ লাগতে পারে।

তারপর রুহের তবকায়।

তাই আল্লাহ বলেন - তোমরা স্তরে স্তরে উন্নীত হবে।

*কিন্তু সাবধান!*

পীর বদলানো মানে বাজারে আলু বদলানো না।

হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (রহঃ) বলেছেন -

*"যে ব্যক্তি ১০ জন পীর বদলায়, সে আসলে পীর খোঁজে না, সে নিজের নফসের গোলামী করে।"*

পীর বদলাবে কখন?

১. যখন পীর শরিয়তের খেলাপ কাজ করে।

২. যখন পীর তোমাকে সময় দেয় না, সবক শেখায় না।

৩. যখন পীর নিজেই দুনিয়াদার হয়ে গেছে।

পীর বদলাবে না কখন?

১. পীর গরীব বলে,

২. পীরের দরবারে লোক কম বলে,

৩. অন্য পীরের নামে বড় গরু জবাই হয় বলে।

মনে রেখো, পীর বদলাতে পারো, কিন্তু বেয়াদবি করতে পারবা না।

যার কাছে একদিন একটা হরফ শিখেছো, তার প্রতিও সম্মান রাখা ফরজ।

তাই সত্য কথা সুন্দর, যাহা সকলেই মানিবে তাহা -

*তবকা বদলাও, কিন্তু বেয়াদব হইও না।*

০ মন্তব্য · ৪৪ ভিউ
মন্তব্য

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে হলে লগইন করুন

লগইন করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!