সত্তরের দশকে ঢাকার হাইকোর্ট মাজার এলাকায় অবস্থান করা নূরা পাগল ছিলেন তৎকালীন ঢাকার এক কিংবদন্তি ও রহস্যময় আধ্যাত্মিক চরিত্র। রাজবাড়ীর বিতর্কিত 'নুরাল পাগলা'র সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তিনি মূলত তার বিচিত্র জীবনধারা, গান এবং লোকমুখের নানা গল্পের জন্য পরিচিত ছিলেন।
জীবনধারা ও আস্তানা
- মূল কেন্দ্র: ঢাকার হাইকোর্ট মাজারের দক্ষিণ পার্শ্বের গেট ও মাজার প্রাঙ্গণ ছিল তার প্রধান আস্তানা। ১৯৭৪-৭৫ সালের দিকে তিনি সেখানে প্রচণ্ড জনপ্রিয় ও আলোচিত ছিলেন।
- শারীরিক অবয়ব: তিনি ছিলেন বেশ শীর্ণদেহী এবং জটাধারী বাউল-ফকিরদের মতো অবয়বের।
- আচরণ ও বৈচিত্র্য: তিনি ভক্ত-দর্শনার্থীদের নিয়ে দিনরাত ঢোল-বাদ্য, নাচ-গান এবং হই-হুল্লায় মেতে থাকতেন। সে সময়ে তিনি পথচারীদের পাঁচ টাকার বিনিময়ে নিজের কাঁথার লাল সুতোর অংশ বিশেষ আশিস বা তাবিজ হিসেবে দিতেন
পপ সম্রাট আজম খানের সাথে সম্পর্ক
- আধ্যাত্মিক যোগাযোগ: বাংলাদেশের পপ সম্রাট আজম খানের সাথে নূরা পাগলার গভীর আত্মিক ও আধ্যাত্মিক যোগাযোগ ছিল।
- বিখ্যাত গান: আজম খানের তুমুল জনপ্রিয় গান "হাইকোর্টের মাজারে কত ফকির ঘুরে রে..." মূলত এই নূরা পাগলাকে কেন্দ্র করেই অনুপ্রাণিত বা রচিত হয়েছিল।
জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি
- অলৌকিক বিশ্বাস: সমকালীন সাধারণ মানুষ ও তার শিষ্যরা বিশ্বাস করত যে নূরা পাগলার সাথে জিন বা অদৃশ্য শক্তির যোগাযোগ ছিল।
- ভয় ও ভক্তি: তিনি মাজার প্রাঙ্গণে একাধারে ভক্তি এবং এক ধরনের রহস্যময় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো পুরান ঢাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন এক চেনা মুখ।
অবসান
মৃত্যু: আনুমানিক ২০০৮ সালের দিকে ঢাকার এই নূরা পাগলা লোকান্তরিত হন। রাজবাড়ীর ব্যক্তির মতো তিনি কখনো নিজেকে 'খোদা' বা 'নবী' দাবি করেননি, ফলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন মরমী পাগল বা সাধক হিসেবেই সমাদৃত ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!