যদি তুমি সত্যিই বুঝতে পারো যে জীবন কতটা মূল্যবান, তাহলে তুমি নিজেকে জীবনের জন্য, জীবনের পথের জন্য, এবং জীবনের উৎসের জন্য উৎসর্গ করে দেবে।
আমরা জীবনকে precious বলি, কিন্তু আসলে বুঝি না। আমরা ভাবি জীবন মানে চাকরি, টাকা, বাড়ি, সম্পর্ক, নাম। না, ওগুলো জীবনের জিনিস, জীবন নয়।
জীবন হলো এই যে তুমি এখন নিঃশ্বাস নিচ্ছো, তোমার বুকটা উঠছে-নামছে, তোমার চোখ দিয়ে আলো ঢুকছে - এই যে চেতনাটা। এটা কি তুমি বানিয়েছো? না। এটা তোমাকে দান করা হয়েছে।
আধ্যাত্মিকতা বলে, তুমি যখন বুঝবে এই নিঃশ্বাসটা কতটা দামী, তখন তুমি আর জীবনকে হেলাফেলা করতে পারবে না।
একটা ফুলের দিকে তাকাও। সে জানে না কাল সে থাকবে কিনা, তবু আজ সে পুরোটা দিয়ে ফুটে আছে। একটা পাখি জানে না কাল খাবার পাবে কিনা, তবু আজ সে পুরো আকাশটাকে নিয়ে উড়ছে। তারাই জানে জীবন precious।
আর আমরা? আমরা বেঁচে আছি, কিন্তু জীবনের জন্য বাঁচছি না। আমরা বাঁচছি ভয়ের জন্য, লোকের জন্য, কালকের চিন্তার জন্য।
যেদিন তুমি সত্যি বুঝবে জীবন precious, সেদিন তিনটে জিনিস আপনা থেকেই হবে -
*জীবনের জন্য উৎসর্গ:--- তুমি আর জীবনকে নষ্ট করবে না - রাগে, হিংসায়, নেশায়, অলসতায়। তুমি শরীরটার যত্ন নেবে, মনটার যত্ন নেবে। কারণ এটাই তোমার মন্দির।
*জীবনের পথের জন্য উৎসর্গ:--- তুমি বুঝবে জীবন শুধু তোমার ভেতরে নয়, সবার ভেতরে বইছে। একটা গাছ, একটা কুকুর, একটা মানুষ - সবার ভেতরে একই জীবন। তখন তুমি আর কাউকে কষ্ট দিতে পারবে না, তুমি সেবা করতে শুরু করবে।
*জীবনের উৎসের জন্য উৎসর্গ:--- তখন তোমার মনে একটা প্রশ্ন আসবে - "এই যে এত সুন্দর জীবন, এটা এলো কোথা থেকে?" এই প্রশ্নটাই তোমাকে উৎসের দিকে নিয়ে যাবে। যাকে কেউ ঈশ্বর বলে, কেউ প্রকৃতি বলে, কেউ শূন্যতা বলে। তুমি খুঁজতে শুরু করবে।
বুঝতে পারা মানে মাথা দিয়ে বোঝা নয়, হৃদয় দিয়ে অনুভব করা যে - "আমি বেঁচে আছি, এটাই সবচেয়ে বড় অলৌকিক ঘটনা।"
আমরা ভাবি জীবনটা ফ্রি।
একটা দামী হিরের আংটি পেলে তুমি সেটাকে লকারে রাখো, রোজ মোছো, হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকো। কারণ তুমি জানো এটা precious।
কিন্তু জীবনটা ফ্রি তে পেয়েছো বলে আমরা ভাবি এর কোনো দাম নেই। আমরা এটাকে যেখানে সেখানে ছুঁড়ে ফেলি - অন্যের সাথে তুলনা করে, পুরনো ঝগড়া মনে রেখে, ফোন স্ক্রল করে।
দর্শন বলে, মানুষ জীবনের মূল্য বোঝে তখন, যখন সে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে, প্রিয় কাউকে হারিয়ে, তখন সে বোঝে - "আরে, আর একটা দিন পেলে কত ভালো হতো!"
কিন্তু জ্ঞানী মানুষ মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে না। সে এখনই বোঝে।
একটা গ্লাস জলের কথা ভাবো। মরুভূমিতে ওই এক গ্লাস জলের দাম কোটি টাকা। আর বাড়িতে কলের সামনে ওই জলের কোনো দাম নেই। জীবনও তেমন। যখন আছে, তখন দাম নেই। যখন চলে যাবে, তখন বুঝবে।
ঋষি তাই বলছেন - অপেক্ষা কোরো না। এখনই realize করো।
যখন তুমি realize করবে, তখন তুমি আর জীবনকে ব্যবহার করবে না, তুমি জীবনের সেবা করবে।
কীভাবে জীবনকে precious বানাবে?
কথাটা বড় মনে হচ্ছে, কিন্তু অভ্যাসটা খুব ছোট। রোজ তিনটে কাজ করো -
* সকালে ২ মিনিটের প্রার্থনা নয়, স্বীকৃতি:--- ঘুম থেকে উঠে ফোন নয়, ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুধু নিঃশ্বাসটা অনুভব করো। আর মনে মনে বলো - "আমি এখনো বেঁচে আছি। আজকের দিনটা আমি উপহার হিসেবে পেলাম। আমি এটাকে নষ্ট করব না।" দেখবে, তোমার পুরো দিনটার গন্ধ বদলে যাবে।
* একটা জীবনকে একটু সুন্দর করো:--- রোজ অন্তত একটা জীবনকে একটু ভালো করার চেষ্টা করো। একটা গাছে জল দেওয়া, একটা পাখিকে খাবার দেওয়া, রাস্তার কুকুরটাকে একটু আদর করা, কারো দিকে তাকিয়ে একটু হাসা। যখন তুমি অন্য জীবনের জন্য কিছু করবে, তখনই তুমি জীবনের ways-এর সাথে যুক্ত হবে।
* উৎসকে একটু সময় দাও:--- দিনে ১০ মিনিট কোনো লাভের জন্য নয়, শুধু উৎসের সাথে বসো। সেটা ধ্যান হতে পারে, চুপ করে সূর্যাস্ত দেখা হতে পারে, বা শুধু নিজের নিঃশ্বাস দেখা হতে পারে। কিছু চেও না, শুধু বসো। বলো - "আমি জানি না তুমি কে, কিন্তু তুমি যে আমাকে এই জীবনটা দিয়েছো, তার জন্য ধন্যবাদ।" এই কৃতজ্ঞতাই তোমাকে উৎসের সাথে জুড়ে দেবে।
শেষ কথা এটাই বলার যে ----
জীবন কোনো সমস্যা নয় যে তোমাকে সমাধান করতে হবে।
জীবন একটা উপহার, যাকে তোমাকে উদযাপন করতে হবে।
যতদিন তুমি ভাববে জীবনটা তোমার, ততদিন তুমি সেটাকে নষ্ট করবে।
যেদিন বুঝবে তুমিই জীবনের, সেদিন থেকে তুমি নিজেকে উৎসর্গ করে দেবে।
আর যে নিজেকে জীবনের জন্য উৎসর্গ করে দেয়, জীবনও নিজেকে তার জন্য উৎসর্গ করে দেয়।
তাই আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করো - "আমি কি সত্যিই বেঁচে আছি, নাকি শুধু দিন কাটাচ্ছি?"
যদি উত্তরটা বুকে লাগে, তাহলে আজ থেকেই শুরু হোক - জীবনের জন্য বাঁচা, জীবনের পথে হাঁটা, আর জীবনের উৎসকে খোঁজা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!