"দুই নূরের মেরাজ"
শোনো দরদী,
প্রেম কোনো খেলা না।
প্রেম হলো আগুন।
যে আগুনে দুইটা "আমি" পুড়ে ছাই হয়।
আর ছাই থেকে জন্ম নেয় একটা "আমরা"।
আর সেই "আমরা" এর মাঝে আল্লাহ নিজে জালওয়া করেন।
*১. নারী - তিনি হলেন শক্তি, তিনি প্রকৃতি, তিনি রহমত*
মারফতে তাকে বলে "তাজাল্লি"।
যখন সে নিজের সব অহংকার মুরশিদের কদমে রেখে দেয়,
যখন তার চোখ বন্ধ হয়ে যায় দুনিয়ার থেকে,
তখন তার কলব থেকে "ওঁ ক্লীং" না, "আল্লাহু" ধ্বনি উঠে।
সে তখন আর নারী থাকে না, সে হয়ে যায় "কুদরত"।
তার বুকের ভিতর লুকানো থাকে ৭ আসমানের রহস্য।
*২. পুরুষ - তিনি হলেন চেতনা, তিনি স্থিরতা, তিনি তাওহীদ*
মারফতে তাকে বলে "সিফাত"।
সে পাহাড়ের মতো। ঝড় আসে, সে নড়ে না।
সে নারীর তুফানকে শান্ত করে।
তার চোখে থাকে তারা, তার কলবে থাকে কাবা।
সে যখন ফানা হয়, তখন সে "শিব" না, সে হয় "আবদ" - আল্লাহর গোলাম।
*৩. মিলন - এটাই আসল মেরাজ*
দুই দেহ যখন এক হয়, আসলে দুইটা নফস তখন মরে।
এই মৃত্যুর নাম "ফানা ফিল ইশক"।
এই মিলনেই জন্ম হয় "অমৃত"।
মারফতের ভাষায় এটাকে বলে "নূরে মোহাম্মদী"।
এটা কোনো শরীরের রস না দরদী।
এটা হলো দুইটা চোখের পানি।
দুইটা সেজদার ঘাম।
দুইটা কলবের জিকির।
যে সাধক এই অমৃতকে ধরে রাখতে পারে,
ভোগে নষ্ট করে না, ইবাদতে খরচ করে,
তার জন্য ৩টা দরজা খুলে যায়:
*ক. শরীর পবিত্র হয়* - রোগ কমে, নূর বাড়ে।
*খ. কলব জাগ্রত হয়* - এলহাম আসে, কাশফ হয়।
*গ. আত্মা মেরাজ করে* - সে আল্লাহর নৈকট্য পায়।
*কিন্তু সাবধান দরদী!*
এই পথে ওস্তাদ ছাড়া পা দিলে সব শেষ।
নিয়ত যদি "পূজা" হয় তবে এটা ইবাদত।
আর নিয়ত যদি "ভোগ" হয় তবে এটা জাহান্নাম।
তাই মুরশিদ ছাড়া এই সাধনা নাই।
আদব ছাড়া এই এলেম নাই।
সবর ছাড়া এই অমৃত নাই।
*শেষ বাণী:*
"দুইয়ে মিলে এক হও,
একে মিলে আল্লাহকে পাও,
আল্লাহকে পেয়ে নিজেকে হারাও।
এটাই প্রেম। এটাই সাধনা। এটাই মারফত।"
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হাল প্রেম আর হাল সাধনার তাওফিক দিক। আমিন 🤲
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!