ভয় জন্মগত নয়, ভয় হয় সামাজিক।
একটা শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, সে কোনো ভয় নিয়ে আসে না। সে আ'গুন দেখে হাত বাড়িয়ে দেয়, উঁচু জায়গা থেকে ঝাঁপ দিতে চায়, অচেনা মানুষের সামনে নির্ভয়ে হাসে। তার চোখে পৃথিবীটা একটা বিশাল খেলার মাঠ। কিন্তু ধীরে ধীরে আমরা তাকে শেখাই; এটা করিস না, পড়ে যাবি, অচেনা লোকের সাথে কথা বলিস না, ফেল করলে কী হবে?, সমাজ কী বলবে?
এভাবেই তার মধ্যে ভয়ের বীজ বপন করা হয়।
ভয় আমাদের জিনে নেই, ভয় আছে সমাজের গল্পে। আমরা যেসব গল্প শুনি, যেসব সতর্কবাণী শুনি, যেসব ব্যর্থতার উদাহরণ দেখি, সেগুলোই আমাদের ভয়কে তৈরি করে। কেউ ভয় পায় ব্যর্থতার, কেউ সমালোচনার, কেউ প্রত্যাখ্যানের, কেউ আবার অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার। এই ভয়গুলো আমাদের জন্মের সাথে আসেনি, এগুলো আমাদের চারপাশ থেকে সংগ্রহ করা।
বাস্তবে দেখুন: যে শিশুটি একদিন সাইকেল চড়তে ভয় পেত না, সে বড় হয়ে জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে ভয় পায়। যে মেয়েটি ছোটবেলায় মঞ্চে নাচতে চাইত, সে বড় হয়ে লোকে কী বলবে ভেবে স্বপ্নকে চেপে রাখে।
কিন্তু সুসংবাদ হলো: যে ভয় শেখা যায়, সে ভয় ভাঙাও যায়।
আপনি যদি আজ নিজেকে প্রশ্ন করেন.? এই ভয়টা আসলে আমার নিজের, নাকি সমাজ আমাকে শিখিয়েছে? তাহলেই আপনি মুক্তির প্রথম ধাপে পা রাখবেন। তাই ছোট ছোট সাহসের অনুশীলন করুন। যেকোনো একটা ভয়কে চ্যালেঞ্জ করুন। একবার যখন আপনি দেখবেন যে যা ভয় পাচ্ছিলেন, তা আসলে এতটা ভয়ংকর নয়, তখন আপনার ভেতরের শিশুটা আবার জেগে উঠবে।
কিছু ভয়কে ভয় করুন, কিন্তু তাকে আপনার জীবনের চালক হতে দেবেন না। শুধু এতটুকু মনে রাখবেন, আপনার ভয়ের অনেকটাই আপনার নিজের নয়, এটা সমাজের ধার করা।
সেই ধার ফেরত দিয়ে, নিজের স্বপ্নকে আবার উড়তে দিন। আপনার জন্য শুভকামনা। ❤️
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!